ইরানের সরকার এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চালু থাকা ব্যাপক যোগাযোগ বন্ধের পর, ইন্টারনেট সেবা ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। তেহরানের একটি আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রবিবার সকালে শহরের অফিস থেকে ইন্টারনেট সংযোগ পায়, যদিও বেশিরভাগ ইন্টারনেট প্রদানকারী এবং মোবাইল ডেটা এখনও বন্ধ রয়েছে। সীমিত সংযোগের কারণ এখনো স্পষ্ট নয়।
আন্তর্জাতিক কলগুলো মঙ্গলবার থেকে পুনরায় সম্ভব হয়েছে, আর টেক্সট মেসেজিং শনিবার সকালে পুনরায় চালু করা হয়। শনিবারের শেষের দিকে তাসনিম সংবাদ সংস্থা জানায় যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইন্টারনেট অ্যাক্সেস ধীরে ধীরে ফিরিয়ে আনবে, তবে বিস্তারিত তথ্য দেয়া হয়নি। একই সংস্থা অজানা সূত্রের ভিত্তিতে জানায় যে দেশীয় ইনট্রানেটের ওপর ভিত্তি করে স্থানীয় মেসেজিং অ্যাপগুলো শীঘ্রই সক্রিয় হবে।
এই অপ্রত্যাশিত যোগাযোগ বন্ধের পেছনে anti-government প্রতিবাদগুলোর বিস্তার রয়েছে, যা দেশের অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে শুরু হয়েছিল। কয়েক দিন ধরে টেক্সট মেসেজ, আন্তর্জাতিক ফোন কল এবং কখনো কখনো স্থানীয় কলও বন্ধ ছিল। ফলে সরকার ইনট্রানেটের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠেছে, যা স্থানীয় মিডিয়া সাইট, রাইড-হেলিং অ্যাপ, ডেলিভারি সেবা এবং ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্মকে সমর্থন করে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন শনিবার থেকে রুবিকা সহ দেশীয় মেসেজিং অ্যাপগুলোকে প্রচার করছে, যা সপ্তাহের শুরুতে বেশিরভাগ ব্যবহারকারীর কাছে অপ্রাপ্য ছিল। ব্ল্যাকআউটের আগে ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক, এক্স, টেলিগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় অ্যাপগুলো ইতিমধ্যে ইরানে ব্লক করা ছিল, ফলে ব্যবহারকারীদের VPN ব্যবহার করে এই সেবাগুলোতে প্রবেশ করতে হতো।
প্রতিবাদগুলো ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয় এবং মহসা আমিনি ২০২২ সালের মৃত্যুর পর দেশের নেতৃত্বের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এই প্রতিবাদগুলো কমে যাওয়া দেখা গেছে। সরকার এখনো প্রতিবাদে সৃষ্ট মৃত্যুর সঠিক সংখ্যা প্রকাশ করেনি, যদিও নরওয়েতে ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস এই বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে।
ইন্টারনেটের ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রম এবং সামাজিক যোগাযোগে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, তবে ইনট্রানেটের ওপর নির্ভরতা এবং স্থানীয় মেসেজিং অ্যাপের ব্যবহার বাড়ার ফলে তথ্য প্রবাহের স্বচ্ছতা ও স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে যায়। ভবিষ্যতে সরকার কীভাবে এই ডিজিটাল নীতি পরিচালনা করবে এবং আন্তর্জাতিক সংযোগের পুনরুদ্ধার কত দ্রুত হবে, তা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশের উপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।



