গুলশান ৬৫ নম্বর সড়কে বুধবার রাত ১২টার কাছাকাছি একটি অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটেছে। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বুলেটপ্রুফ গাড়িতে একটি সাদা টেপে মোড়ানো খাম লাগিয়ে একটি মোটরসাইকেল চালক দ্রুত গতি বাড়িয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে গাড়ি চালকের সঙ্গে তার নিরাপত্তা দলও উপস্থিত ছিল।
বিএনপি চেয়ারম্যান গুলশান থানা থেকে গাড়িতে করে বাড়ি ফেরার পথে, গাড়ির সামনে ও পেছনে তার নিজস্ব সিকিউরিটি দল (সিএসএফ) সঙ্গী ছিল। হঠাৎ করে একটি সাদা টেপে মোড়ানো খাম গাড়ির বাম পাশে আটকে যায়। খামটি টেপের মাধ্যমে গাড়ির বডিতে আটকে থাকা সত্ত্বেও, মোটরসাইকেল চালক দ্রুত গতি বাড়িয়ে গুলশান সড়ক ছেড়ে চলে যায়।
গুলশান থানার ওসিআই রাকিবুল ইসলাম রোববার রাতে জানিয়েছেন, “মোটরসাইকেলটি উচ্চ গতিতে এসে বিএনপি চেয়ারম্যানের বুলেটপ্রুফ গাড়িতে শুধু স্কচটেপ দিয়ে একটি খাম লাগিয়ে টেনে চলে গেছে। খামের উদ্দেশ্য বা বিষয়বস্তু এখনো পরিষ্কার হয়নি।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “খামের ভিতরে কী আছে বা কী লেখা আছে তা আমাদের জানানো হয়নি।”
গুলশান বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) রওনক আলমও একই সময়ে জানান, “আমরা তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি। খামের বিষয়বস্তু বা লিখিত তথ্য আমাদের কাছে সরবরাহ করা হয়নি। বর্তমানে সিএসএফের হাতে খামটি রয়েছে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, “খামের বিষয়বস্তু জানার জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা দল থেকে তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় আছি।”
ঘটনাটির পর গুলশান থানা দ্রুত একটি জিডি (জামিনদারী) রেকর্ড করে। তবে চার দিন পার হওয়া সত্ত্বেও, পুলিশ এখনও মোটরসাইকেল চালককে শনাক্ত করতে পারেনি। খামটির ভিতরে কী ছিল, তা প্রকাশ না করা পর্যন্ত তদন্তের দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করা কঠিন।
বিএনপি চেয়ারম্যানের গাড়ি, যা বুলেটপ্রুফ হিসেবে পরিচিত, ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা দলসহ উপস্থিত ছিল। গাড়ির সুরক্ষা ব্যবস্থা সত্ত্বেও, টেপে বাঁধা খামটি গাড়ির বডিতে আটকে যাওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। নিরাপত্তা দল খামটি সিএসএফের কাছে হস্তান্তর করেছে এবং বিষয়টি তদন্তের অধীনে রয়েছে।
গুলশান থানা এখন পর্যন্ত মোটরসাইকেল চালকের পরিচয়, গতি, এবং খামের বিষয়বস্তু সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে ভবিষ্যতে আরও তথ্য জানানো হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, খামের উদ্দেশ্য ও প্রেরক নির্ধারণের জন্য ফোরেন্স বিশ্লেষণ এবং সিএসএফের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।
এই ঘটনার পর, গুলশান এলাকার নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গাড়ির চালক ও নিরাপত্তা দল উভয়ই ঘটনাটির পর পুনরায় নিরাপত্তা প্রোটোকল পর্যালোচনা করছেন। গুলশান থানার কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন, “যেকোনো অস্বাভাবিক ঘটনার ক্ষেত্রে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করা অপরিহার্য।”
অবধি, খামের বিষয়বস্তু ও চালকের সনাক্তকরণই তদন্তের মূল দিক। গুলশান থানা ও সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা দল এই দু’টি বিষয় স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত তদন্তকে অগ্রসর রাখবে। ভবিষ্যতে কোনো নতুন তথ্য প্রকাশিত হলে, তা জনসাধারণের সঙ্গে শেয়ার করা হবে।



