বিএনপি সচিব সাধারণ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজ সন্ধ্যায় অগ্রগাঁও ইসিসি অফিসে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠকের পর প্রেসে জানিয়ে দেন, পোস্টাল ভোটের প্রক্রিয়ায় পক্ষপাতের সন্দেহ রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বিদেশে বসবাসকারী ভোটারদের জন্য পাঠানো ব্যালটের গুণগত মান ও মুদ্রণ প্রক্রিয়া সঠিক নয় বলে তারা ইসিসি-কে অভিযোগ জানিয়েছে।
ফখরুলের মতে, বর্তমান প্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট কোনো দলকে সুবিধা দেওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের ভিতরে পোস্টাল ব্যালট বিতরণে ভোটের প্রতীক বরাদ্দের পরই তা করা উচিত, যাতে ভোটারদের সমান সুযোগ নিশ্চিত হয়।
বিএনপি আরও জানিয়েছে, রিটার্নিং অফিসার, পুলিশ কর্মকর্তা এবং অন্যান্য নির্বাচনী কর্মীদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, যারা একপক্ষীয়ভাবে কাজ করে ভোটের স্বচ্ছতা নষ্ট করছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়ার দাবি তোলা হয়েছে।
এছাড়াও, ফখরুল উল্লেখ করেন, ইসিসির কিছু সিনিয়র কর্মকর্তার আচরণে পক্ষপাতের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তিনি ইসিসি-কে অনুরোধ করেন, এই ধরনের অনিয়ম দ্রুত সংশোধন করে নির্বাচনকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত করতে।
বিএনপি স্বীকার করেন, ইসিসি নীতিগতভাবে সমতাবাদী পরিবেশ বজায় রাখে, তবে কিছু ক্ষুদ্র ত্রুটি রয়েছে যা তৎক্ষণাৎ সমাধান করা দরকার। তিনি ইসিসির নীতি ও প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান প্রকাশ করে, সংশোধনী পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
ফখরুলের আরও একটি অভিযোগে বলা হয়েছে, জামায়াতে ইসলামী কর্মীরা নির্বাচনী কোড লঙ্ঘন করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি, মোবাইল নম্বর এবং বিকাশের তথ্য সংগ্রহ করছে। তিনি এটিকে “অপরাধমূলক কাজ” বলে উল্লেখ করেন এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
বিএনপি এই অভিযোগগুলো সত্ত্বেও ইসিসির সঙ্গে সহযোগিতা বজায় রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচন নিশ্চিত করতে সকল প্রয়োজনীয় পদক্ষেপে ইসিসি-কে সমর্থন করা হবে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠকের সময়, ফখরুলের উপস্থাপিত অভিযোগগুলো নিয়ে ইসিসি কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে তা স্পষ্ট হয়নি। তবে তিনি ইসিসির ন্যায়সঙ্গত পরিচালনা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
বিএনপি উল্লেখ করেছে, পোস্টাল ভোটের ক্ষেত্রে ভোটার তালিকা যাচাই, ব্যালটের গুণগত মান এবং বিতরণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি ইসিসি-কে অনুরোধ করেন, এই বিষয়গুলোতে ত্বরিত পদক্ষেপ নিয়ে ভবিষ্যৎ নির্বাচনে পুনরাবৃত্তি রোধ করতে।
এদিকে, ইসিসি-র পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি। তবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়সঙ্গততা বজায় রাখতে সকল সংশ্লিষ্ট সংস্থার সমন্বিত কাজের প্রয়োজনীয়তা উভয় পক্ষই স্বীকার করেছে।
বিএনপি এই অভিযোগগুলোকে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অখণ্ডতা রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে। ফখরুলের মতে, যদি এই বিষয়গুলো দ্রুত সমাধান না হয়, তবে তা ভবিষ্যৎ নির্বাচনে ভোটারদের আস্থা হ্রাসের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
অবশেষে, ফখরুল উল্লেখ করেন, ইসিসি-র সঙ্গে চলমান সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে এবং স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য সকল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি ইসিসি-কে ধন্যবাদ জানিয়ে শেষ করেন, দেশের গণতন্ত্রের মেরুদণ্ড হিসেবে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা অগ্রাহ্য করা যায় না।



