রবিবার বিকেল ৪:৪৫টায় নির্বাচন কমিশনের প্রধান কমিশনারের সঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মির্জা ফখরুলের সঙ্গে তিনজন প্রতিনিধি দলীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং ইসির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব মোহাম্মদ জকরিয়া উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের মূল বিষয় ছিল ইসির বিভিন্ন কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও পক্ষপাতের অভিযোগ, যা নির্বাচনের ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মির্জা ফখরুল ইসির কিছু প্রক্রিয়াকে পক্ষপাতমূলক বলে সমালোচনা করেন এবং বলেন, এই ত্রুটিগুলো দ্রুত সমাধান করা হলে কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব। তিনি বিশেষ করে পোস্টাল ব্যালটের গুণগত মান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন, জানিয়ে দেন যে বর্তমান ব্যালটগুলো ত্রুটিপূর্ণ এবং নির্দিষ্ট দলকে সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে তৈরি হয়েছে। সঠিক প্রতীকসহ ব্যালট পেপার সরবরাহের জন্য তাত্ক্ষণিক পদক্ষেপের দাবি তিনি করেন।
বৈঠকে মির্জা ফখরুল ভোটারদের এনআইডি, বিকাশ নম্বর এবং মোবাইল নম্বর সংগ্রহের পদ্ধতিকে কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি এ সংক্রান্ত উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, “প্রচারণার ক্ষেত্রে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই, আচরণবিধি ভঙ্গ করে একতরফা প্রচারণা চালানো হচ্ছে।” তিনি উল্লেখ করেন যে, বিএনপি বারবার অভিযোগ জানিয়েও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।
মির্জা ফখরুলের মতে, ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় পরিকল্পিতভাবে ভোটার স্থানান্তর করা হয়েছে। তিনি স্থানান্তরের সুনির্দিষ্ট তালিকা এবং দায়ী ব্যক্তিদের পরিচয় চেয়েছেন, যাতে এই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, “আমরা এই বিষয়ে বারবার অভিযোগ দিলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।”
বৈঠকের শেষে মির্জা ফখরুল ইসির ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, “কমিশনকে তাদের ত্রুটিগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে এবং নিরপেক্ষতা প্রমাণ করতে হবে।” এভাবে তিনি ইসির স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আহ্বান জানান।
বিএনপি মহাসচিবের এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইসির পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি। তবে নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালীন সময়ে ইসির বিভিন্ন কার্যক্রমের উপর রাজনৈতিক দলগুলোর নজরদারি বাড়ছে বলে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেন।
বিএনপি প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেন যে, পোস্টাল ব্যালটের ত্রুটি এবং ভোটার তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি নির্বাচন প্রক্রিয়ার মৌলিক ন্যায্যতাকে ক্ষুণ্ন করতে পারে। তারা দাবি করেন যে, ইসির দ্রুত সংশোধনী পদক্ষেপ না নিলে নির্বাচনের ফলাফলকে প্রশ্নের মুখে ফেলা হতে পারে।
অন্যদিকে, ইসির কর্মীরা পূর্বে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি চালু করেছে বলে জানিয়েছেন। তবে মির্জা ফখরুলের মতামত অনুযায়ী, এই উদ্যোগগুলোতে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা এখনও বাকি।
বিএনপি মহাসচিবের দলীয় প্রতিনিধিরা বৈঠকের পর সন্ধ্যা ৬টায় সাংবাদিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তাদের উদ্বেগ পুনরায় তুলে ধরেন। তারা ইসির ত্রুটিগুলো দ্রুত সমাধান না হলে নির্বাচনের সুষ্ঠুতা ও বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে বলে সতর্ক করেন।
বৈঠকের মূল দাবি ও পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রেখে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেন, ইসির স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা না হলে নির্বাচনের ফলাফলকে রাজনৈতিক বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে রূপান্তরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে, ইসির কর্মপরিকল্পনা ও সংশোধনী পদক্ষেপের বাস্তবায়ন কীভাবে হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়।
বিএনপি মহাসচিবের দলীয় প্রতিনিধিরা ইসির ত্রুটিগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শেষ করেন, যাতে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও ন্যায্যভাবে পরিচালিত হতে পারে।



