মার্কিন প্রশাসন গাজা শান্তি বোর্ডের একটি খসড়া চাটার প্রায় ষাটটি দেশের কাছে প্রেরণ করেছে। চাটার অনুযায়ী, কোনো দেশ যদি তিন বছরের সদস্যপদ শেষে বোর্ডে থাকা চালিয়ে যেতে চায়, তবে তাকে প্রথম বছরে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার নগদ অর্থ প্রদান করতে হবে। এই শর্ত পূরণ করা না হলে সদস্যপদ সর্বোচ্চ তিন বছরই সীমাবদ্ধ থাকবে এবং পুনর্নবীকরণ চেয়ারম্যানের অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল।
চাটারটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে, প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রের মেয়াদ চাটার কার্যকর হওয়ার তারিখ থেকে সর্বোচ্চ তিন বছর হবে। তিন বছরের মেয়াদ শেষে চেয়ারম্যানের অনুমোদন পেলে পুনর্নবীকরণ সম্ভব, তবে এই অনুমোদন আর্থিক অবদানের ওপর নির্ভরশীল হবে।
বিশেষত, চাটারটি এমন দেশগুলোর জন্য এক ব্যতিক্রমী বিধান রেখেছে যারা প্রথম বছরে এক বিলিয়ন ডলারের বেশি নগদ অর্থ প্রদান করে। এই দেশগুলোকে তিন বছরের সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্তি দেওয়া হবে এবং তারা দীর্ঘমেয়াদী সদস্যপদ উপভোগ করতে পারবে। অর্থাৎ, বড় আর্থিক অবদানকারী দেশগুলোকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দীর্ঘমেয়াদী সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
প্রস্তাবিত চাটারটি প্রথমবারের মতো ব্লুমবার্গ নিউজের মাধ্যমে প্রকাশিত হয় এবং রায়টার্সের হাতে প্রাপ্ত নথি থেকে জানা যায়। যদিও চাটারটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তবে প্রাথমিক খসড়া হিসেবে এটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
বহু দেশ এই আর্থিক শর্তকে কঠোর বলে বিবেচনা করতে পারে, বিশেষ করে যেসব দেশের বাজেট সীমিত এবং গাজা শান্তি প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণের ইচ্ছা রয়েছে। অন্যদিকে, আর্থিকভাবে শক্তিশালী দেশগুলো এই সুযোগকে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব বিস্তারের একটি উপায় হিসেবে দেখতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এই আর্থিক শর্তের ফলে গাজা শান্তি বোর্ডের গঠন ও কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হতে পারে। বড় অবদানকারী দেশগুলোকে কেন্দ্রীয় ভূমিকা দেওয়া হলে, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তাদের প্রভাব বাড়বে এবং ছোট দেশগুলোর কণ্ঠস্বর কমে যেতে পারে।
পরবর্তী ধাপে, চাটারটি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অনুমোদন ও স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে। যদি অধিকাংশ দেশ শর্তগুলো মেনে নেয়, তবে গাজা শান্তি বোর্ডের কার্যক্রমে নতুন আর্থিক ভিত্তি গড়ে উঠবে এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সম্ভাবনা বাড়বে। অন্যদিকে, শর্তগুলো প্রত্যাখ্যান করলে বোর্ডের সদস্যপদ কাঠামো পুনর্বিবেচনা করতে হতে পারে।



