ঢাকা‑উত্তরা পশ্চিমের সেক্টর‑১৪, রোড‑১২-এ শুক্রবার সন্ধ্যা ৬:৫০ টার দিকে একটি গোপন আক্রমণ ঘটেছে। এক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা কর্মী মহবুব আলমের উপর আক্রমণকারী দল তার লাইসেন্সপ্রাপ্ত শটগান ছিনিয়ে নেয় এবং গাড়ি থেকে নামা এক ব্যক্তিকে অপহরণ করে। অপরাধের পর পুলিশ现场ে পৌঁছে সিসিটিভি রেকর্ড সংগ্রহ করে এবং উদ্ধার কাজ শুরু করেছে।
উত্তরা পশ্চিম থানা অফিসার‑ইন‑চার্জ কাজি রফিক জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর পুলিশ দল সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ করেছে এবং অপহৃত ব্যক্তির সন্ধানে অনুসন্ধান চালু করেছে। একই সঙ্গে চুরি হওয়া শটগানটি পুনরুদ্ধারের জন্য বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে।
মহবুব আলম, ৫৭ বছর বয়সী, অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মী, আলাল গ্রুপের প্রোটোকল অফিসার হিসেবে কাজ করতেন এবং মাঝে মাঝে গনস্লিংগার হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। তার লাইসেন্সপ্রাপ্ত টার্কি‑মেড ১২‑বোর শটগান এবং দশটি কার্ট্রিজ ছিল। তিনি রোড‑১২-এ একটি বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকাকালীন একটি সাদা টয়োটা প্রাডো, একটি নিসান এক্স‑ট্রেইল এবং একটি মোটরসাইকেল উপস্থিত হয়।
প্রাডোর বামদিকের দরজা খুলে মহবুব আলমের সামনে একজন ব্যক্তি নেমে আসে। একই সময়ে এক্স‑ট্রেইল থেকে চারজন এবং মোটরসাইকেল থেকে দুইজন আক্রমণকারী দ্রুতই মহবুবের দিকে এগিয়ে আসে। একজন আক্রমণকারী লাঠি দিয়ে তার মাথা আঘাত করে তাকে মাটিতে ফেলে দেয়, আর অন্যজন তার নিজের শটগান ব্যবহার করে বাম চোয়ালে আঘাত হানে, ফলে তার চোয়াল ভাঙে এবং গুরুতর আঘাত পায়।
আক্রমণকারীরা শটগানটি ছিনিয়ে নেয় এবং প্রাডো থেকে নেমে যাওয়া ব্যক্তিটিকে জোরপূর্বক নিসান এক্স‑ট্রেইলে ঠেলে দিয়ে দ্রুত গাড়ি চালিয়ে চলে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাটি লক্ষ্য করে তৎক্ষণাৎ পুলিশকে জানায়।
মহবুব আলমকে স্থানীয় উত্হারা আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ডি.এম.সি. হাসপাতালে রেফার করা হয় এবং পরে কম্বাইন্ড মিলিটারি হসপিটাল (সিএমএইচ) এ ভর্তি করা হয়, যেখানে তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন।
অপরাধের পরপরই, আহত নিরাপত্তা কর্মীর পুত্র আব্দুল্লাহ ইসমায় আজাম উক্ত থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আক্রমণকারীরা মহবুবের শটগান চুরি করার পাশাপাশি প্রাডো থেকে নেমে যাওয়া ব্যক্তিটিকে অপহরণ করে গাড়িতে নিয়ে গিয়ে পালিয়ে যায়।
পুলিশ তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত সিসিটিভি ক্যামেরার রেকর্ড সংগ্রহ করেছে এবং সংশ্লিষ্ট গাড়িগুলোর নম্বর প্লেট ও চালকের পরিচয় অনুসন্ধান করছে। বর্তমানে গাড়িগুলোর রেজিস্ট্রেশন তথ্য যাচাই করা হচ্ছে এবং সন্দেহভাজনদের সনাক্ত করার জন্য ড্রাইভারদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে।
উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্তকর্তারা জানিয়েছেন, অপরাধী দলটি সশস্ত্র এবং পরিকল্পিতভাবে কাজ করেছে, ফলে ঘটনাটির গম্ভীরতা বাড়েছে। তারা বলছেন, অপহৃত ব্যক্তির নিরাপদ মুক্তি ও চুরি হওয়া শটগান পুনরুদ্ধারের জন্য বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মহবুব আলমের চিকিৎসা অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল, তবে চোয়ালের ভাঙ্গনের কারণে দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসন প্রয়োজন হতে পারে। তার পরিবার ও সহকর্মীরা তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন।
এই ঘটনার পর, নিরাপত্তা সংস্থাগুলি এবং গনস্লিংগারদের লাইসেন্স প্রক্রিয়া ও সুরক্ষা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে সময়ে সময়ে আপডেট দেওয়া হবে।
সামাজিক নিরাপত্তা ও জনসাধারণের সুরক্ষার দৃষ্টিকোণ থেকে, এই ধরনের সশস্ত্র অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়ে বলা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এধরনের ঘটনা রোধে নিরাপত্তা কর্মীদের সুরক্ষা ও শটগান লাইসেন্সের নিয়মকানুন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।



