ঢাকা ফোরাম ইনিশিয়েটিভের আয়োজনে কেআইবি মিলনায়তে অনুষ্ঠিত নীতি সংলাপে বিএনপি চেয়ারম্যানের কন্যা জাইমা রহমান নারী উন্নয়ন ও টেকসই উন্নয়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন। সংলাপটি রবিবার বিকালে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিভিন্ন ক্ষেত্রের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। জাইমা রহমানের প্রথমবারের মতো নীতি সংলাপে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়ে তিনি তার দৃষ্টিভঙ্গি শেয়ার করেন।
জাইমা রহমান ১৭ বছর লন্ডনে কাটিয়ে, গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর পরিবারসহ দেশে ফিরে আসেন। তিনি জানান, নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও পরিবহন ব্যবস্থা মূলত পুরুষদের সুবিধা মাথায় রেখে গড়ে উঠেছে, আর নারীরা এখনো সেই কাঠামোর সাথে মানিয়ে নিতে বাধ্য। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সমাজের উন্নয়ন কেবল পুরুষদের সাফল্যের জন্য নয়, নারীদের সমান সুযোগের জন্যও হওয়া দরকার।
সংলাপের থিম “নারীর হাতে জাতির নির্মাণ: নীতি, সম্ভাবনা ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ”। এতে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রূপালী চৌধুরী, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন এবং ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তামারা আবেদ উপস্থিত ছিলেন। তরুণ অংশগ্রহণকারীরা মুক্ত আলোচনায় সক্রিয়ভাবে প্রশ্ন উত্থাপন করেন।
প্রশ্নের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে নারীদের সম্মুখীন ঝুঁকি, অনলাইন হয়রানি, রাজনীতি ও অর্থনীতিতে নারীর ক্ষমতায়ন ইত্যাদি বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল। জাইমা রহমান উল্লেখ করেন, নারীর নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা, বিশেষ করে পরিবহন ও পাবলিক স্পেসে, এখনো যথেষ্ট নয়। তিনি বলেন, নারীরা এই কাঠামোর মধ্যে নিজেদের অবস্থান গড়ে তুলতে বাধ্য হচ্ছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই উন্নয়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
তিনি আরও বলেন, নারীর দৈনন্দিন জীবনের বাস্তবতা বুঝে নীতি গঠন করা প্রয়োজন। সমাজে নারীর ভূমিকা সম্পর্কে তার ধারণা পরিবার থেকে এসেছে, যা অধিকাংশের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। তিনি উল্লেখ করেন, নীতি, আইন বা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমনভাবে গড়ে তোলা উচিত যাতে নারীর বাস্তব চ্যালেঞ্জগুলোকে সমাধান করা যায়।
সংলাপের সময় তিনি স্বীকার করেন, তার কাছে সব সমস্যার সমাধানের চাবিকাঠি নেই, তবে সমাজের প্রত্যেকেরই দেশের উন্নয়নে অবদান রাখার ক্ষমতা রয়েছে। তিনি নারীর ক্ষমতায়নকে দেশের ভবিষ্যৎ গঠনের মূলধন হিসেবে তুলে ধরেন এবং বলছেন, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে।
অন্যান্য প্যানেলিস্টরা তার বক্তব্যে সম্মতি জানিয়ে, বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং অনলাইন নিরাপত্তা বিষয়ক উদ্বেগের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। তারা যুক্তি দেন, নীতি প্রণয়নে নারীর দৃষ্টিভঙ্গি অন্তর্ভুক্ত করা হলে বাস্তবিক সমস্যার সমাধান সহজ হবে। তামারা আবেদ উল্লেখ করেন, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন সরাসরি দেশের মোট উৎপাদনে অবদান রাখে।
সংলাপের সমাপনীতে অংশগ্রহণকারীরা ভবিষ্যতে আরও সমন্বিত নীতি গঠনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেন। জাইমা রহমানের বক্তব্যের ভিত্তিতে, নারীর নিরাপত্তা, পরিবহন, কর্মসংস্থান ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে কাঠামোগত পরিবর্তন আনার আহ্বান জানানো হয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই ধরনের সংলাপের মাধ্যমে নারীর বাস্তব সমস্যাগুলো নীতিনির্ধারকদের কাছে পৌঁছাবে।
সংলাপটি সাংবাদিক কাজী জেসিনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়, যদিও তিনি সরাসরি উদ্ধৃতি দেননি। সংলাপের মূল উদ্দেশ্য ছিল নারীর ভূমিকা ও চ্যালেঞ্জগুলোকে নীতি স্তরে তুলে ধরা এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য সমন্বিত পদক্ষেপের প্রস্তাবনা দেওয়া।
এই ইভেন্টের মাধ্যমে নারীর উন্নয়ন ও টেকসই নীতি সংক্রান্ত আলোচনা জাতীয় পর্যায়ে নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করেছে, যা ভবিষ্যতে নীতি প্রণয়নে প্রভাব ফেলতে পারে।



