যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী সপ্তাহে সুইজারল্যান্ডের দাভোস স্কি রিসোর্টে উপস্থিত হতে যাচ্ছেন। এটি তার ছয় বছর পরের প্রথম উপস্থিতি, যেখানে তিনি বিশ্ব রাজনীতিবিদ ও অর্থনৈতিক নেতাদের সঙ্গে মিলিত হবেন। ট্রাম্পের মূল লক্ষ্য দেশীয় ভোটারদের কাছে গৃহমূল্য সমস্যার সমাধান উপস্থাপন করা।
দাভোসে তার উপস্থিতি গ্রীনল্যান্ড অধিগ্রহণের পরিকল্পনা নিয়ে বাড়তে থাকা আন্তর্জাতিক উত্তেজনার মাঝেও ঘটছে। ইউরোপীয় ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে তার সাম্প্রতিক ট্যারিফ হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে, এই শীতকালীন সম্মেলনটি বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও বাণিজ্য নীতির আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রূপ নেবে।
ট্রাম্পের বয়স ৭৯ বছর, তবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের গৃহবাজারে নতুন নীতি প্রস্তাব করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তিনি গৃহমূল্য কমাতে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে সহায়ক উদ্যোগ উপস্থাপন করবেন। এতে সম্ভাব্যভাবে অবসরকালীন সঞ্চয়কে ডাউন পেমেন্টের জন্য ব্যবহার করার অনুমতি অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
এই নীতি প্রস্তাবের পেছনে ট্রাম্পের রাজনৈতিক গণতান্ত্রিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার ফলে ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে, যদিও তিনি “সোনালী যুগ”ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল তার পার্টির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
সাম্প্রতিক একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, ৫৮ শতাংশ আমেরিকান ট্রাম্পের প্রথম বছরকে ব্যর্থ বলে বিবেচনা করছেন, বিশেষ করে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে। এই মতামত তার পুনর্নির্বাচনের পরবর্তী কৌশলকে প্রভাবিত করতে পারে।
ট্রাম্পের সমর্থকগণও বিদেশ নীতির প্রতি তার অতিরিক্ত মনোযোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। “আমেরিকা ফার্স্ট” নীতির ধারাবাহিকতা এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে তার সক্রিয় ভূমিকা কিছু সমর্থকের মধ্যে প্রশ্ন তুলেছে।
দাভোসে ট্রাম্পের বক্তৃতা মূলত সুইস পর্বতমালার পটভূমিতে যুক্তরাষ্ট্রের গৃহবাজারের সমস্যার উপর কেন্দ্রীভূত হবে। তিনি দেশের গৃহমূল্য হ্রাসের জন্য নির্দিষ্ট পদক্ষেপের ঘোষণা দিতে পারেন, যা ভোটারদের কাছে তার অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি পুনরায় উপস্থাপন করবে।
দাভোসের শীতল পরিবেশে আন্তর্জাতিক নেতারা ট্রাম্পের গৃহমূল্য নীতি ছাড়াও তার অন্যান্য নীতি, যেমন ট্যারিফ, ভেনেজুয়েলা, ইউক্রেন, গাজা ও ইরান সংক্রান্ত পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করবেন। এই বিষয়গুলো তার প্রথম বছর পুনরায় মূল্যায়নের অংশ হিসেবে উঠে আসবে।
ট্রাম্পের গ্রীনল্যান্ড অধিগ্রহণের আকাঙ্ক্ষা এখনও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজরে রয়েছে। এই পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানকে পরিবর্তন করতে পারে, ফলে দাভোসে আলোচনার বিষয়বস্তু আরও জটিল হয়ে উঠবে।
দাভোসের শীর্ষস্থানীয় বৈশ্বিক শীর্ষ সম্মেলনে ট্রাম্পের উপস্থিতি তার রাজনৈতিক অবস্থানকে পুনরায় শক্তিশালী করার একটি সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে, তার নীতি ও বক্তব্যের প্রভাব দেশীয় ভোটারদের মনোভাবের উপর নির্ভরশীল থাকবে।
দাভোসে অনুষ্ঠিত হওয়া শীর্ষ সম্মেলনের সময় ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী গৃহমূল্য কমাতে অবসরকালীন তহবিলের ব্যবহার অনুমোদনের প্রস্তাব থাকবে। এই পদক্ষেপটি গৃহঋণগ্রহীতাদের জন্য নতুন আর্থিক বিকল্প তৈরি করতে পারে।
সংক্ষেপে, ট্রাম্পের দাভোস সফর আন্তর্জাতিক নীতি, অর্থনৈতিক কৌশল এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের সংযোগস্থল হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তার ঘোষিত উদ্যোগগুলো কীভাবে বাস্তবায়িত হবে এবং ভোটারদের প্রতিক্রিয়া কী হবে, তা পরবর্তী সময়ে স্পষ্ট হবে।



