রবিবার খাগড়াছড়ি জেলার পৌর টাউন হল অডিটোরিয়ামে ‘প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট অংশীজনের ভূমিকা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, অধ্যাপক বিধান চন্দ্র রায় পোদ্দার উপস্থিত ছিলেন এবং প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নের জরুরি প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।
সভার প্রধান অতিথি হিসেবে উপদেষ্টা শিক্ষার ভিত্তি হিসেবে প্রাথমিক শিক্ষার গুরুত্ব উল্লেখ করে বলেন, জাতির ভবিষ্যৎ গঠনে প্রাথমিক স্তরের মানসম্পন্ন শিক্ষা অপরিহার্য। তিনি জোর দেন যে, শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, বিদ্যালয়ের অবকাঠামো, শিক্ষার্থীর উপস্থিতি এবং অভিভাবকের সচেতনতা একসাথে উন্নত করা দরকার।
উপদেষ্টার বক্তব্যে শিক্ষক প্রশিক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়; প্রশিক্ষিত শিক্ষক শিক্ষার্থীর শেখার গতি ও মানোন্নয়নে সরাসরি প্রভাব ফেলে। পাশাপাশি, পুরনো ও অপর্যাপ্ত বিদ্যালয় ভবন, অপর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষাসামগ্রী সমস্যার সমাধানকে অবকাঠামো উন্নয়নের অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
শিক্ষার্থীর নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং অভিভাবকদের শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করা আরেকটি মূল দিক। উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, অভিভাবকের সক্রিয় অংশগ্রহণ শিক্ষার্থীর উপস্থিতি ও পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই, পিতামাতা ও সমাজের সঙ্গে সমন্বয়মূলক কাজের মাধ্যমে শিক্ষার পরিবেশকে সমৃদ্ধ করা সম্ভব।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা সভার সভাপতিত্ব করেন এবং আলোচনার কাঠামো নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি অংশীজনদের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে নীতি বাস্তবায়ন ও তদারকি সহজ হবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন।
সভার উদ্বোধনে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত স্বাগত জানিয়ে স্থানীয় শিক্ষার বর্তমান অবস্থা ও উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তার বক্তব্যে জেলা পর্যায়ে শিক্ষার উন্নয়নের জন্য সরকারী ও বেসরকারি সংস্থার সহযোগিতা প্রয়োজন বলে জোর দেওয়া হয়।
বিশেষ অতিথি হিসেবে সিপিইআইএমএইচ-এর মহাপরিচালক তসলিমা আক্তার এবং খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা উপস্থিত ছিলেন। তারা শিক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্যোগে অংশগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করে এবং স্থানীয় স্তরে সমন্বিত কাজের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
সভায় শিক্ষা কর্মকর্তা, শিক্ষক-শিক্ষিকা, জনপ্রতিনিধি এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট অংশীজন উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা চলাকালে প্রাথমিক শিক্ষার মুখোমুখি চ্যালেঞ্জ, যেমন শিক্ষকের ঘাটতি, অবকাঠামোর দুর্বলতা এবং শিক্ষার্থীর অনুপস্থিতি, বিশদভাবে বিশ্লেষণ করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার প্রকাশ করে এবং পরবর্তী পদক্ষেপের রূপরেখা তৈরি করেন।
প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে অংশীজনের সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করতে, পাঠকরা নিজেরা কী করতে পারেন তা ভাবা জরুরি। স্থানীয় বিদ্যালয়ের পিতামাতা সভায় অংশগ্রহণ, শিক্ষকের প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমর্থন, এবং বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য স্বেচ্ছাসেবী কাজ করা কিছু ব্যবহারিক পদক্ষেপ হতে পারে। এই ধরনের ছোট ছোট উদ্যোগগুলো মিলিত হলে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মানে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে।



