আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম আজ সকালে ঢাকা সিআইআরডিএপি অডিটোরিয়ামে সেন্টার ফর গভার্নেন্স স্টাডিজের আয়োজন করা “ন্যায়বিচার স্বায়ত্তশাসন ও শাসনের নীতি” শীর্ষক নীতি সংলাপে ‘মব’ শব্দের অনুপযুক্ত ব্যবহারকে কঠোরভাবে বিরোধিতা করার ইঙ্গিত প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের বিপ্লবী অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এই শব্দের পুনরাবৃত্তি ব্যবহার করা কোনোভাবে সহ্য করা হবে না।
তাজুলের বক্তব্যে তিনি ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলিকে নগরী গ্যাংয়ের সঙ্গে তুলনা করা অনুচিত বলে জোর দেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, বস্তিলের পতন বা গনো ভবনের বিদ্রোহের মতো ঐতিহাসিক মুহূর্তকে ‘মব’ হিসেবে চিহ্নিত করা বিপ্লবের মর্যাদা হ্রাসের সমান। তাই, জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে যাতে এমন শব্দের মাধ্যমে বিপ্লবী ইতিহাসকে প্রশ্নবিদ্ধ করার কোনো প্রচেষ্টা না ঘটে।
প্রসিকিউটর তাজুল উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ এখন নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে এবং অবৈধ রাস্তায় হিংসা ও অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিপ্লবকে প্রশ্ন করা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না এবং এমন প্রচেষ্টা জাতির স্বর্ণযুগের সাফল্যকে ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হবে।
বিচারিক স্বায়ত্তশাসন সম্পর্কেও তাজুলের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট। তিনি সুপারিশ করেন, বিচারকদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য অভিযোগের জন্য সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের কার্যকারিতা বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, বিচারিক দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের নৈতিক সততা নিশ্চিত করা আইনগত কাঠামো পরিবর্তনের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সুপ্রিম কোর্ট সেক্রেটারিয়েটের সম্প্রসারণ সম্পর্কেও তাজুল সতর্কতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, অবিলম্বে বড় মাত্রায় সম্প্রসারণের প্রয়োজন নেই; প্রথমে বর্তমান কাঠামোর কার্যকারিতা ও ফলাফল পর্যবেক্ষণ করে ধীরে ধীরে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করা উচিত। অভিজ্ঞতা কম কর্মী দিয়ে হঠাৎ সম্প্রসারণ করলে অতিরিক্ত জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে, এ কথায় তিনি ইঙ্গিত দেন।
বিচারিক স্বায়ত্তশাসন রক্ষার জন্য তাজুলের মতে, কেবল আইন ও ব্যবস্থার পরিবর্তনই যথেষ্ট নয়; ব্যক্তিগত সততা ও নৈতিক মানদণ্ডই মূল চাবিকাঠি। তিনি জোর দেন, বিচারব্যবস্থা যেন রাজনৈতিক বা রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত থাকে, তবে একই সঙ্গে বিচারকরা রাজনৈতিক চরিত্র গ্রহণ না করে ন্যায়বিচারের নীতি বজায় রাখবেন।
এই নীতি সংলাপে তাজুলের মন্তব্যগুলো দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে একটি স্পষ্ট বার্তা দেয়: বিপ্লবের সাফল্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করা, ‘মব’ শব্দের মাধ্যমে তা হ্রাস করার কোনো প্রচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। পাশাপাশি, বিচারিক কাঠামোর স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়াতে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের ভূমিকা শক্তিশালী করা এবং বিচারিক সংস্থার সম্প্রসারণে সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। ভবিষ্যতে এই নীতিমালা অনুসরণ করলে দেশের আইনি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।



