ঢাকা ক্যাপিটালস রবিবার শের‑ই‑বাংলা ন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে চট্টগ্রাম রয়্যালসের বিপক্ষে বাঙালি প্রিমিয়ার লিগের লিগ পর্যায় শেষ করে ৪২ রনের পার্থক্যে জয়লাভ করে। দু’দলই ১০ ম্যাচের মধ্যে তৃতীয় জয় পেয়েছে, তবে চট্টগ্রাম দ্বিতীয় স্থানে শেষ হয়ে কোয়ালিফায়ার স্লট নিশ্চিত করেছে।
ঢাকার ব্যাটিং ১৭০ রানে শেষ হয়েছে, যা চট্টগ্রামের লক্ষ্যকে অতিক্রম করতে যথেষ্ট ছিল। ওপেনার সাইফ হোসেন ৪৪ ball‑এ ৭৩ রান করে দলের শীর্ষ স্কোরার ভূমিকা পালন করেন, আর উসমান খান ১৬ রান করে প্রারম্ভিক আউট হয়। সাইফের সঙ্গে জুবাইদ আকবরি ৬১ ডেলিভারিতে ৯০ রানের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারিত্ব গড়ে তোলেন, যা দলের মোট স্কোরে বড় অবদান রাখে।
চট্টগ্রামের বলারাই মাঝের ওভারগুলোতে চাপ বাড়ায়। স্পিনার তানভীর ইসলাম তিনটি উইকেট নেন, আর পেসার শোরিফুল ইসলাম দুইটি উইকেটের মাধ্যমে ঢাকার ব্যাটিংকে ১৭০ রানে সীমাবদ্ধ রাখে। তাদের যৌথ প্রচেষ্টায় ঢাকা ১৭০ রানে আটকে যায়।
চট্টগ্রামের লক্ষ্য ৭৭ রান, তবে শুরুর দিকে টাস্কিন আহমেদ নতুন বল দিয়ে দ্রুত দুটি উইকেট নেন, যার ফলে স্কোর ৪৪/৪ হয়ে যায়। নায়িম শেখ ১৮ রান করে রান‑আউট হন, ক্যাপ্টেন মাহেদি হাসান মাত্র তিন রান করে বেরিয়ে যান, আর মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন অতিরিক্ত তিনটি উইকেট নেন, যার মধ্যে আসিফ আলি (১২) এবং তানভীর (১) অন্তর্ভুক্ত।
চূড়ান্ত পর্যায়ে শোরিফুল ইসলাম ছয় ball‑এ ১৪ রান করে দ্রুত আউটপুট দেন, আর আমের জামাল ২৬ ball‑এ ৪২ রান করে আক্রমণাত্মক পদ্ধতিতে দলকে ১২৮ রানে আটকে রাখে। চট্টগ্রাম ১৯.৪ ওভারে ১২৮ রানে আটকে যায়। সাইফুদ্দিনের ৪ উইকেট (২০ রান) এবং টাস্কিনের ৩ উইকেট (২৮ রান) সবচেয়ে কার্যকর বোলিং পারফরম্যান্স হিসেবে উঠে আসে।
লিগ টেবিলে চট্টগ্রাম দ্বিতীয় স্থানে, রংপুর রাইডার্স তৃতীয় এবং সিলেট টাইটান্স চতুর্থ স্থান অর্জন করেছে। রংপুর ও সিলেটের মধ্যে মঙ্গলবার বিকেলে এলিমিনেটর ম্যাচ নির্ধারিত, যার বিজয়ী চট্টগ্রামের সঙ্গে কোয়ালিফায়ার ম্যাচে মুখোমুখি হবে। চট্টগ্রাম একই সন্ধ্যায় শীর্ষস্থানীয় রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের সঙ্গে প্রথম কোয়ালিফায়ার খেলবে, উভয়ই একই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে।
ঢাকা ক্যাপিটালসের এই জয় লিগ পর্যায়ে তাদের তৃতীয় জয়, তবে প্লে‑অফের পথে তাদের পথ এখনো বন্ধ। দলটি পূর্বে প্লে‑অফ রেসে বাদ পড়ে, তাই এই জয় তাদের আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধারে সহায়তা করবে। পরবর্তী ম্যাচগুলোতে উভয় দলই শের‑ই‑বাংলা স্টেডিয়ামে তাদের পারফরম্যান্স বজায় রাখার চেষ্টা করবে, যাতে কোয়ালিফায়ার ও এলিমিনেটর পর্যায়ে অগ্রসর হওয়া যায়।



