সিলেট টাইটান্স ও নোয়াখালি এক্সপ্রেসের মধ্যে বাঙ্লাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ২০২৫-২৬ মৌসুমের একটি তীব্র টি২০ ম্যাচে সিলেট শেষ ওভারের এক রান পার্থক্যে জয়লাভ করে। ম্যাচটি সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় এবং দু’দলই ১৪৪ রান লক্ষ্য করে শুটিং শুরু করে। শুটিং শেষে সিলেট ১৪৪/৯ স্কোরে বিজয়ী হয়ে উঠে, নোয়াখালি ১৪৩/৭ দিয়ে হারের মুখে পড়ে।
সিলেটের শুটিং শুরুতে দ্রুত দুইটি উইকেট নষ্ট হয়; সাইম আয়ুব শূন্যে এবং রনি তালুকদার মাত্র নয় রান করে বেরিয়ে যায়। এই প্রাথমিক ক্ষতি সিলেটের শুটিংকে অস্থির করে দেয়, তবে মাঝারি পর্যায়ে পারভেজ হোসেন ইমন মাঝামাঝি স্থিতি তৈরি করেন। ইমন ৪১ ball-এ ৬০ রান সংগ্রহ করেন, যার মধ্যে ছয়টি চৌকো এবং দুইটি ছয়ের শট অন্তর্ভুক্ত। তার আক্রমণাত্মক খেলা শুটিংকে পুনরুজ্জীবিত করে এবং দলকে লক্ষ্য অর্জনের পথে এগিয়ে নিয়ে যায়।
ক্যাপ্টেন মেহেদি হাসান মিরাজও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি ৩৩ রান যোগ করে ইমনের সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলেন এবং শুটিংয়ের চাপকে সামাল দেন। মিরাজের স্থিতিশীলতা ও ইমনের দ্রুত স্কোরিংয়ের সমন্বয় সিলেটকে ১২৫/৮ স্কোরে নিয়ে আসে, তবে ইমন আউট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আবার কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
ইমন আউট হওয়ার পর নোয়াখালির বোলার মেহেদি হাসান রানা ত্রিপল উইকেটের মাধ্যমে হ্যাটট্রিক সম্পন্ন করেন। রানা প্রথমে মিরাজকে, তারপর দুইজন অতিরিক্ত ব্যাটসম্যানকে আউট করেন, ফলে সিলেটের শুটিং ১২৫/৮ অবস্থায় আটকে যায়। হ্যাটট্রিকের পর সিলেটের কাছে শেষ ওভারে মাত্র ১৩ রান বাকি থাকে এবং দুইটি উইকেট অবশিষ্ট থাকে।
শেষ ওভারে এথান ব্রুকস শটের মাধ্যমে শুটিংকে পুনরায় জীবন্ত করে তোলেন। তিনি প্রথম ডেলিভারিতে একটি বাউন্ডারি এবং পরের ডেলিভারিতে একটি ছয় মারেন, যা নোয়াখালির বোলার সাব্বির হোসেনকে চ্যালেঞ্জ করে। তবে ব্রুকসের শেষের আগে রানআউট হয়ে যায়, ফলে শুটিংয়ের শেষ দুই ডেলিভারিতে সিলেটকে মাত্র দুই রান দরকার থাকে।
শেষ ডেলিভারিতে নোয়াখালি একটি ওয়াইড দেয়, ফলে সিলেটের স্কোর ১৪৪/৯ হয়ে যায়। এরপর একক রান নিয়ে সিলেট শেষ ওভারে জয় নিশ্চিত করে। এই শেষ মুহূর্তের উত্তেজনা বাঙ্লাদেশের টি২০ ভক্তদের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
নোয়াখালি এক্সপ্রেসের ব্যাটিং পারফরম্যান্সও নজরকাড়া ছিল। তারা ১৪৩/৭ স্কোরে শেষ করে, যার মধ্যে মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন ৫১ ball-এ ৬১* রান তৈরি করেন। অঙ্কনের স্থিতিশীলতা দলকে লক্ষ্য অর্জনের কাছাকাছি নিয়ে যায়, তবে শেষের ওভারগুলোতে রানের ঘাটতি দেখা দেয়।
বোলিং দিক থেকে নোয়াখালির খালেদ আহমেদ সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন; তিনি ৪ ওভারে ২৩ রান দিয়ে চারটি উইকেট নেন। তার সুনির্দিষ্ট লাইন ও দৈর্ঘ্য সিলেটের ব্যাটসম্যানদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এবং শুটিংকে ধীর করে দেয়।
সিলেট টাইটান্সের এই জয় তাদের প্রথম ম্যাচের পরাজয়ের পর একটি গুরুত্বপূর্ণ মনোবল বৃদ্ধি করবে। দলটি পূর্বে রজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিরুদ্ধে হারে ছিল, তবে এই জয় তাদের পরবর্তী ম্যাচে আত্মবিশ্বাস জোগাবে।
অন্যদিকে নোয়াখালি এক্সপ্রেসকে তাদের প্রথম দুই ম্যাচের পরাজয় থেকে পুনরুদ্ধার করতে হবে। দলটি এখন পর্যন্ত কোনো জয় না পেয়ে ধারাবাহিক পরাজয়ের মুখে রয়েছে এবং পরবর্তী ম্যাচে কৌশলগত পরিবর্তন আনতে হবে।
উভয় দলই আগামী সপ্তাহে নির্ধারিত লিগের পরবর্তী রাউন্ডে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে। সিলেটের জন্য এই জয় একটি সিজনের সূচনা হিসেবে কাজ করবে, আর নোয়াখালির জন্য এটি পুনর্গঠন ও উন্নতির সময়সূচি নির্ধারণের সুযোগ হবে।



