18 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিস্টার্মার ও ট্রাম্পের ফোন কথোপকথনে গ্রিনল্যান্ড ট্যারিফের বিরোধিতা

স্টার্মার ও ট্রাম্পের ফোন কথোপকথনে গ্রিনল্যান্ড ট্যারিফের বিরোধিতা

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কীর্স স্টার্মার এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে প্রথমবারের মতো ফোনালাপ হয়। আলাপের মূল বিষয় ছিল ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের পরিকল্পনা সংক্রান্ত ১০% শুল্কের হুমকি, যা আটটি ইউরোপীয় দেশের পণ্যকে প্রভাবিত করবে, যুক্তরাজ্যসহ। স্টার্মার টেলিফোনে উল্লেখ করেন যে, উচ্চ উত্তর অঞ্চলের নিরাপত্তা ন্যাটো জোটের সকল সদস্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, এবং জোটের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য শুল্ক আরোপ করা ন্যায়সঙ্গত নয়।

ট্রাম্পের শুল্ক হুমকি প্রথমবারের মতো প্রকাশিত হয় যখন হোয়াইট হাউস গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসিত ড্যানিশ ভূখণ্ডের উপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের দাবি বাড়িয়ে দেয়, যা ইউরোপীয় মিত্র দেশ ও দ্বীপের বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করে। ট্রাম্পের মতে, ড্যানিশ সরকার গ্রিনল্যান্ডকে রাশিয়া ও চীনের হুমকি থেকে রক্ষা করার সক্ষমতা রাখে না, এবং তিনি এই ভূখণ্ডটি যুক্তরাষ্ট্রের অধিগ্রহণের সম্ভাবনা বাদ দিচ্ছেন না।

স্টার্মার ফোনে ট্রাম্পকে জানিয়ে দেন যে গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের জনগণের হাতে থাকা উচিত, এবং কোনো বহিরাগত শক্তির হস্তক্ষেপে তা নির্ধারিত হওয়া উচিত নয়। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন যে, ন্যাটো জোটের সমষ্টিগত নিরাপত্তা রক্ষার জন্য শুল্ক আরোপ করা ন্যায়সঙ্গত নয় এবং এটি জোটের ঐক্যকে ক্ষুণ্ণ করবে।

কলে স্টার্মার পূর্বে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেড্রিকসেন, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লেয়েন এবং ন্যাটো সেক্রেটারি জেনারেল মার্ক রুটের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। ডেনমার্ক সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে গ্রিনল্যান্ড বিক্রয়ের জন্য নয় এবং তার ভূখণ্ডে কোনো আক্রমণ ন্যাটো সামরিক জোটের সমাপ্তি ঘটাবে। গ্রিনল্যান্ডের সরকারও ডেনমার্কের সঙ্গে যুক্ত থাকা পছন্দ করে, যুক্তরাষ্ট্রের অধিগ্রহণের পরিবর্তে।

ট্রাম্পের শুল্ক পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত আটটি দেশ—ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, সুইডেন এবং যুক্তরাজ্য—একত্রে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে। এতে বলা হয়েছে, শুল্ক হুমকি ট্রান্স-অ্যাটলান্টিক সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং একটি বিপজ্জনক নিম্নগামী প্রবণতা তৈরি করতে পারে। এই দেশগুলো ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের জনগণের প্রতি সম্পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করে এবং আর্কটিক নিরাপত্তার প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা নিয়ে ধারনা এবং শুল্কের হুমকি আন্তর্জাতিক মঞ্চে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে। যুক্তরাজ্যের সরকার ও ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলো এখন ন্যাটো জোটের সমন্বিত প্রতিক্রিয়া গড়ে তুলতে কাজ করছে, যাতে উচ্চ উত্তর অঞ্চলের নিরাপত্তা ও আর্কটিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে। ভবিষ্যতে এই বিষয়টি কীভাবে সমাধান হবে, তা ন্যাটো জোটের অভ্যন্তরীণ আলোচনা এবং ডেনমার্কের কূটনৈতিক পদক্ষেপের ওপর নির্ভরশীল হবে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments