20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধমিয়ানমার সিমেন্ট পাচার রোধে কোস্ট গার্ডে ১১ জন গ্রেপ্তার

মিয়ানমার সিমেন্ট পাচার রোধে কোস্ট গার্ডে ১১ জন গ্রেপ্তার

মিয়ানমার দিকে সিমেন্ট বহন করে গোপন পথে পণ্য পাচারের প্রচেষ্টা থামাতে কোস্ট গার্ডের বিশেষ অভিযান সফল হয়েছে। রাত্রি ১ টায় গোপন সূত্রের ভিত্তিতে চালু করা অপারেশনে, সেন্টমার্টিনের ছেড়াদ্বীপের দক্ষিণ-পূর্ব সমুদ্র এলাকায় সন্দেহজনক একটি মাছ ধরা নৌকায় তল্লাশি করা হয়। তল্লাশির সময় নৌকায় লুকিয়ে রাখা ৭৫০ বস্তা সিমেন্ট উদ্ধার করা হয় এবং নৌকা চালকসহ মোট ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক রোববার রাত আটটায় জানিয়ে বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার রাতের অল্প সময়ে কোস্ট গার্ডের জাহাজ ‘তাজউদ্দিন’ নির্দিষ্ট সমুদ্র অঞ্চলে প্রবেশ করে। নৌকা ‘তাজউদ্দিন’ একটি আধুনিক পেট্রোল চালিত গার্ড জাহাজ, যা পূর্বে সমুদ্র নিরাপত্তা ও অবৈধ সীমানা পারাপার রোধে বহুবার ব্যবহার করা হয়েছে।

অভিযান চলাকালে, কোস্ট গার্ডের দল সন্দেহজনক মাছ ধরা নৌকাটিকে ঘিরে ধরার পর তল্লাশি শুরু করে। তল্লাশিতে দেখা যায়, নৌকায় সিমেন্টের ব্যাগগুলো সুনিপুণভাবে গোপন করা ছিল, যা মিয়ানমার সীমান্ত অতিক্রম করে অবৈধভাবে বিক্রি করার উদ্দেশ্যে ছিল। মোট ৭৫০ বস্তা সিমেন্টের ওজন প্রায় এক হাজার টন, যা দেশের নির্মাণ সামগ্রী বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারত।

নৌকা চালক এবং তার সঙ্গে থাকা ১০ জন সহচরকে সঙ্গে সঙ্গে আটক করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের পূর্বে একই ধরণের পাচার কার্যক্রমে জড়িত থাকার রেকর্ড রয়েছে, যা কোস্ট গার্ডের তথ্য বিশ্লেষণ থেকে স্পষ্ট হয়েছে। আটক ব্যক্তিরা সকলেই মিয়ানমার সীমান্ত পারাপার করে সিমেন্ট চুরি করে বিক্রি করার পরিকল্পনা করছিলেন।

‘তাজউদ্দিন’ জাহাজের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই অভিযান, সেন্টমার্টিনের ছেড়াদ্বীপের দক্ষিণ-পূর্ব সমুদ্রের নির্জন এলাকায় সম্পন্ন হয়। এই অঞ্চলটি পূর্বে অবৈধ মাছ ধরা, ড্রাগ ও সিমেন্ট পাচারের গন্তব্য হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন, এই ধরনের গোপন অপারেশন দেশের সামুদ্রিক সীমানা রক্ষা ও অবৈধ পণ্য প্রবাহ রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

জব্দকৃত সিমেন্ট, ব্যবহৃত নৌকা এবং গ্রেফতারকৃত ১১ জনের বিরুদ্ধে এখনো আইনি প্রক্রিয়া চলছে। কোস্ট গার্ডের আইনগত বিভাগ সংশ্লিষ্ট মামলাগুলো দ্রুত আদালতে দাখিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক অভিযোগ দায়ের করা হবে এবং জব্দকৃত সিমেন্টের মালিকানা সংক্রান্ত বিষয়গুলোও যথাযথভাবে সমাধান করা হবে।

কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের পাচার রোধে গোপন তথ্য সংগ্রহ ও দ্রুত প্রতিক্রিয়ার ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। এছাড়া, সমুদ্রের নির্জন এলাকায় নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও তদারকি বাড়িয়ে, অবৈধ নৌকা চলাচল রোধে অতিরিক্ত রিসোর্স মোতায়েন করা হবে।

মিয়ানমার সিমেন্ট পাচার একটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা, যা দেশের নির্মাণ খাতে মূল্যবৃদ্ধি ও গুণগত মানের হ্রাস ঘটায়। কোস্ট গার্ডের এই সফল অভিযান দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টা ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা অব্যাহত রাখলে, ভবিষ্যতে এমন অবৈধ কার্যক্রমের সংখ্যা কমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments