সরকার হিলসাবোরো আইন সংক্রান্ত একটি সংশোধনী প্রত্যাহার করেছে, যা দুর্যোগের পর সরকারি কর্মকর্তা ও কন্ট্রাক্টরদের সত্য প্রকাশ বাধ্য করার লক্ষ্যে গৃহীত পাবলিক অফিস (অ্যাকাউন্টেবিলিটি) বিলের অংশ ছিল। সংশোধনীটি গোপন তথ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তার অনুমোদন প্রয়োজন বলে প্রস্তাবিত হয়েছিল; তবে ক্যাম্পেইনকারী ও সংসদ সদস্যদের মধ্যে এটি নিরাপত্তা বিভাগকে তথ্য প্রকাশের সিদ্ধান্তে একচেটিয়া ক্ষমতা প্রদান করবে বলে উদ্বেগ দেখা দেয়। সরকার সোমবার এই সংশোধনী টেনে নেয় এবং লর্ডস পার্লামেন্টে বিল পাসের আগে সংশোধনী নিয়ে পুনরায় আলোচনা করার প্রতিশ্রুতি দেয়।
পাবলিক অফিস (অ্যাকাউন্টেবিলিটি) বিলের মূল উদ্দেশ্য হল দুর্যোগ বা অন্য কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে সরকারি সংস্থা ও তাদের চুক্তিকৃত অংশীদারদের সঠিক তথ্য প্রদান নিশ্চিত করা। আইনটি অনুসারে, কোনো ঘটনার পর যদি তথ্য গোপন রাখা হয়, তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে তা প্রকাশ করতে বাধ্য করা হবে, যাতে জনসাধারণের অধিকার রক্ষা পায় এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ ভুলের পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায়। এই কাঠামোটি হিলসাবোরো ঘটনার পর যুক্তরাজ্যে গৃহীত আইন থেকে অনুপ্রাণিত, যেখানে দুর্যোগের পর তথ্য গোপন রাখার জন্য দায়িত্বশীলদের উপর কঠোর শাস্তি আরোপ করা হয়।
বৃহস্পতিবার সরকার যে সংশোধনী প্রস্তাব করেছিল, তাতে গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যকে আইনটির আওতায় আনা হয়। তবে এই ধারার জন্য সংস্থার প্রধানের অনুমোদন প্রয়োজন হবে, যা নিরাপত্তা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাকে তথ্য প্রকাশের অনুমোদন বা অস্বীকারের ক্ষমতা দেবে। সমালোচকরা যুক্তি দেন, এই ধারা গোপন তথ্যের স্বচ্ছতা কমিয়ে নিরাপত্তা সংস্থার স্বায়ত্তশাসন বাড়াবে, ফলে জনসাধারণের জানার অধিকার ক্ষুন্ন হবে।
ক্যাম্পেইনকারী গোষ্ঠী, যারা দীর্ঘদিন ধরে এই আইনকে দুর্যোগের পর তথ্য গোপন করার প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছে, তারা এই সংশোধনীকে ‘অপট-আউট’ ব্যবস্থা হিসেবে বর্ণনা করে তীব্র সমালোচনা করে। তারা দাবি করে, গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তার অনুমোদন ছাড়া তথ্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতা কার্যকর করা যাবে না, ফলে দুর্যোগের পর সত্য প্রকাশে বাধা সৃষ্টি হবে। এই গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে মানবাধিকার সংস্থা, স্বচ্ছতা সমিতি এবং কিছু রাজনৈতিক দল অন্তর্ভুক্ত, যারা আইনটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য সংশোধন না করার পক্ষে সরে দাঁড়িয়েছে।
সংসদ সদস্যদের মধ্যেও এই সংশোধনী নিয়ে তীব্র মতবিরোধ দেখা দেয়। কিছু আইনপ্রণেতা উল্লেখ করেন, গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যকে আইনগত বাধ্যবাধকতার আওতায় আনা হলে নিরাপত্তা সংস্থার স্বায়ত্তশাসন হ্রাস পাবে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অন্যদিকে, কিছু সদস্য যুক্তি দেন, গোয়েন্দা তথ্যের স্বচ্ছতা বাড়িয়ে জনসাধারণের বিশ্বাস জোরদার করা দরকার, বিশেষ করে যখন এমন তথ্য দুর্যোগের পর দায়িত্বশীলতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এই বিরোধের পর সরকার সোমবার সংশোধনী প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেয়। সরকারী সূত্র জানায়, সংশোধনীটি টেনে নেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ক্যাম্পেইনকারী ও শোকাহত পরিবারগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ করা হবে। লর্ডস পার্লামেন্টে বিল পাসের আগে সংশোধনী নিয়ে পুনরায় আলোচনা করার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যাতে সকল স্টেকহোল্ডারের মতামত বিবেচনা করে একটি সমন্বিত সংস্করণ প্রণয়ন করা যায়।
পরবর্তী ধাপ হিসেবে সরকার লর্ডস পার্লামেন্টে বিলটি উপস্থাপন করার আগে সংশোধনী সংক্রান্ত প্রস্তাবনা নিয়ে কাজ করবে। এই প্রক্রিয়ায় ক্যাম্পেইনকারী গোষ্ঠী, মানবাধিকার সংস্থা এবং শোকাহত পরিবারের প্রতিনিধিরা সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। সরকারী বিবৃতি অনুযায়ী, এই আলোচনার মাধ্যমে আইনটি আরও স্বচ্ছ এবং কার্যকর করার লক্ষ্যে নির্দিষ্ট ধারা সংশোধন করা হবে, যাতে গোয়েন্দা তথ্যের স্বয়ংক্রিয় প্রকাশের বাধ্যবাধকতা না দিয়ে যথাযথ তদারকি নিশ্চিত করা যায়।
রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই সিদ্ধান্তটি সরকারের স্বচ্ছতা ও জনসাধারণের বিশ্বাস জোরদার করার ইচ্ছা প্রকাশ করে। তবে আইনটি সম্পূর্ণভাবে পাস না হওয়া পর্যন্ত এর প্রভাব সম্পূর্ণভাবে মূল্যায়ন করা কঠিন। লর্ডস পার্লামেন্টে আলোচনার ফলাফল এবং সংশোধনী সংক্রান্ত চূড়ান্ত রূপ নির্ধারণের পরই আইনটি বাস্তবায়নযোগ্য হবে। ভবিষ্যতে এই ধরনের আইন কীভাবে দুর্যোগের পর তথ্য প্রকাশের প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করবে, তা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ ও নিরাপত্তা নীতির ওপর নির্ভরশীল হবে।
সারসংক্ষেপে, সরকার হিলসাবোরো আইন সংশোধনী প্রত্যাহার করেছে, যাতে ক্যাম্পেইনকারী ও সংসদ সদস্যদের উদ্বেগের সমাধান করা যায় এবং আইনটি লর্ডস পার্লামেন্টে পাসের আগে আরও বিস্তৃত পরামর্শের মাধ্যমে উন্নত করা যায়। এই পদক্ষেপটি তথ্য স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা সংস্থার স্বায়ত্তশাসনের মধ্যে সঠিক ভারসাম্য রক্ষা করার চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।



