মালাগা শহরে জন্মগ্রহণকারী ২৬ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড ব্রাহিম দিয়াজ, মরোক্কোর আফ্রিকান কাপের দ্বিতীয় শিরোপা তাড়া করার পথে দলের প্রধান গোলদাতা হিসেবে পরিচিত। স্পেনের একক সিঙ্গেল ক্যাপের পর ২০২৩ সালে তিনি মরোক্কোর হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে পা বাড়িয়ে দেন এবং এই বছরের আফকনে শীর্ষ স্কোরার খেতাব অর্জন করেন।
দিয়াজের মা প্যাট্রিসিয়া মালাগা থেকে, আর তার বাবা সুফিয়েল মেলিল্লা শহরে জন্মেছেন, যা স্পেনের উত্তর আফ্রিকান উপকূলে অবস্থিত একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। সুফিয়েল মরোক্কো বংশের, ফলে ব্রাহিম শৈশব থেকেই দু’টি সংস্কৃতির মিশ্রণে বেড়ে ওঠেন। তিনি প্রায়ই নাদোরে তার দাদি ও চাচা-চাচির বাড়িতে যেতেন, যেখানে তিনি সাধারণ মরোক্কো ছেলেদের মতো পোশাক পরিধান করতেন এবং ঐতিহ্যবাহী মোহরার সঙ্গে পারিবারিক ছবিতে দেখা যেতেন। তার নিজের কথায় তিনি বলেন, “আমি সবসময় ১০০% স্প্যানিশ এবং ১০০% মরোক্কো”।
ফুটসাল তার শৈশবের প্রথম ফুটবল অভিজ্ঞতা ছিল। চার-পাঁচ বছর বয়সে তিনি ইতিমধ্যে সংকীর্ণ স্থানে বল নিয়ন্ত্রণের কৌশল শিখে ফেলেছিলেন, যা আজকের তার খেলায় স্পষ্ট দেখা যায়—ঘনবসত এলাকায় ড্রিবলিং, দ্রুত ত্বরান্বিত গতি এবং সময়ের অভাবে টো-শটের দক্ষতা। পরে তিনি সেভেন-এ-সাইডে পরিবর্তন করে মালাগার ছোট ক্লাব টিরো পিচন ও মর্টাডেলোতে খেলা শুরু করেন।
ব্রাহিমের প্রতিভা শীঘ্রই স্থানীয় ক্লাবগুলোর নজরে আসে। পাঁচ-ছয় বছর বয়সে মালাগা বড় ক্লাব তাকে স্বাক্ষর করতে চেয়েছিল, তবে তার বাবা তাকে ছোট দলের মাধ্যমে ধীরে ধীরে শিখতে দেন। ফলস্বরূপ, দিয়াজের মৌলিক দক্ষতা আরও দৃঢ় হয়। তিনি যখন ১৬ বছরের নিচে মালাগোর যুবদলে উঠে দাঁড়ান, তখন ইউরোপীয় স্কাউটদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ২০১০ সালে স্প্যানিশ রেডিও ব্যক্তিত্ব জোসে রামন দে লা মোরেনার আয়োজিত টুর্নামেন্টে তিনি সর্বোত্তম খেলোয়াড় (MVP) নির্বাচিত হন। সেই টুর্নামেন্টে তার দল রিয়াল মাদ্রিদকে সেমি-ফাইনালে পরাজিত করলেও, দিয়াজ লুকা জিদানের বিরুদ্ধে গোল করে নিজের ছাপ রেখে যান।
এরপর ম্যানচেস্টার সিটি তার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে ব্রাহিমকে ইংল্যান্ডে নিয়ে আসে। ২০১৫ সালে তিনি ইংল্যান্ডে স্থানান্তরিত হন, যদিও ইংরেজি ভাষা জানতেন না। পরিবারে শিক্ষা সর্বদা অগ্রাধিকার ছিল, তাই তিনি দ্রুত ভাষা শিখে মাঠে ও মাঠের বাইরে উভয় ক্ষেত্রেই মানিয়ে নেন। এক বছর পর তিনি ইউরোপীয় ফুটবলের উচ্চতর স্তরে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
ব্রাহিমের ক্যারিয়ার পরবর্তীতে রিয়াল মাদ্রিদে পৌঁছায়, যেখানে তিনি বর্তমান সিজনে ফরোয়ার্ডের দায়িত্বে আছেন। স্পেনের একক আন্তর্জাতিক ম্যাচের পরও তিনি মরোক্কোর হয়ে আন্তর্জাতিক দায়িত্ব গ্রহণ করেন, যা ২০২৩ সালে তার জাতীয় দল পরিবর্তনের মূল মুহূর্ত। মরোক্কোর আফকন ক্যাম্পেইনে তিনি ধারাবাহিকভাবে গোল করে দলের শীর্ষ স্কোরার হয়ে ওঠেন, এবং দলটি রবিবারের ম্যাচে দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে প্রস্তুত।
মরোক্কোর এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দিয়াজের উপস্থিতি এবং গোলের সম্ভাবনা দলের জন্য বড় প্রেরণা। তার বহুমুখী পটভূমি—স্প্যানিশ ও মরোক্কো উভয় সংস্কৃতির মিশ্রণ, ফুটসাল থেকে শুরু করে ইউরোপীয় ক্লাবের অভিজ্ঞতা—তাকে আধুনিক ফুটবলের একটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে। আগামী ম্যাচে তার পারফরম্যান্স কীভাবে দলের ফলাফলে প্রভাব ফেলবে, তা সকলের নজরে থাকবে।



