২৩ বছর বয়সী ব্রিটিশ টেনিস তারকা এমা রাডুকানু অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের প্রথম রাউন্ডে থাইল্যান্ডের মানানচায়া সাওয়াংকাওয়ের বিরুদ্ধে ৬-৪, ৬-১ স্কোরে জয়লাভ করে। এই জয় তাকে দ্বিতীয় রাউন্ডে রাশিয়ার আনাস্টাসিয়া পোটাপোভার সঙ্গে মুখোমুখি করবে।
রাডুকানুর ম্যাচটি মেলবোর্ন পার্কে রাত ১১টার আগে শেষ হয়, যা অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের মানদণ্ডে তুলনামূলকভাবে তাড়াতাড়ি। রাতের সময় খেলা তার জন্য বিরল, কারণ তিনি আগে মাত্র একবারই প্রধান টুর্নামেন্টে রাতের ম্যাচ খেলেছেন—২০২১ সালের ইউএস ওপেনের সেমিফাইনালে, যেখানে তিনি শিরোপা জিতেছিলেন।
ম্যাচের আগে রাডুকানু তার রুটিনে পরিবর্তন আনার জন্য মেলবোর্নের ব্যস্ত নদীর ধারের পার্কে হালকা হাঁটা নির্বাচন করেন। তিনি হালকা নাস্তা করে, প্রায় পঁয়তাল্লিশ মিনিট ধরে হাঁটেন, তারপর ফিরে এসে শারীরিক থেরাপি সেশন, দলের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলোচনা এবং একটি ছোট ঘুমের ব্যবস্থা করেন।
সেই দিন বিকেল ৫:৩০টায় তিনি মেলবোর্ন পার্কে পৌঁছান, রুটিন অনুসরণ করে ৬টায় প্রশিক্ষণ শুরু করেন। রাডুকানু স্বীকার করেন যে তিনি রাতের মানুষ, তবে তা তার খেলার সময়সূচি নয়; তিনি রাতের সময় শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করেন।
ম্যাচের সূচনা রাতের ৯টার পরে হয়। প্রারম্ভিক গেমগুলোতে র্যাকেট থেকে ভুল শটের পরিমাণ বেশি ছিল, তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার আত্মবিশ্বাস বাড়তে থাকে এবং তিনি দ্রুত নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করেন।
খেলোয়াড়দের জন্য পুরো দিন অপেক্ষা করা অস্বাভাবিক নয়; রাডুকানুর মতোই তার সহকর্মী ক্যামেরন নরি-ও একই ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলা করেন। নরি-র প্রথম রাউন্ডের ম্যাচের আগে তিনি সকাল ১০টায় কোোর্টে পৌঁছান, কিন্তু তার প্রতিপক্ষের ম্যাচের দীর্ঘ সময়ের কারণে তার নিজস্ব খেলা দেরিতে শুরু হয়।
নরি- শেষ পর্যন্ত প্রায় সন্ধ্যা ৬:৩০টায় কোোর্টে পা রাখেন এবং ফ্রান্সের বেনজামিন বোনজি’র সঙ্গে পাঁচ সেটের লড়াইয়ে জয়লাভ করেন, যা রাডুকানুর ম্যাচের আগে শেষ হয়। এই দেরি রাডুকানুর প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেললেও তিনি তা সামলাতে সক্ষম হন।
রাডুকানু জানান যে তিনি রাতের সময় খেলার জন্য নিজেকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন, দিনের সময়সূচি কীভাবে সাজাবেন, কখন মনোযোগ বাড়াবেন এবং কখন বিশ্রাম নেবেন—এগুলো তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বিভিন্ন পদ্ধতি পরীক্ষা করে দেখেছেন, কোনটি কাজ করে আর কোনটি নয় তা নির্ণয় করেছেন।
ম্যাচের আগে রাডুকানু নিজেকে খুবই ভাল অবস্থায় অনুভব করেন। পূর্বের ম্যাচটি তাড়াতাড়ি শেষ হওয়ায় তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে তাজা ছিলেন, যা তার পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
এখন রাডুকানু অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের দ্বিতীয় রাউন্ডে পোটাপোভার সঙ্গে মুখোমুখি হবেন, যেখানে তিনি তার রাতের খেলার অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে আরও এক জয় অর্জনের লক্ষ্য রাখছেন।
সারসংক্ষেপে, রাডুকানুর প্রথম রাউন্ডের জয় তার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে এবং রাতের ম্যাচে তার প্রস্তুতি ও মানসিক দৃঢ়তা স্পষ্ট করেছে। পরবর্তী রাউন্ডে তিনি কীভাবে তার কৌশল প্রয়োগ করবেন তা টেনিস প্রেমিকদের নজরে থাকবে।



