ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ১৯ জানুয়ারি সোমবারের মধ্যে হজযাত্রীদের বিমান টিকিট নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়ে তিনটি এয়ারলাইন্সকে চিঠি প্রেরণ করেছে। এই পদক্ষেপ ২০২৬ সালের হজ পরিচালনাকে সময়মতো ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
চিঠিটি রবিবার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, সৌদি এয়ারলাইন্স এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্সের কাছে পাঠানো হয়। মন্ত্রণালয় এই তিনটি ক্যারিয়ারকে হজযাত্রীদের টিকিট দ্রুত নিশ্চিত করতে এবং সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলোর চাহিদা পূরণে সহযোগিতা করতে আহ্বান জানায়।
সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় প্রকাশিত রোডম্যাপ অনুসারে, হজযাত্রীদের জন্য মক্কা ও মদিনায় বাড়ি ভাড়ার চুক্তি ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক। এই সময়সীমা পূরণে এয়ারলাইন্সগুলোকে হজ পোর্টালে আপলোড করা ফ্লাইট শিডিউল অনুসরণ করতে হবে।
জনারেল অথরিটি অব সিভিল অ্যাভিয়েশন (জিএসিএ) এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) অনুমোদিত ফ্লাইট শিডিউল ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের হজ পোর্টালে আপলোড করা হয়েছে। শিডিউলটি হজযাত্রীদের নিরাপদ ও সময়মতো পরিবহন নিশ্চিত করার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।
হজ এজেন্সিগুলো বাড়ি ভাড়া চুক্তির প্রয়োজনীয়তা পূরণে এয়ারলাইন্সগুলোর কাছে টিকিটের চাহিদা জমা দিচ্ছে। এজেন্সিগুলো তাদের গ্রাহকদের জন্য নির্ধারিত ফ্লাইটে টিকিটের অনুরোধ করে, যাতে হজের পূর্বে বাসস্থানের ব্যবস্থা সম্পন্ন করা যায়।
মন্ত্রণালয় এয়ারলাইন্সগুলোকে অনুরোধ করেছে যে, এজেন্সিগুলোর টিকিটের রিকোয়েস্ট দ্রুততম সময়ে নিশ্চিত করে হজযাত্রীদের যাত্রা সুনিশ্চিত করা হোক। এই নির্দেশনা অনুসরণ না করলে হজ পরিচালনায় দেরি ও অগোছালো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
সৌদি সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, একই সার্ভিস কোম্পানির হজযাত্রীদের একই ফ্লাইটে সৌদি আরবে যাতায়াত করতে হবে। এই নীতি হজযাত্রীদের গোষ্ঠীভিত্তিক ভ্রমণ সহজতর করে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে।
প্রি-হজ ফ্লাইটের মধ্যবর্তী পর্যায়ে একটি এজেন্সির মোট হজযাত্রীর কমপক্ষে ২০ শতাংশ টিকিট ইস্যু করা আবশ্যক, আর প্রথম ও শেষ ধাপে এই শতাংশ ৩০ থেকে ৫০ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এই শর্তাবলী হজের বিভিন্ন পর্যায়ে সমানভাবে যাত্রী বণ্টন নিশ্চিত করে।
তবে কোনো ধাপে ৩০ শতাংশের কম বা ৫০ শতাংশের বেশি টিকিট ইস্যু করা যাবে না। এই সীমা অতিক্রম করলে হজ পরিচালনার সামগ্রিক ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে এবং এয়ারলাইন্সের লাইসেন্সে প্রভাব পড়তে পারে।
বিশেষ করে মদিনায় বাড়ি ভাড়া চুক্তি সম্পন্ন করতে এয়ারলাইন্সগুলোকে পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে সোমবারের মধ্যে টিকিট নিশ্চিত করে মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলোকে অবহিত করতে হবে। এই সমন্বয় হজের শেষ পর্যায়ে বাসস্থানের সুষ্ঠু ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে।
মন্ত্রণালয় চিঠিতে বিষয়টির জরুরি স্বভাব উল্লেখ করে হজ পরিচালনার সুষ্ঠুতা বজায় রাখতে সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। সময়মতো টিকিট নিশ্চিতকরণ এবং বাসস্থান চুক্তি হজের সফলতা নির্ধারণের মূল উপাদান হিসেবে বিবেচিত।
এই নির্দেশনা মন্ত্রণালয়ের হজ ব্যবস্থাপনা নীতির ধারাবাহিকতা এবং সরকারী দায়িত্বের প্রতি জনসাধারণের আস্থা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতে হজের গুণগত মান উন্নয়নে এয়ারলাইন্সের সহযোগিতা ও নিয়ম মেনে চলা রাজনৈতিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে দেখা হবে।



