সিরিয়ার সরকারী সেনাবাহিনী রবিবার ইরাকের সীমানার কাছে অবস্থিত দেইর এজোর প্রদেশের ওমর তেলক্ষেত্র এবং কনোকো গ্যাসক্ষেত্রের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছে। এই দুইটি সম্পদ সিরিয়ার সর্ববৃহৎ তেল ও গ্যাস ক্ষেত্রের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত, যা দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ওমর তেলক্ষেত্র, যা পূর্ব সিরিয়ার তেলসমৃদ্ধ অঞ্চলে অবস্থিত, বহু বছর ধরে যুদ্ধের ছায়ায় ছিল এবং উৎপাদন ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। কনোকো গ্যাসক্ষেত্রও একইভাবে কৌশলগত গুরুত্ব বহন করে, কারণ এটি দেশের গ্যাস সরবরাহের একটি বড় অংশ নিশ্চিত করে। উভয় ক্ষেত্রই সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে নিয়ন্ত্রণের লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।
দেইর এজোর প্রদেশটি ইরাকের সীমান্তের নিকটে অবস্থিত এবং তেল ও গ্যাসের সমৃদ্ধি এটিকে আঞ্চলিক শক্তির জন্য আকর্ষণীয় করে তুলেছে। এই অঞ্চলে আরব গোত্রীয় যোদ্ধা ও সিরিয়ার সরকারী বাহিনীর সমন্বিত শক্তি সম্প্রতি অগ্রসর হয়ে এই সম্পদগুলোকে পুনরায় সরকারী নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছে।
সিরিয়ার নিরাপত্তা সূত্রের মতে, আরব-সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকায় সরকারী বাহিনীর অগ্রগতি আরব গোত্রীয় যোদ্ধাদের সমর্থন পেয়ে ঘটেছে। এই সমন্বয়মূলক অভিযান শেষমেশ তেল ও গ্যাসক্ষেত্রগুলোকে সরকারী নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে এনেছে, যা পূর্বে কুর্দি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর হাতে ছিল।
কুর্দি-নেতৃত্বাধীন সশস্ত্র গোষ্ঠী, যারা দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলে উপস্থিত, তাদের সঙ্গে সংঘর্ষের পরিপ্রেক্ষিতে সিরিয়ার সেনাবাহিনী এই সম্পদগুলো দখল করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই অগ্রগতি থামাতে আহ্বান জানানো হলেও, সিরিয়ার সরকারী বাহিনী উত্তর-পূর্বের আরব-সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকায় তাদের অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সরকার এই ঘটনার প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করে, তেল-গ্যাস ক্ষেত্রের স্বেচ্ছাচারী দখল আন্তর্জাতিক নীতি লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করে এবং সিরিয়ার বাহিনীর ওপর চাপ বাড়ানোর ইঙ্গিত দেয়। তবে সিরিয়ার সরকারী পক্ষের দৃঢ় অবস্থান স্পষ্ট, তারা জাতীয় সম্পদের স্বায়ত্তশাসন রক্ষার জন্য কোনো বহিরাগত হস্তক্ষেপ স্বীকার করবে না।
আঞ্চলিক কূটনীতিকরা উল্লেখ করেন, সিরিয়ার এই পদক্ষেপ তেল-গ্যাস সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারকে তার অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা যায়। একই সঙ্গে, এটি যুক্তরাষ্ট্র-সিরিয়া সম্পর্কের জটিলতা বাড়িয়ে তুলতে পারে, বিশেষ করে সশস্ত্র সহায়তা ও নিরাপত্তা গ্যারান্টি সংক্রান্ত আলোচনায়।
একজন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক বলেন, “সিরিয়ার তেল ও গ্যাস ক্ষেত্রের পুনরায় দখল তার বাজেট ঘাটতি পূরণে সহায়তা করবে এবং পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল সরবরাহ করবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “কিন্তু এই ধরনের পদক্ষেপ যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ায়, তবে তা দীর্ঘমেয়াদে দেশের নিরাপত্তা পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে।”
দুইটি ক্ষেত্রের দখল সিরিয়ার সাম্প্রতিক সামরিক সাফল্যের ধারাবাহিকতা রূপে দেখা হচ্ছে, যেখানে সরকারী বাহিনী পূর্বের তেল ট্যাঙ্কার দখল এবং রাশিয়ান তেল ট্যাঙ্কার সহায়তা সহ বিভিন্ন অপারেশন সম্পন্ন করেছে। এই ধারাবাহিকতা সিরিয়ার ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানকে পুনর্গঠন করার লক্ষ্যে গৃহীত কৌশলগত পদক্ষেপের অংশ হিসেবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
ভবিষ্যতে সিরিয়ার সরকারী বাহিনী এই অঞ্চলে অতিরিক্ত তেল ও গ্যাস সম্পদ পুনরুদ্ধারের জন্য আরও অভিযান চালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রত্যাশা থাকবে যে সিরিয়া এই সম্পদগুলোকে স্বচ্ছভাবে পরিচালনা করবে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কূটনৈতিক সংলাপকে অগ্রাধিকার দেবে।
সারসংক্ষেপে, সিরিয়ার সরকারী সেনাবাহিনীর ওমর তেলক্ষেত্র ও কনোকো গ্যাসক্ষেত্র দখল আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সমীকরণে নতুন একটি মাত্রা যোগ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধী অবস্থান এবং কুর্দি গোষ্ঠীর সঙ্গে চলমান সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে, এই পদক্ষেপ সিরিয়ার অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা এবং আঞ্চলিক শক্তি ভারসাম্যের ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তা সময়ের সাথে স্পষ্ট হবে।



