নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা উপজেলায় লেঙ্গুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান ভূঁইয়াকে আদালত চলাকালীন ইউপি কর্মকর্তার কাজের পথে বাধা সৃষ্টি, আদালতের প্রতি বিরূপ মন্তব্য এবং অবমাননা করার অভিযোগে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ জারি করা হয়েছে। আদেশটি রবিবার স্থানীয় সরকার বিভাগের ইউপি‑১ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মো. মোতাছেম বিল্যাহের স্বাক্ষরে প্রকাশিত হয়।
প্রশাসনিক নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, চেয়ারম্যান ভূঁইয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার বদলে, তিনি ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যক্রমে বাধা দিয়ে আদালতের গৌরব হ্রাসের চেষ্টা করেছেন। এছাড়া, চলমান মোবাইল কোর্টে তিনি উগ্র মন্তব্য করে, উপস্থিত উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে অসম্মানিত করেছেন।
মোবাইল কোর্টের সময় চেয়ারম্যানের এই হস্তক্ষেপে আদালতের কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। আদালত চলাকালীন তিনি কোর্টের আদেশ অনুসরণে বাধা দিয়ে, বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক প্রবাহকে ব্যাহত করার চেষ্টা করেছেন। এই ধরনের আচরণকে আদালতের প্রতি অবমাননা এবং শৃঙ্খলা লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
উল্লেখিত নথিতে আরও বলা হয়েছে, চেয়ারম্যান ভূঁইয়া ইউনিয়ন পরিষদের ক্ষমতা ব্যবহার করে, প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণে আইনবহির্ভূত কাজ করেছেন। তার কর্মকাণ্ডকে ইউনিয়ন পরিষদের স্বার্থের বিরোধী এবং জনস্বার্থের ক্ষতিকারক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ধারা ৩৪(৪) (ঘ) অনুযায়ী, চেয়ারম্যানের ওপর আরোপিত অভিযোগগুলোকে অপরাধমূলক কার্যক্রম হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। একই আইনের ধারা ৩৪(১) অনুসারে, এই ধরনের অপরাধের জন্য চেয়ারম্যানকে তার পদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা যায়।
সাময়িক বরখাস্তের আদেশটি যথাযথ অনুমোদনপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে জারি করা হয়েছে এবং তা অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে নথিতে উল্লেখ আছে। আদেশে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, চেয়ারম্যানের পদত্যাগের কার্যকরী তারিখ থেকে তিনি ইউনিয়ন পরিষদের কোনো সিদ্ধান্তে অংশগ্রহণ বা কোনো প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারবেন না।
এই সিদ্ধান্তের ফলে লেঙ্গুরা ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে অস্থায়ী পরিবর্তন আসবে। বরখাস্তের পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে, স্থানীয় সরকার বিভাগ নতুন চেয়ারম্যানের নিয়োগ বা অস্থায়ীভাবে কোনো কর্মকর্তা নিযুক্ত করার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে। তবে, নতুন নিয়োগের প্রক্রিয়া ও সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, এই ধরনের শৃঙ্খলা রক্ষার পদক্ষেপ স্থানীয় প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে, এটি স্থানীয় স্তরে ক্ষমতার অপব্যবহার রোধের একটি সতর্কতা হিসেবে কাজ করবে। ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা এড়াতে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের আইনগত দায়বদ্ধতা ও নৈতিক দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে হবে।
পূর্বে এই বিষয়টি সম্পর্কিত প্রতিবেদনগুলোতে চেয়ারম্যানের সাময়িক বরখাস্তের পূর্বের ঘটনার উল্লেখ রয়েছে, যা স্থানীয় রাজনৈতিক পরিবেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বর্তমান আদেশের ফলে লেঙ্গুরা ইউনিয়নের প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠন হবে এবং স্থানীয় জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে নতুন ব্যবস্থাপনা গঠন হবে। এই পরিবর্তনগুলো কীভাবে বাস্তবায়িত হবে এবং স্থানীয় জনগণের ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তা আগামী সপ্তাহে স্পষ্ট হবে।



