22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিরুমিন ফারহানা সতর্ক করেছেন নির্বাচনী নিরপেক্ষতা লঙ্ঘন হলে ‘আগস্ট ৫’ পরিস্থিতি

রুমিন ফারহানা সতর্ক করেছেন নির্বাচনী নিরপেক্ষতা লঙ্ঘন হলে ‘আগস্ট ৫’ পরিস্থিতি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বাধীন প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ১৭ জানুয়ারি চ্যানপুর বাজারে অনুষ্ঠিত একটি সভায় দেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের সময় প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন বা সরকারের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হলে ভোটারদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, তার নির্বাচনী এলাকায় প্রায় অর্ধ মিলিয়ন ভোটার নিরাপদে ভোটদান করতে পারবে কিনা তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব।

সভার সময় রুমিন ফারহানা জোর দিয়ে বলেন, “যদি নিরপেক্ষতায় কোনো ফাঁক থাকে, তবে সবাইকে আগস্ট ৫-এর স্মরণে রাখতে হবে।” তিনি অতীতের আগস্ট ৫ ঘটনার কথা উল্লেখ করে ইঙ্গিত দেন, যে একই রকম অশান্তি যে কোনো নির্বাচনী এলাকায় পুনরায় দেখা দিতে পারে।

এই মন্তব্যের ঠিক এক দিন আগে, মোবাইল আদালত নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ইসলামাবাদে রুমিনের একটি সমাবেশ বন্ধ করে দেয় এবং তার একজন সমর্থককে ৪০,০০০ টাকার জরিমানা আরোপ করে। সমাবেশটি নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে বন্ধ করা হয়।

সমাবেশের সময় রুমিন ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের মধ্যে তীব্র তর্কের দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে এবং পরে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে রুমিনের মুখে দৃঢ়তা এবং ম্যাজিস্ট্রেটের কঠোরতা স্পষ্টভাবে দেখা যায়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ নির্বাচনী এলাকার আপিলকারী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মো. আবুবারকার সরকার এই ঘটনার পর রুমিনের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের আবেদন দাখিল করেন। তারা নির্বাচনী তদন্ত ও বিচারিক কমিটিতে একটি আবেদন জমা দিয়েছেন।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রুমিন ১৭ জানুয়ারি তার সমাবেশের জন্য পূর্ব অনুমতি না নিয়ে কাজ করেছেন, যা ২০২৫ সালের নির্বাচনী আচরণবিধির ধারা ১৮-এ নিষিদ্ধ। এছাড়া তিনি এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের প্রতি আক্রমণাত্মক আচরণ দেখিয়েছেন, ইংরেজিতে হুমকি স্বরূপ ইশারা ও মৌখিক সতর্কতা দিয়েছেন।

আবেদনের আরেকটি দিক হল, রুমিনের সমর্থকরা ভিড়কে উত্তেজিত করে “দলীয়” পরিবেশ তৈরি করে, যা পরিস্থিতিকে “দলীয় মতের ভিড়” রূপে রূপান্তরিত করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এই অভিযোগগুলো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, রুমিনের সতর্কবার্তা এবং তার সমাবেশের ওপর নেওয়া কঠোর পদক্ষেপ উভয়ই দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা বাড়াতে পারে। যদি প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন দ্রুত স্পষ্ট নির্দেশনা না দেয়, তবে ভোটারদের নিরাপত্তা ও ভোটের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে পারে।

নির্বাচনের আগে সকল প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলকে সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে ভোটাররা কোনো ভয় বা হুমকির মুখে না পড়ে। রুমিনের বক্তব্যের পর নির্বাচনী কমিশনকে নিরপেক্ষতা রক্ষার জন্য ত্বরিত ব্যবস্থা নিতে হবে, নতুবা “আগস্ট ৫” স্মরণীয় ঘটনা পুনরাবৃত্তি হতে পারে।

পরবর্তী ধাপে, আবেদনকৃত অভিযোগের বিচার হবে এবং রুমিনের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তি আরোপ হবে কিনা তা নির্ধারিত হবে। একই সঙ্গে, নির্বাচন কমিশনকে সকল প্রার্থীকে সমানভাবে আচরণ করার নির্দেশনা দিতে হবে, যাতে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments