কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আমির হামজা রবিবার বিকেল প্রায় চারটায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লিখে জানান, তিনি সামাজিক মাধ্যমের মন্তব্যে মৃত্যুর হুমকির মুখে। তিনি ফোনে জানান, গতকাল থেকে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে তার নাম নিয়ে হুমকিমূলক মন্তব্য প্রকাশিত হচ্ছে।
হামজা উল্লেখ করেন, হুমকিগুলো সরাসরি তার জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে এবং তিনি তা স্বীকার করে বলেন, “আমি মৃত্যুর জন্য সব সময় প্রস্তুত, ইনশা আল্লাহ।” তিনি সমর্থকদের অনুরোধ করেন, তার অনুপস্থিতিতে কুষ্টিয়ায় চলমান ন্যায়বিচার সংগ্রাম চালিয়ে যেতে এবং তার তিনটি কন্যার যত্ন নিতে।
বক্তব্যের সময় হামজা আদালতে একটি কাজ শেষ করে বের হওয়ার পথে ছিলেন; তিনি নামাজ শেষ করে পরে বিস্তারিত আলোচনা করবেন বলে জানান।
এদিকে, কুষ্টিয়ায় একটি নারী ঝাড়ু মিছিলের মাধ্যমে হামজার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ প্রকাশ করা হয়। গত শনিবার সকাল দশটায় সাদর উপজেলার বটতৈল মোড় থেকে একদল নারী হাতে ঝাড়ু নিয়ে রওনা হন, মিছিলটি কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়ক ধরে এমআরএস পাম্প এলাকায় শেষ হয়।
মিছিলের অংশগ্রহণকারীরা হামজা সম্পর্কিত বিভিন্ন স্লোগান উচ্চারণ করে, যার মধ্যে তার প্রতি হুমকি ও তার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন জেসমিন খাতুন, যিনি বলেন, ওয়াজ মাহফিলে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও তাঁর ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর নাম বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা নারীদের রাগের মূল কারণ।
ঝাড়ু মিছিলের মাধ্যমে তারা কোকোর নামের বিকৃতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশের পাশাপাশি হামজাকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানায়। জেসমিন খাতুন উল্লেখ করেন, “আমরা এমন কোনো বক্তব্যের সমর্থন করি না, তবে হামজার প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট রাখতে চাই।”
কুষ্টিয়া-৩ আসনের বিএনপি জেলা সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য প্রার্থী জাকির হোসেন সরকার মিছিলের খবর জানিয়ে বলেন, “বিক্ষুব্ধ নারীরা ঝাড়ু মিছিল করেছে, বিষয়টি আমি জানি। তবে বর্তমানে কে কোন ব্যানারে এই মিছিল করেছে, তা স্পষ্ট নয়।”
হুমকি ও মিছিলের ঘটনাগুলো কুষ্টিয়া-৩ আসনের নির্বাচনী পরিবেশকে তীব্র করে তুলেছে। হামজা যদি হুমকির মুখে নিরাপত্তা নিশ্চিত না করতে পারেন, তবে তার প্রচার কার্যক্রমে বাধা আসতে পারে, যা বিরোধী দলগুলোর জন্য সুযোগ তৈরি করতে পারে।
অন্যদিকে, নারী মিছিলের মাধ্যমে স্থানীয় নেতাদের প্রতি চাপ বাড়ছে; তারা যদি হামজার প্রতি সমর্থন না দেখায়, তবে ভোটারদের মধ্যে তাদের জনপ্রিয়তা হ্রাস পেতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দেন, এই ধরনের প্রতিবাদ ও হুমকি উভয়ই নির্বাচনী গতি পরিবর্তনে ভূমিকা রাখবে।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি এখন পর্যন্ত হুমকি সংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগের তথ্য প্রকাশ করেনি, তবে ভবিষ্যতে তদন্তের সম্ভাবনা রয়েছে। নিরাপত্তা সংক্রান্ত পদক্ষেপ না নিলে, রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে পারে এবং ভোটারদের মধ্যে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, কুষ্টিয়া-৩ আসনে চলমান রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে হুমকি ও প্রতিবাদ উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ সূচক হয়ে দাঁড়িয়েছে। উভয় পক্ষই জনমত গঠন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে নির্বাচনী প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য থাকে।



