বিশ্ব নম্বর এক আর্যনা সাবালেনকা অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের প্রথম ম্যাচে ফরাসি ওয়াইল্ডকার্ড টিয়ানৎসোয়া রাকোটোমাঙ্গা রাজাওনাহকে ৬-৪, ৬-১ স্কোরে পরাস্ত করে মেলবোর্নে তার শিরোপা রক্ষার পথে অগ্রসর হলেন। ২৭ বছর বয়সী বেলারুশিয়ান শীর্ষ সিডি হিসেবে এই জয়কে তার গেমের নতুন দিক, বিশেষ করে নেটে যাওয়া ও ভলিতে আক্রমণ, সফলভাবে প্রয়োগের প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সাবালেনকা জানান, গ্র্যান্ড স্ল্যামের প্রথম রাউন্ড সবসময়ই চ্যালেঞ্জিং, বিশেষ করে এমন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হলে যাকে আগে কখনো খেলেননি। তিনি যোগ করেন, “আমি সার্ভ ও ভলিতে কাজ করছি, এবং ম্যাচে তা ব্যবহার করতে পেরে খুবই আনন্দিত।” প্রশিক্ষণ ময়দানের তুলনায় ম্যাচের চাপের মধ্যে সাহসিকতার সঙ্গে এগিয়ে যাওয়া তার জন্য একটি নতুন অভিজ্ঞতা ছিল।
ম্যাচের শুরুতে সাবালেনকা প্রথম তিনটি পয়েন্টই হারিয়ে গিয়ে দুর্বল সূচনা করেন। তবে দ্রুতই তিনি ডিউস পর্যন্ত ফিরে এসে আবার গেম জিততে সক্ষম হন। রোড লেভার আরেনায় রোজার ফেডারার উপস্থিতি সত্ত্বেও তিনি প্রথম গেমে হোঁচট খেয়ে এক গেম পিছিয়ে যান, তবে তাড়াতাড়ি সমতা পুনরুদ্ধার করেন।
প্রথম সেটে দু’টি অনিয়ন্ত্রিত ত্রুটি এবং ১৩টি অনফোর্সড এররের পরেও সাবালেনকা রাকোটোমাঙ্গা রাজাওনাহের প্রতিরোধ ভেঙে প্রথম সেটটি ৬-৪ স্কোরে জিততে সক্ষম হন। তিনি বললেন, “আমি আমার স্তর ফিরে পেয়ে খুবই খুশি।” দ্বিতীয় সেটে তিনি ধারাবাহিকভাবে আক্রমণ চালিয়ে ৬-১ স্কোরে ম্যাচটি শেষ করেন।
ম্যাচের মাঝামাঝি সময়ে সাবালেনকা ৪-৪ স্কোরে তার তরুণ প্রতিপক্ষের মাথায় ভুল করে একটি ফরহ্যান্ড মারেন, ফলে তিনি তৎক্ষণাৎ ক্ষমা চেয়ে নেন। এই ঘটনাটি তার কোর্টের শিষ্টাচার ও খেলোয়াড়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাবালেনকা উল্লেখ করেন, “একজন তরুণ, বামহাতি প্রতিপক্ষের সঙ্গে খেলতে হলে কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি দরকার।” তিনি যোগ করেন, “এমন পরিস্থিতিতে নিজের গেমের বৈচিত্র্য দেখাতে পারা গর্বের বিষয়।” তার এই মন্তব্যগুলো তার গেমের বিকাশের প্রতি আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করে।
এই জয়ের মাধ্যমে সাবালেনকা অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের দ্বিতীয় রাউন্ডে রাশিয়ার অ্যানাস্টাসিয়া পাভলুচেনকোভা অথবা চীনের কুয়ালিফায়ার বাই ঝুয়ক্সুয়ানের সঙ্গে মুখোমুখি হবেন। তিনি বর্তমানে পঞ্চম গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা অর্জনের জন্য শীর্ষ প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত।
গত বছর ফাইনালে হারের পর থেকে তিনি তার পারফরম্যান্সে ধারাবাহিক উন্নতি দেখিয়েছেন, বিশেষ করে ব্রিসবেন ইন্টারন্যাশনাল শিরোপা জয়ের পর তার আত্মবিশ্বাসে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। এই জয় তাকে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের শিরোপা রক্ষার পথে দৃঢ় ভিত্তি প্রদান করেছে।
সাবালেনকা আরও জানান, “প্র্যাকটিসে যা করা যায়, তা ম্যাচে প্রয়োগ করা কঠিন, তবে আজ আমি তা সফলভাবে করেছি।” তিনি তার সার্ভ ও ভলির প্রশিক্ষণকে ম্যাচের ফলাফলে সরাসরি সংযুক্ত করে দেখিয়েছেন।
ম্যাচের পর তিনি বললেন, “আমি গর্বিত যে আমি এই টেনিস দেখাতে পারছি।” তার এই আত্মবিশ্বাস এবং গেমের নতুন দিকগুলো ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্যের ইঙ্গিত দেয়।
অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের এই প্রথম রাউন্ডে সাবালেনকার জয় তার শীর্ষ অবস্থানকে পুনরায় নিশ্চিত করেছে এবং তার গেমের বহুমুখিতা ও মানসিক দৃঢ়তা প্রকাশ করেছে। পরবর্তী রাউন্ডে তিনি নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়ে শিরোপা জয়ের পথে অগ্রসর হবেন।



