নেদারল্যান্ডসের বাংলাদেশে দূত জোরিস ভ্যান বোমেলেল সম্প্রতি জানিয়েছেন যে, শিক্ষার নামে নেদারল্যান্ডসে প্রবেশের আবেদনগুলোতে এখন বেশি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, বেশ কিছু আবেদনকারী প্রকৃতপক্ষে পড়াশোনা না করে দীর্ঘমেয়াদী বসবাসের সুযোগ খোঁজেন।
এই প্রবণতা লক্ষ্য করে, দূতাবাস গত কয়েক মাসে ভিসা প্রক্রিয়ার চেকপয়েন্টগুলোকে কঠোর করেছে। আবেদনকারীর ইংরেজি দক্ষতা, শিক্ষার উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করার সক্ষমতা এবং যে বিশ্ববিদ্যালয় বা ফ্যাকাল্টিতে ভর্তি হতে চান তার সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকলে আবেদনটি সন্দেহের চোখে দেখা হয়।
বিশেষ করে, যদি কোনো প্রার্থীর ইংরেজি কথোপকথন বা লেখার দক্ষতা পর্যাপ্ত না হয়, অথবা তিনি যে কোর্সে ভর্তি হতে চান তার বিষয়বস্তু ও লক্ষ্য স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করতে না পারেন, তবে ভিসা অনুমোদনের সম্ভাবনা কমে যায়। একইভাবে, বিশ্ববিদ্যালয় বা ফ্যাকাল্টির নাম না জানলে বা ভুল তথ্য দিলে আবেদনটি প্রত্যাখ্যানের দিকে ধাবিত হতে পারে।
দূতাবাসের এই কঠোর পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্য হল, প্রকৃত শিক্ষার্থী যারা নেদারল্যান্ডসের স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে, তাদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া দ্রুততর এবং সহজ করা। এভাবে, সত্যিকারের শিক্ষার্থীরা কম সময়ে অনুমোদন পেয়ে তাদের শিক্ষার পথে অগ্রসর হতে পারবে।
প্রার্থীদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ হল, ভিসা প্রক্রিয়ায় কোনো মধ্যস্থতাকারী বা এজেন্টের ওপর নির্ভর না করা। বিশ্ববিদ্যালয়ে সরাসরি আবেদন করে, ভর্তি নিশ্চিত হলে এবং সমস্ত নথি সঠিকভাবে প্রস্তুত হলে, ভিসা আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে দূতাবাসে পৌঁছায়। এভাবে অতিরিক্ত ফি বা জটিলতা এড়ানো সম্ভব।
এই বক্তব্যটি তিনি ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির লেকচার থিয়েটারে অনুষ্ঠিত একটি সহযোগিতা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানটি নেদারল্যান্ডসের দূতাবাস, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর এন্টারপ্রেনারশিপ ডেভেলপমেন্ট এবং নেদারল্যান্ডস অ্যালামনি অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (NAAB) যৌথভাবে আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর সাইয়েদ ফেরহাত আনোয়ার, যিনি এই উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং দুই দেশের শিক্ষাক্ষেত্রের পারস্পরিক সহযোগিতার সম্ভাবনা আলোচনা করেন।
দূতাবাসের এই সফরের সময়, জোরিস ভ্যান বোমেলেল বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডসের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের কথা উল্লেখ করে বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে দুই দেশই ডেল্টা অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় জল ব্যবস্থাপনা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণে অভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এই যৌথ বাস্তবতা দুই দেশের মধ্যে জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা, সেচ প্রকল্প এবং পরিবেশগত গবেষণায় সহযোগিতা বাড়িয়ে দিয়েছে।
এছাড়া, বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে দুই দেশের সংস্থা ও স্টার্টআপের মধ্যে পারস্পরিক বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তি স্থানান্তরের মাধ্যমে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। নেদারল্যান্ডসের কৃষি ও জলপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে প্রকল্প চালু করে স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করছে।
শিক্ষা ক্ষেত্রে, নেদারল্যান্ডসের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপ ও এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম চালু করেছে, যা উভয় দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে সহায়ক। দূতাবাসের এই নতুন ভিসা নীতি এই ধরনের প্রকৃত একাডেমিক বিনিময়কে আরও সুগম করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দূতাবাসের কঠোর যাচাই প্রক্রিয়া যদিও কিছু আবেদনকারীকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে, তবে এটি শেষ পর্যন্ত সত্যিকারের শিক্ষার্থীদের জন্য সুবিধা বয়ে আনবে। ভিসা অনুমোদনের সময় কমে গেলে, শিক্ষার্থীরা তাদের কোর্স শুরু করার আগে অতিরিক্ত অপেক্ষা না করে সরাসরি ক্লাসে অংশ নিতে পারবে।
প্রতিবেদনটি শেষ করার আগে, আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু ব্যবহারিক পরামর্শ দেওয়া যায়: প্রথমে লক্ষ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি শর্তাবলী ভালোভাবে জানুন, ইংরেজি দক্ষতা বাড়াতে TOEFL বা IELTS প্রস্তুতি নিন, এবং সব নথি—পাসপোর্ট, ভর্তি চিঠি, আর্থিক প্রমাণ—সঠিকভাবে সাজিয়ে রাখুন। এছাড়া, কোনো এজেন্টের মাধ্যমে না গিয়ে সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করুন, যাতে প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় থাকে।
এই পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করলে, নেদারল্যান্ডসে সত্যিকারের শিক্ষার স্বপ্ন পূরণ করা সহজ হবে এবং ভিসা প্রক্রিয়ার অপ্রয়োজনীয় জটিলতা এড়ানো সম্ভব হবে।



