ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় ছোলনা গ্রামাঞ্চলে রবিবার দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে একটি কারখানা ও চারটি গুদাম অনুসন্ধান করে নকল শিশুখাদ্য জব্দ করে ধ্বংস করে। জব্দকৃত পণ্যের মূল্য প্রায় পনেরো লাখ টাকা, এবং অপরাধীকে এক লাখ টাকার জরিমানা আর কারখানা সিলগালা করা হয়।
অভিযানটি স্থানীয় পৌরসভার ছোলনা এলাকায় ‘মেসার্স ভাই ভাই স্টোর’ নামে পরিচিত কারখানায় পরিচালিত হয়। সেনাবাহিনীর রেজিমেন্ট ও পুলিশ বিভাগের বিশেষ দল একত্রে পাঁচ ঘণ্টা ধরে অনুসন্ধান চালায়, ফলে নকল পণ্যগুলোকে স্টেডিয়াম মাঠের সংলগ্ন খালি জায়গায় নিয়ে গিয়ে সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়।
ধ্বংসকাজের পর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিব্বির আহমেদ এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয়, ছোলনা গ্রামবাসী হাসিবুর বিশ্বাসের দুই সন্তান—রুহুল আমিন বিশ্বাস (৪০) ও বাহারুল বিশ্বাস (৩৭)—ভাড়া করা বাড়িতে বিএসটিআই অনুমোদন ছাড়া বিভিন্ন ধরনের শিশুখাদ্য উৎপাদন করছিলেন।
অভিযানের সূত্রে জানা যায়, এই দুজনই রাজধানী ঢাকা, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নকল পণ্য সরবরাহ করতেন। উৎপাদন প্রক্রিয়ায় স্যাকারিন, অতিরিক্ত চিনি এবং অন্যান্য ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করে জুস, আইসলি, তেঁতুল‑জলপাইয়ের চাটনি ইত্যাদি নকল শিশুখাদ্য তৈরি করা হতো।
বিএসটিআই অনুমোদন ছাড়া এই ধরনের পণ্য তৈরি ও বাজারজাত করা অবৈধ। কর্তৃপক্ষের মতে, নকল পণ্যের গুণগত মান ও নিরাপত্তা মানদণ্ডের সঙ্গে কোনো সামঞ্জস্য নেই, ফলে শিশুর স্বাস্থ্যের ওপর গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, জব্দকৃত পণ্যগুলোকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয় এবং পরে নিরাপদ স্থানে ধ্বংস করা হয়। ধ্বংসের সময় পণ্যের গঠন ও উপাদান বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত করা হয় যে সেগুলো পুনরায় ব্যবহারযোগ্য নয়।
সহকারী কমিশনার শিব্বির আহমেদ উল্লেখ করেন, “শিশুদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এসব নকল পণ্য ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫০ ধারার অধীনে শাস্তিযোগ্য। আমরা অপরাধীকে এক লাখ টাকার জরিমানা আর কারখানা সিলগালা করার মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছি।”
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ধারা ৫০ অনুযায়ী, অনুমোদনবিহীন পণ্য উৎপাদন ও বিক্রয়কারীকে জরিমানা, কারখানা বন্ধ, পণ্য জব্দ ও ধ্বংসের শাস্তি দেওয়া হয়। এই আইনটি ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা এবং বাজারে ন্যায়সঙ্গত প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে গৃহীত।
অভিযানের পরবর্তী পর্যায়ে, স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও ভ্রাম্যমাণ আদালত একত্রে তদন্ত চালিয়ে যাবে। সন্দেহভাজনদের আর্থিক সম্পদ ও পণ্য সরবরাহের চেইন অনুসন্ধান করে অতিরিক্ত অপরাধের সম্ভাবনা বাদ দেওয়া হবে।
কর্তৃপক্ষের প্রকাশ্য মন্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে, ভবিষ্যতে নকল শিশুখাদ্য উৎপাদন ও বিক্রয়ের বিরুদ্ধে সমানভাবে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধে নিয়মিত নজরদারি ও জরুরি অভিযান চালিয়ে যাবে।
এই ঘটনাটি দেশের শিশু পণ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। নকল পণ্যের উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ বন্ধ করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।



