22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeশিক্ষাপ্রধান শিক্ষককে শারীরিকভাবে বের করে দেওয়া এবং আর্থিক দুর্নীতির তদন্তের ফলাফল

প্রধান শিক্ষককে শারীরিকভাবে বের করে দেওয়া এবং আর্থিক দুর্নীতির তদন্তের ফলাফল

দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী মো. মোজাম্মেল হক, ২০১১ সাল থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান দায়িত্বে ছিলেন। তার স্ত্রী, আমেনা বেগমও একই প্রতিষ্ঠানে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক হিসেবে কাজ করতেন। ১৪ আগস্ট ২০২৪ তারিখে বিদ্যালয়ের গভর্নিং কমিটি দাবি করে যে উভয়ই স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন, তবে মো. মোজাম্মেল হক দাবি করেন যে তিনি কোনো স্বেচ্ছা পদত্যাগ করেননি এবং জোরপূর্বক পদত্যাগের মুখোমুখি হয়েছেন।

শিক্ষা বোর্ডের আপিল ও আরবিট্রেশন কমিটির চিঠি পেয়ে তিনি পুনরায় কর্মস্থলে যোগদানের জন্য বিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে উপস্থিত শিক্ষক ও কর্মচারীরা তাকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেয়। একই সময়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির কিছু সদস্য দাবি করেন যে মো. মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।

কমিটির তথ্য অনুযায়ী, হক তার স্ত্রী আমেনা বেগমের নামে বিদ্যালয়ের জমি মাছ চাষের জন্য দখল করিয়ে ছিলেন এবং শিক্ষক আবাসনের জন্য অযোগ্য এক নারীর নামে ঘর বরাদ্দ দিয়েছিলেন। এছাড়া, তিনি এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রশংসাপত্রের বদলে টাকা গ্রহণের অভিযোগে অভিযুক্ত। উভয়ই বিভিন্ন সময়ে বিদ্যালয়ের তহবিল আত্মসাৎ করার অভিযোগে অভিযুক্ত ছিলেন।

শিক্ষা বোর্ডের সূত্রে জানা যায়, ২৩ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে জেলা প্রশাসনের তৎকালীন জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার রাকিবুল ইসলামকে মো. মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে আনা ২৩টি অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে অধিকাংশ অভিযোগ প্রাথমিকভাবে সত্য প্রমাণিত হয়েছে এবং আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অডিটের সুপারিশ করা হয়েছে।

গভর্নিং কমিটির সভাপতি হারুন অর রশিদ জানান যে, ১৪ আগস্ট ২০২৪ তারিখে তিনি ও তার স্ত্রী স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে তদন্ত ও অডিট রিপোর্টে দেখা যায়, হক ও তার স্ত্রী এক কোটি টাকার বেশি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এই ফলাফল সত্ত্বেও মন্ত্রণালয় বা শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে কোনো শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

আজকের ঘটনায় মো. মোজাম্মেল হক স্থানীয় কিছু বাসিন্দার সঙ্গে বিদ্যালয়ে ফিরে আসার চেষ্টা করেন, কিন্তু শিক্ষার্থীরা তাদের বিরোধিতা করে প্রতিবাদ জানায়। হক জানান, যাঁরা তাকে হেনস্তা করেছে, তাদের সন্তানরা একসময় বিদ্যালয়ে পড়ত এবং ৫ আগস্টের পর যারা মব (মোবাইল) করেছিল, তারাই আজকের ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন। তিনি বোর্ডের চিঠি পেয়ে বিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন।

শিক্ষা সংস্থার অভ্যন্তরীণ তদারকি ও আর্থিক অডিটের গুরুত্ব পুনরায় উদ্ভাসিত হয়েছে। বিদ্যালয়ের পরিচালনা কাঠামোর স্বচ্ছতা ও ন্যায়সঙ্গত পদক্ষেপ না নেওয়া হলে শিক্ষার মান ও শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

শিক্ষা সংক্রান্ত কোনো প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিরা যদি অনৈতিক আচরণ বা আর্থিক দুর্নীতির শঙ্কা পান, তবে তা সংশ্লিষ্ট উচ্চতর কর্তৃপক্ষের কাছে অবিলম্বে জানানো উচিত। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে নিয়মিত অডিট ও তদারকি প্রক্রিয়া চালু রাখা প্রয়োজন।

**প্রায়োগিক টিপস:**

– শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক নথি ও সম্পদের ব্যবহার নিয়মিতভাবে পর্যালোচনা করুন।

– কোনো অনিয়মের সন্দেহ হলে, লিখিতভাবে অভিযোগ জানান এবং তার কপি সংরক্ষণ করুন।

– শিক্ষার্থীদের ও অভিভাবকদের সঙ্গে খোলামেলা যোগাযোগ বজায় রাখুন, যাতে তারা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সম্পর্কে সচেতন থাকে।

– স্থানীয় শিক্ষা বোর্ডের অধীনে থাকা তদারকি কমিটিগুলোর কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ করুন।

এই ধরনের ঘটনা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে, যা শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
শিক্ষা প্রতিবেদক
শিক্ষা প্রতিবেদক
AI-powered শিক্ষা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments