রবিবার দুপুরে নরসিংদী জেলার বেলাব উপজেলায় পাহাড় উজিলাব বাজারে দুই স্থানীয় ব্যবসায়ীর মধ্যে তীব্র বিবাদে ৫০ বছর বয়সী জগত মিয়া মারা যান। মৃত্যুর পরই শ্যামল নামের আরেকজন ব্যবসায়ীর বাড়িতে স্থানীয় লোকজন ভাঙচুর ও অগ্নিকাণ্ড করে, যা নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য পুলিশ ও সেনাবাহিনী হস্তক্ষেপ করে।
জগত মিয়া এবং শ্যামল উভয়ই পাহাড় উজিলাব বাজারে বিভাটেকের ব্যবসা চালাতেন। জগত নিয়মিত শ্যামলের দোকান থেকে পুরাতন ও নতুন বিভাটেক কিনে বিক্রি করতেন, ফলে দুজনের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। তবে ওই দিন শ্যামলের দোকান থেকে কোনো ক্রেতা জগতের কাছে পণ্য সরবরাহের সময় কথোপকথন উত্তেজনায় রূপ নেয়।
বিবাদের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জগত হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে নিকটবর্তী বারৈচা হাসপাতালে নিয়ে যায়, যেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। জগতের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে এখনো স্পষ্টতা পাওয়া যায়নি; তবে পুলিশ জানায়, তার মৃত্যুর আগে কোনো শারীরিক আঘাতের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু ক্ষিপ্ত বাসিন্দা শ্যামলের বাড়িতে গিয়ে বিভিন্ন ঘরে ভাঙচুর শুরু করে। তারা শ্যামলের বাড়ির রান্নাঘরে আগুন জ্বালিয়ে দেয়, ফলে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বাড়ে। এই ঘটনার পর দ্রুতই স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
পুলিশ ও সেনাবাহিনীর দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অগ্নিকাণ্ডের বিস্তার রোধে অগ্নিনির্বাপক দলকে ডাকা হয় এবং ভাঙচুরকারী লোকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। শ্যামলকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয় এবং তার বিরুদ্ধে গৃহহিংসা ও অগ্নিকাণ্ডের অভিযোগ দায়ের করা হয়।
বেলাব থানার ওয়ানডি অফিসার এসএম আমানউল্লাহের মতে, জগতের মৃত্যু কয়েক দিন আগে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ায় হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর বাড়িতে ফিরে এসেছিলেন। বিবাদের সময় তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা যান। মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণের জন্য ফরেনসিক পরীক্ষা চালু রয়েছে।
মৃতদেহকে নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে, যেখানে অতিরিক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। শ্যামল বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে গৃহহিংসা, সম্পত্তি ধ্বংস এবং অগ্নিকাণ্ডের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অধিকাংশ স্থানীয় বাসিন্দা ঘটনাস্থল থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে বলা হয়েছে, এবং পুলিশের নির্দেশনা মেনে চলতে আহ্বান জানানো হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনা টুকরা মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশের জানামতে, জগতের মৃত্যুতে কোনো বহিরাগত হস্তক্ষেপের সন্দেহ নেই, তবে তদন্ত চলমান থাকায় ভবিষ্যতে নতুন তথ্য প্রকাশিত হতে পারে। শ্যামলকে হেফাজতে রাখার পাশাপাশি, তার বাড়িতে করা ভাঙচুর ও অগ্নিকাণ্ডের জন্য আইনি প্রক্রিয়া দ্রুততর করা হবে।
এই ঘটনার পর নরসিংদী জেলার আইন প্রয়োগকারী সংস্থা স্থানীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানিয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের বাণিজ্যিক বিবাদে সহিংসতা রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য স্থানীয় মডারেটরদের ভূমিকা বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, পাহাড় উজিলাব বাজারে ব্যবসায়িক বিবাদ থেকে শুরু হওয়া এই দুঃখজনক ঘটনা স্থানীয় সমাজে শক সৃষ্টি করেছে এবং আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।



