কুমিল্লা জেলার সব থানার মধ্যে ডিসেম্বর ২০২৫ মাসে মাদকদ্রব্যের সর্বোচ্চ বাজেয়াপ্তি অর্জনকারী বুড়িচং থানা থেকে উপ-পরিদর্শক রাকিবুল হাসান এবং সহকারী উপ-পরিদর্শক মো. শাহপরানকে ১৮ জানুয়ারি কুমিল্লা জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভায় পুরস্কার প্রদান করা হয়। সভা শহীদ আরআই এ.বি.এম আবদুল হালিম মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে জেলা পুলিশ লাইন্স ড্রিলশেডের প্রধান অতিথি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাশেদুল হক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
সভায় উপস্থিত কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান, পিপিএম, এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যদের সমস্যার কথা শোনেন এবং দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দেন। রাশেদুল হক চৌধুরী সভার সময় নৈতিকতা, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
বুড়িচং থানার রাকিবুল হাসান ও শাহপরানকে মাদকদ্রব্যের বাজেয়াপ্তি, গ্রেফতার এবং গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে তাদের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে নগদ পুরস্কার প্রদান করা হয়। উভয় কর্মকর্তার নেতৃত্বে থানা দলটি একাধিক গোপন অপারেশন চালিয়ে বড় পরিমাণে হেরোইন, শ্যাঁস এবং অন্যান্য নিষিদ্ধ পদার্থ বাজেয়াপ্ত করে। এই সাফল্য জেলা পুলিশকে মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নতুন উদাহরণ স্থাপন করেছে।
একই সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সাইফুল মালিককে ডিসেম্বর ২০২৫ মাসে শ্রেষ্ঠ সার্কেল অফিসার হিসেবে সম্মাননা প্রদান করা হয়। কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ারকে শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জের উপাধি দিয়ে সম্মানিত করা হয়। উভয়কে তাদের দায়িত্ব পালনে উৎকর্ষতা এবং টিমের মনোবল বাড়ানোর জন্য প্রশংসা করা হয়।
সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) পংকজ বড়ুয়াসহ কুমিল্লা জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তারা সকলকে মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সতর্কতা বজায় রাখতে এবং ভবিষ্যতে আরও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণে আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, রাকিবুল হাসান ও শাহপরানের মাদকবাজি বিরোধী কার্যক্রমের ফলস্বরূপ গ্রেফতারকৃত সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট মামলাগুলি আদালতে দাখিলের প্রস্তুতি চলছে। আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য তদন্ত দল দ্রুত কাজ করছে।
কুমিল্লা জেলা পুলিশের এই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানটি কেবল কর্মক্ষমতার স্বীকৃতি নয়, বরং ভবিষ্যতে মাদকদ্রব্যের অবৈধ প্রবাহ রোধে সকল ইউনিটকে উদ্দীপিত করার লক্ষ্যে আয়োজিত হয়েছে। কর্মকর্তারা ভবিষ্যতে আরও সমন্বিত অপারেশন, তথ্য শেয়ারিং এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মাধ্যমে মাদকদ্রব্যের শিকড় কাটার পরিকল্পনা করছেন।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে কুমিল্লা জেলা পুলিশ মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একটি মডেল তৈরি করতে চায়, যাতে অন্যান্য জেলা ও থানা গুলোও অনুপ্রেরণা পায়। শেষ পর্যন্ত, রাকিবুল হাসান, মো. শাহপরান এবং অন্যান্য সম্মানিত কর্মকর্তাদের এই স্বীকৃতি তাদের পরিশ্রমের ফলস্বরূপ এবং ভবিষ্যতে আরও সাফল্যের ভিত্তি হবে।



