গোলশান এলাকায় রাত ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে বিএনপি চেয়ারম্যান তরিক রাহমানের বুলেটপ্রুফ গাড়িতে অজানা একজন সাইকেল চালক সাদা খাম লেগে দিয়ে দ্রুত সরে যায়। ঘটনাটি রোড নং ৬৫-এ, গুলশান সোসাইটি পার্কের কাছাকাছি ঘটেছে।
তরিক রাহমানের গাড়ি তখন বিএনপি গুলশান পার্টি অফিস থেকে তার ব্যক্তিগত বাসায় যাওয়ার পথে ছিল। গাড়িটি বুলেটপ্রুফ হওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্ত, তবু খামটি গাড়ির দরজায় সরাসরি লেগে যাওয়ায় নিরাপত্তা কর্মীরা তা লক্ষ্য করে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, খামটি লেগে যাওয়ার সময় সাইকেল চালকের ব্যবহার করা ছিল হিরো হাঙ্ক মডেল। চালকটি গাড়ির কনভয়কে গুলশান সোসাইটি পার্কের প্রান্তে থামিয়ে, দ্রুত খামটি টেপ দিয়ে গাড়িতে আটকে দেয় এবং সঙ্গে সঙ্গে গতি বাড়িয়ে সরে যায়।
খামের ভিতরের বিষয়বস্তু তৎক্ষণাৎ নিশ্চিত করা যায়নি। পুলিশ সূত্রে বলা হয়েছে, খামটি সাদা রঙের এবং কোনো লেবেল বা চিহ্ন দেখা যায়নি, ফলে তার উদ্দেশ্য বা বিষয়বস্তু সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়নি।
গুলশান থানা ঘটনাস্থলে একটি জেনারেল ডায়েরি (সাধারণ ডায়েরি) রেজিস্টার করে। ডায়েরি রেজিস্ট্রেশন পরবর্তী তদন্তের জন্য প্রাথমিক নথি হিসেবে কাজ করবে।
থানার অফিসার-ইন-চার্জ মোহাম্মদ রাকিবুল হাসান জানান, ঘটনায় জড়িত সাইকেল চালককে তৎক্ষণাত সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি এবং তদন্ত চলমান। তিনি উল্লেখ করেন, গাড়ির নিরাপত্তা দল এবং অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ঘটনাটি নিয়ে কাজ করছে।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের আইন অনুসারে, গুলশান মত উচ্চ নিরাপত্তা প্রয়োজনীয় এলাকায় এমন ধরনের হস্তক্ষেপকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুতরাং, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি দ্রুত তদন্ত করে অপরাধীর পরিচয় প্রকাশ এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করবে।
প্রাথমিক তদন্তে সাইকেল চালকের বর্ণনা, গাড়ির ক্যামেরা রেকর্ডিং এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার সিভিলি সিভি ক্যামেরা ফুটেজ সংগ্রহ করা হবে বলে জানা গেছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজনকে চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা সম্ভব হতে পারে।
এই ঘটনার পর গুলশান এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা করা হবে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধে অতিরিক্ত সতর্কতা গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে। জনসাধারণকে সতর্ক করা হচ্ছে যেন কোনো অস্বাভাবিক কার্যকলাপ লক্ষ্য করলে তা সঙ্গে সঙ্গে আইন প্রয়োগকারী সংস্থায় জানায়।



