ইংরেজি রক গায়ক ইয়াংব্লাড ১৬ জানুয়ারি ২০২৬-এ অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত তার কনসার্টে ইরানের প্রতিবাদকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে একটি আবেগপূর্ণ বার্তা শেয়ার করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে ইরানের নাগরিকরা গত চার দিন ধরে ইন্টারনেট ও বিদ্যুৎ সরবরাহ থেকে বঞ্চিত, যা তাদেরকে অন্ধকারে ফেলে রেখেছে এবং আন্তর্জাতিক কণ্ঠস্বরের প্রয়োজন।
ইয়াংব্লাড, যিনি তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে সক্রিয়ভাবে কথা বলার জন্য পরিচিত, তার পারফরম্যান্সের মাঝখানে এই বিষয়টি তুলে ধরেন। গায়কের মতে, ইরানের প্রতিবাদকারীরা এখনো কঠোর দমনমূলক নীতির মুখোমুখি, যেখানে সরকার তাদের যোগাযোগের পথ বন্ধ করে দেয় এবং বিদ্যুৎ কেটে দেয়, ফলে তারা শারীরিক ও মানসিকভাবে দু:খভোগ করছে।
ইরানে ২০২২ সালে মহসা আমিনি নামের এক তরুণীকে হিজাব না পরার কারণে গৃহহত্যা করা হয়, যা দেশের সর্বত্র বিশাল প্রতিবাদে রূপ নেয়। ইয়াংব্লাড দুই বছর আগে এই ঘটনার কথা উল্লেখ করে ইরানের নারীদের অধিকার ও স্বাধীনতার জন্য তার সমর্থন প্রকাশ করেছিলেন। আজও সেই ঘটনা দেশের তরুণ-তরুণীদের মধ্যে পরিবর্তনের ইচ্ছা জাগিয়ে তুলেছে।
কনসার্টের সময় গায়ক বলেন, “তারা অন্ধকারে আছে, আমাদের কণ্ঠস্বর তাদের জন্য আলো হতে হবে।” তিনি উপস্থিত দর্শকদেরকে ইরানের প্রতিবাদকারীদের জন্য একসাথে দাঁড়িয়ে তাদের কণ্ঠকে বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে দিতে আহ্বান জানান। এই বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে তিনি তার গানের লিরিক্সে “আলো” শব্দটি ব্যবহার করে সমর্থনের প্রতীকী বার্তা দেন।
শ্রোতারা গায়কের এই মন্তব্যে উল্লাসের সঙ্গে সাড়া দেন, এবং মঞ্চে হাততালি ও নীরব চিৎকারের মাধ্যমে ইরানের মানুষের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করে। কনসার্টের পর সামাজিক মাধ্যমে এই মুহূর্তটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে ভক্তরা গায়কের কথাকে শেয়ার করে আন্তর্জাতিক সমর্থনের তরঙ্গ তৈরি করে।
ইয়াংব্লাডের এই প্রকাশনা আন্তর্জাতিক শিল্পীদের মধ্যে ইরানের মানবাধিকার সমস্যার প্রতি বাড়তে থাকা সচেতনতার একটি উদাহরণ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ কয়েকজন সেলিব্রিটি ও সঙ্গীতশিল্পী ইরানের দমনের বিরুদ্ধে তাদের মতামত প্রকাশ করেছেন, যা গ্লোবাল মিডিয়ায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
ইরানের সরকার এখনও ইন্টারনেট বন্ধ করে তথ্য প্রবাহ সীমিত করে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর মাধ্যমে প্রতিবাদকারীদের দমন করে চলেছে। প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারী তরুণরা রাতের অন্ধকারে গৃহস্থালির আলো ছাড়া কাজ করে, এবং তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। গায়কের মন্তব্য এই কঠিন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সমর্থনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
ইয়াংব্লাডের কনসার্টে তার বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে তিনি তার পারফরম্যান্সে কিছু নতুন গানের সুর যোগ করেন, যা মানবাধিকার ও স্বাধীনতার থিমকে কেন্দ্র করে। গায়কের মতে, সঙ্গীতের মাধ্যমে মানুষকে একত্রিত করা এবং দমনের বিরুদ্ধে একসাথে দাঁড়ানো সম্ভব।
এই ধরনের প্রকাশনা ইরানের প্রতিবাদকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও দৃশ্যমান করে তুলছে। গায়কের মন্তব্যের ফলে ইরানের নাগরিকদের জন্য একটি নতুন আশা জাগে, যে বিশ্ব তাদের কণ্ঠকে শোনার জন্য প্রস্তুত। একই সঙ্গে, এই ধরনের সমর্থন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইরানের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আরও সক্রিয়ভাবে আলোচনা করতে উদ্বুদ্ধ করে।
ইয়াংব্লাডের এই উদ্যোগের পর, তার সামাজিক মিডিয়া পেজে ইরানের প্রতিবাদকারীদের জন্য সমর্থনের বার্তা ভরপুর হয়ে ওঠে, এবং ভক্তরা তাদের নিজস্ব নেটওয়ার্কে এই বার্তাগুলো ছড়িয়ে দেয়। গায়কের মতে, “যদি আমরা একসাথে না থাকি, তবে তাদের আলো কখনোই ফিরে আসবে না।”
ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি এখনও অস্থির, যেখানে সরকারী দমন ও নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের খবর প্রতিদিনই শোনা যায়। তবে আন্তর্জাতিক শিল্পী ও সেলিব্রিটিদের সমর্থন এই দমনের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সহায়তা করে। ইয়াংব্লাডের মেলবোর্ন কনসার্টে প্রকাশিত এই বার্তা, ইরানের প্রতিবাদকারীদের জন্য এক নতুন আলোর সঞ্চার হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা যায়।



