জামায়াতের পার্লামেন্টের প্রার্থী খায়রুল কবিরের নিয়োগী জাকারিয়া গৃহীত হুমকি ও তার মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক উত্তেজনা তীব্রতর হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, জাকারিয়া বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকদের গলা কেটে নেওয়ার হুমকি দেন এবং তা সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটি ঘটেছে যখন নির্বাচনের প্রস্তুতি চলমান, এবং বিভিন্ন দলই সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করেছে।
জাকারিয়া জানিয়েছেন, নিজের আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের ওপর বিএনপি প্রার্থীর লোকজন পূর্বে বিভিন্ন সময়ে নির্যাতন চালিয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি একটি প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নেন এবং সেখানে একটি বক্তব্য রাখেন। তার বক্তৃতার কিছু অংশ ভিডিওতে প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে অশোভন শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন। পরবর্তীতে তিনি প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, তার রাগ নিয়ন্ত্রণে না রাখার জন্য তিনি দুঃখিত।
সেই একই দিনে, জাকারিয়া জানান, গুরুদয়াল কলেজে ক্লাস নিতে গিয়ে ছাত্রদলের কিছু সদস্য তাকে হুমকি-ধমকি দিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এ ধরনের হুমকি তাকে নিরাপত্তাহীন অবস্থায় ফেলেছে এবং তিনি সুরক্ষার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা চেয়েছেন। তার এই বক্তব্যের পর, ভিডিওটি দ্রুতই ভাইরাল হয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে।
খায়রুল কবিরের অন্য একজন নিয়োগী জাকারিয়ার মন্তব্যকে কঠোরভাবে নিন্দা করেন। তিনি বলেন, জাকারিয়া আবেগের বশবর্তী হয়ে এই রকম মন্তব্য করেছেন এবং তা দলের নীতি ও শৃঙ্খলার বিরোধী। তদুপরি, তিনি জাকারিয়াকে দলের সদস্য না বলে স্পষ্ট করে জানান এবং তাকে শাসিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে সঙ্গে জাকারিয়া বিভিন্ন স্থানে দুঃখ প্রকাশের কথা জানান।
জাকারিয়ার অভিযোগে উল্লেখিত নির্যাতনের ঘটনা পূর্বে বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিবেদন হয়েছে, যেখানে বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকদের দ্বারা বিরোধী দলের কর্মীদের ওপর হিংসাত্মক আচরণের অভিযোগ উঠে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেনি। এই প্রেক্ষাপটে, উভয় দলের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নির্বাচনের দিন নিকটে আসার সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলো নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছে। পূর্বে নির্বাচনী সময়ে ঘটিত হিংসা ও হুমকির ঘটনা পুনরাবৃত্তি না হওয়ার জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে। জাকারিয়ার ভিডিও এবং তার পরবর্তী দুঃখ প্রকাশের ফলে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, এই ধরনের উন্মুক্ত হুমকি ও আপসেট মন্তব্য নির্বাচনী পরিবেশকে অস্থির করতে পারে এবং ভোটারদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়াতে পারে। তাই উভয় দলই জনমতকে শান্তিপূর্ণভাবে গঠন করার জন্য সংলাপের পথ অনুসরণ করার আহ্বান জানাচ্ছে। ভবিষ্যতে কোনো আইনি পদক্ষেপ বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলে তা রাজনৈতিক উত্তেজনা কমাতে সহায়ক হতে পারে।
এই ঘটনার পর, স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর দায়িত্ব বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে যাতে নির্বাচনের সময় কোনো হিংসা বা হুমকি না ঘটে। উভয় দলের নেতারা ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন, এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা বজায় রাখার জন্য সকল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ইঙ্গিত দিয়েছেন।



