জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি ত্বরান্বিত হওয়ার মাঝখানে, জামায়াতে ইসলামি নায়েব-এমীর সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের রবিবার রাতের সময় রাষ্ট্রিক অতিথি গৃহ জামুনায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনুসের সঙ্গে বৈঠকের পর একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন। তিনি জানিয়ে দেন যে, জামায়াতে ইসলামি ফয়সুল করিমের বারিশাল-৫ (সদর-সিটি) ও বারিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে কোনো প্রার্থী দায়ের করবে না। এই সিদ্ধান্তের পেছনে পার্টির ঐতিহাসিক জোটের পরিবর্তন ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তি রয়েছে।
তাহেরের মন্তব্যের সময়, তিনি উল্লেখ করেন যে, জামায়াতে ইসলামি এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (আইএব) এর নায়েব-এমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়সুল করিমের দুইটি আসনে পার্টি প্রার্থী না রাখার সিদ্ধান্তটি পার্টির কৌশলগত পুনর্বিবেচনার অংশ। তিনি বলেন, “ইস্লামিক আন্দোলন আমাদের বর্তমান জোট গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, তাই আমরা তাদের অবদানের প্রতি সম্মান জানিয়ে এই পদক্ষেপটি নিচ্ছি।”
ফয়সুল করিম, যিনি আইএবের সিনিয়র নায়েব-এমীর পদে অধিষ্ঠিত, বারিশাল-৫ ও বারিশাল-৬ আসনে “হাতফ্যান” চিহ্নের অধীনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার প্রার্থিকতা পূর্বে পার্টির জোটের অংশ হিসেবে ঘোষিত হয়েছিল, তবে শুক্রবার আইএবের জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তের পর পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে জামায়াতে ইসলামি পার্টি তার নিজস্ব প্রার্থী তালিকা পুনর্বিবেচনা করে ফয়সুল করিমের আসনে কোনো নাম না রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।
ইস্লামিক আন্দোলন বাংলাদেশ শুক্রবার প্রকাশ্যে জানায় যে, তারা জামায়াতে ইসলামি নেতৃত্বাধীন জোট থেকে বেরিয়ে যাবে। এই ঘোষণার পর, জামায়াতে ইসলামি পার্টি দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ফয়সুল করিমের দুইটি আসনে প্রার্থী প্রত্যাহার করার কথা জানায়। পার্টির বারিশাল জেলা সেক্রেটারি মাওলানা মাহমুদুন্নবী তালুকদার, যিনি বারিশাল-৬ আসনে প্রার্থী ছিলেন, তিনি নিজেই তার প্রার্থিকতা প্রত্যাহার করবেন বলে জানিয়েছেন।
তাহেরের মতে, আইএবের জোট গঠনে যে অবদান ছিল তা স্বীকার করে এবং পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখতে, জামায়াতে ইসলামি তাদের প্রার্থী তালিকা থেকে ফয়সুল করিমের আসনগুলো বাদ দেবে। তিনি উল্লেখ করেন, “ইস্লামিক আন্দোলনের অবদানকে স্মরণ করে এবং তাদের প্রতি শিষ্টাচার প্রদর্শন করে আমরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি।” এই পদক্ষেপটি পার্টির জোটের ভবিষ্যৎ গঠন ও নির্বাচনী কৌশলকে প্রভাবিত করতে পারে।
বৈঠকে জামায়াতে ইসলামি দলের উচ্চপদস্থ সদস্যদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। উপস্থিত ছিলেন আমির শফিকুর রহমান, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। এই প্রতিনিধিগণ পার্টির অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও জোটের পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে নতুন গতিবিধি দেখা যাবে। ফয়সুল করিমের দুইটি আসনে জামায়াতে ইসলামি প্রার্থী না থাকায়, অন্যান্য পার্টি ও স্বাধীন প্রার্থীরা এই আসনে ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণ করার সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে, আইএবের জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়া এবং জামায়াতে ইসলামি তার প্রার্থী তালিকা থেকে প্রত্যাহার করা উভয়ই নির্বাচনী সমীকরণকে পুনর্গঠন করবে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই ধরনের পারস্পরিক সম্মানজনক পদক্ষেপ জোটের মধ্যে বিশ্বাস বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে, তবে একই সঙ্গে ভোটারদের কাছে পার্টিগুলোর স্বচ্ছতা ও নীতি-নির্ধারণের ক্ষমতা পরীক্ষা করা হবে। আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনী ক্যাম্পেইন ও জনমত সমীক্ষা এই পরিবর্তনের প্রকৃত প্রভাব প্রকাশ করবে।
সারসংক্ষেপে, জামায়াতে ইসলামি নায়েব-এমীর সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের ঘোষণায় পার্টি ফয়সুল করিমের বারিশাল-৫ ও বারিশাল-৬ আসনে কোনো প্রার্থী দায়ের করবে না, যা আইএবের জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে নেওয়া একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। এই সিদ্ধান্তের ফলে নির্বাচনী মঞ্চে নতুন প্রতিযোগিতা ও জোটের পুনর্গঠন প্রত্যাশিত, এবং আসন্ন নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে।



