জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা‑৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ, ১৮ জানুয়ারি রবিবার কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার উপজেলায় পৌর মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘নারীর ক্ষমতায়ন ও নারী শিক্ষার উন্নয়নে বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনাসভায়, ভার্চুয়ালভাবে যুক্ত হয়ে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশের কঠিন বাস্তবতা তুলে ধরেন।
হাসনাতের বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, আজকের তরুণ প্রজন্মকে নিরাপদে ঘরে ফিরে আসার নিশ্চয়তা না থাকায়, পরিবারে সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তিনি উদাহরণস্বরূপ হাদি ভাইয়ের সন্তানকে উল্লেখ করে বলেন, তার বাবা আর কখনো ফিরে আসবেন না, যা দেশের রাজনৈতিক দমনের গাঢ় চিত্র তুলে ধরে।
বক্তা আরও বলেন, আজকের সভায় উপস্থিত সবাই কোনো এমপি, মন্ত্রী বা সরকারি কর্মকর্তার সন্তান নয়; তারা সাধারণ মানুষের সন্তান, যারা রক্তের দাম চেনে এবং দেশের উন্নয়নের জন্য রাস্তায় নামেন। তিনি এই ‘ব্লাডি সিটিজেন’দের ওপরই দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভরশীল, এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে বলে জোর দেন।
হাসনাতের মতে, দেশের শাসনব্যবস্থা আর কোনো ‘ব্লাডি ফরেনার’ হাতে না দিয়ে, নিজের প্রজন্মের লড়াইকে চালিয়ে যেতে হবে। তিনি অতীতের রাজনৈতিক দমনকে স্মরণ করে ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ড, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরে গণহত্যা এবং ২০১৪ সালের ভোট চুরির মতো ঘটনাগুলিকে উল্লেখ করেন, যা এনসিপি-কে আজকের অবস্থানে পৌঁছাতে সহায়তা করেছে।
বক্তা স্পষ্ট করে বলেন, দেবিদ্বারকে আর কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠীর ‘মানি মেশিন’ হিসেবে ব্যবহার করা হবে না এবং ভবিষ্যতে এমন কোনো কৌশল অনুমোদন করা হবে না। তার এই মন্তব্যের পর, সভায় উপস্থিত কয়েকজন নারী সক্রিয়ভাবে প্রশ্ন তুলেছেন, তবে কোনো বিরোধী দলের প্রতিনিধির মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে, স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতারা এই সভা ও হাসনাতের মন্তব্যের ওপর কোনো সরকারি মন্তব্য দেননি। কিছু বিশ্লেষক অনুমান করছেন, এনসিপি-র এই ধরনের র্যাডিকাল রেটোরিক্স ভোটের আগে বিরোধী গোষ্ঠীর সমর্থন অর্জনের একটি কৌশল হতে পারে, তবে এখনো কোনো স্পষ্ট প্রকাশনা নেই।
হাসনাতের বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে, দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন, এই ধরনের র্যাডিকাল ভাষণ নির্বাচনী চক্রে প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে কুমিল্লা‑৪ের মতো সংবেদনশীল এলাকায় যেখানে নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের প্রশ্ন এখনও তীব্র। তিনি উল্লেখ করেন, রাস্তায় রক্ত ঝরানো, আদালতে লড়াই করা, এবং পরিবারে নিরাপত্তাহীনতা—এগুলোই এখনকার রাজনৈতিক বাস্তবতা, যা তরুণ প্রজন্মকে উদ্বিগ্ন করে তুলছে।
অনলাইন সংযোগের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী উপস্থিতির সংখ্যা বেশি ছিল, যা ইঙ্গিত করে যে এই ধরনের আলোচনাসভা সামাজিক মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে শেয়ার হচ্ছে। অংশগ্রহণকারীরা হাসনাতের ‘ব্লাডি সিটিজেন’ ধারণার সঙ্গে একমত প্রকাশ করে, এবং দেশের উন্নয়নের জন্য রাস্তায় রক্তের দানকে সম্মানজনক কাজ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সামগ্রিকভাবে, এই সভা এবং হাসনাতের বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি যোগ করেছে। তিনি রাজনৈতিক দমনের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেন এবং ভবিষ্যতে দেশের শাসনব্যবস্থা স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত রাখতে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। এই রকম প্রকাশনা দেশের রাজনৈতিক গতিবিধিতে কী প্রভাব ফেলবে, তা পরবর্তী নির্বাচনী চক্রে স্পষ্ট হবে।



