রবিবার সকাল কুড়িগ্রাম পুলিশ লাইন্স মাঠে জেলা পুলিশের মাস্টার প্যারেডের সঙ্গে মাসিক কল্যাণ সভা ও অপরাধ পর্যালোচনা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। জেলা পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট খন্দকার ফজলে রাব্বি, পিপিএম, অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবং নিরাপত্তা, সেবা ও পেশাদারিত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
প্যারেডের সূচনা সুপারিনটেনডেন্টের অভিবাদন গ্রহণে হয়, এরপর পুলিশ লাইন্সের বিভিন্ন ইউনিটের শৃঙ্খলাবদ্ধ চলাচল ও প্রশিক্ষণ প্রদর্শন করা হয়। প্যারেড শেষে মাল্টিপারপাস ড্রিলশেডে কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে কর্মীদের কল্যাণ, শৃঙ্খলা ও দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো আলোচনা করা হয়।
সভায় কুড়িগ্রাম জেলায় কর্মরত তিনজন কর্মকর্তা অবসর গ্রহণের উপলক্ষে বিদায় সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। বিদায় অনুষ্ঠানে তাদের দীর্ঘকালীন সেবা ও অবদানের স্বীকৃতি জানিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।
ডিসেম্বর ২০২৫ মাসে জেলায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে উৎকর্ষতা প্রদর্শনকারী ১৩ জন পুলিশ সদস্যকে পুরস্কার প্রদান করা হয়। পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে শৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন ও প্রশাসনিক কাজের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখার জন্য সম্মাননা প্রদান করা হয়।
অপরাধ পর্যালোচনা সভা জেলা পুলিশ সুপারিনটেনডেন্টের কার্যালয় কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় গত মাসের অপরাধ প্রবণতা, তদন্তের অগ্রগতি ও শাস্তিমূলক পদক্ষেপের বিশ্লেষণ করা হয়। সংশ্লিষ্ট ইউনিটের প্রধানরা রিপোর্ট উপস্থাপন করে, অপরাধের ধরন ও স্থানীয় প্রভাব সম্পর্কে তথ্য শেয়ার করেন।
সভায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করা হয়। কুড়িগ্রাম জেলায় নির্বাচনকে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও নিরাপদ রাখতে ভোটকেন্দ্রের সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সকল পুলিশ সদস্যকে উচ্চ সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে আহ্বান জানানো হয়।
উল্লেখযোগ্য উপস্থিতিদের মধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট (প্রশাসন ও অর্থ) এ.এস.এম. মুক্তারুজ্জামান, সদর সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট মো. মাসুদ রানা, নাগেশ্বরী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট গোলাম মোর্শেদ, পুলিশ হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার আখতারুজ্জামান এবং বিভিন্ন থানা ও ইউনিটের প্রধানরা ছিলেন।
এই ধরনের সমন্বিত সভা কুড়িগ্রাম জেলায় নাগরিক নিরাপত্তা ও সেবা মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শৃঙ্খলা বজায় রাখা, কর্মীদের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং অপরাধের পূর্বাভাসে সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পায়।
আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়ন, ভোটকেন্দ্রের পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং নির্বাচনী কর্মীদের প্রশিক্ষণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এছাড়া, অপরাধ দমন ও তদন্তে ত্বরান্বিত কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া, বিশেষ করে গ্যাং কার্যক্রম ও সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সুপারিনটেনডেন্টের নির্দেশে সকল ইউনিটকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে বলা হয়েছে, যাতে নির্বাচনকালে কোনো অশান্তি বা অনিয়ম না ঘটে। একই সঙ্গে, কল্যাণ সভায় কর্মীদের স্বাস্থ্য, পরিবারিক সুবিধা ও ক্যারিয়ার উন্নয়নের বিষয়েও আলোচনা করা হয়, যা কর্মীর মনোবল বাড়াতে সহায়ক হবে।
কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশের এই মাসিক সমাবেশের মাধ্যমে শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব ও নাগরিক সেবার মানোন্নয়নকে নতুন দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে নিয়মিতভাবে এ ধরনের সভা চালিয়ে গিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসের সেতু গড়ে তোলাই মূল লক্ষ্য।



