28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeস্বাস্থ্যসিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্নরা ৮‑পয়েন্ট দাবি মেনে স্ট্রাইক শেষ...

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্নরা ৮‑পয়েন্ট দাবি মেনে স্ট্রাইক শেষ করেছে

সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্নরা আজ বিকেলে প্রায় ৩৮ ঘণ্টা চলা কর্মবিরতি শেষ করে কাজের পুনরারম্ভের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আটটি দাবির স্বীকৃতি পাওয়ার পর ইন্টার্নরা স্ট্রাইক প্রত্যাহার করেছে। ইন্টার্নরা আগামীকাল সকাল আটটায় দায়িত্ব পুনরায় গ্রহণ করবে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সব নিরাপত্তা ব্যবস্থা দ্রুত কার্যকর করা হবে।

স্ট্রাইকটি শুক্রবার রাতের দিকে শুরু হয়, যখন একটি রোগীর আত্মীয়দের সঙ্গে ইন্টার্নদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনার পর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ইন্টার্নরা কর্মস্থলে উপস্থিত না থাকার সিদ্ধান্ত নেয়। ইন্টার্নরা দাবি করছিলেন যে রোগীর আত্মীয়দের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ রোগীর গোপনীয়তা ও চিকিৎসা মানের ক্ষতি করে।

আজ সকালেই হাসপাতালের প্রশাসনের সঙ্গে একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে হাসপাতালের পরিচালক, নিরাপত্তা প্রধান এবং ইন্টার্ন প্রতিনিধিরা অংশ নেন। ইন্টার্নদের আটটি দাবি বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করা হয় এবং কর্তৃপক্ষ সেগুলো মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।

দাবিগুলোর মধ্যে প্রধান ছিল হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ারে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি, বিশেষত আন্সার সদস্যদের রাউন্ড‑দ্য‑ক্লক তত্ত্বাবধান। এছাড়া কাজের পরিবেশের উন্নতি, চিকিৎসা সরঞ্জামের সঠিক ব্যবহার এবং শিফটের ন্যায্য বণ্টনের মতো বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত ছিল। দাবিগুলোর মধ্যে ইন্টার্নদের জন্য আলাদা বিশ্রাম ঘর, শিফটের সময়সূচি প্রকাশের স্বচ্ছতা এবং জরুরি অবস্থায় ত্বরিত সহায়তার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত ছিল।

ইন্টার্ন মোহাম্মদ সাদিক জানান, “আমরা নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম; এখন কর্তৃপক্ষ আমাদের চাহিদা মেনে নিয়েছে, তাই স্ট্রাইক প্রত্যাহার করছি।” তিনি আরও যোগ করেন, “রোগীর সেবা বাধাগ্রস্ত হওয়া আমাদের জন্য অগ্রহণযোগ্য ছিল।” ইন্টার্নরা জানান, নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকলে রোগীর কক্ষের মধ্যে হিংসা ও অশান্তি বৃদ্ধি পায়, যা চিকিৎসা পরিবেশকে অস্থিতিশীল করে।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রশেদ মুনির বলেন, “ইন্টার্নদের নিরাপত্তা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার; আন্সার সদস্যদের নিয়োগ ইতিমধ্যে কার্যকর করা হবে।” তিনি নিশ্চিত করেছেন যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ত্বরিতভাবে বাস্তবায়িত হবে। নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি হাসপাতাল অতিরিক্ত ক্যামেরা ও প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা বাড়াবে।

স্ট্রাইক চলাকালীন রোগীদের সেবা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়, বিশেষত জরুরি বিভাগে অপেক্ষার সময় বৃদ্ধি পায়। অনেক রোগীকে অন্য হাসপাতালে রেফার করা হয় বা চিকিৎসা বিলম্বিত হয়। স্ট্রাইককালে প্রায় ২০০ টিরও বেশি রোগীর চিকিৎসা বিলম্বিত হয়, যার মধ্যে জরুরি শল্যচিকিৎসা প্রয়োজনীয় রোগীও অন্তর্ভুক্ত।

ইন্টার্নরা আগামীকাল সকাল আটটায় দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ কার্যকর হওয়ার পরই কাজ শুরু করবে। প্রশাসনও রোগীর সেবা স্বাভাবিক করার জন্য অতিরিক্ত কর্মী ও সরঞ্জাম ব্যবস্থা করবে বলে জানিয়েছে। প্রশাসন একটি ত্রৈমাসিক পর্যালোচনা কমিটি গঠন করে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করবে।

এই ঘটনা স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশের গুরুত্বকে আবারও তুলে ধরেছে। ভবিষ্যতে এমন কর্মবিরতি রোধ করতে সকল স্বাস্থ্য কর্মীর নিরাপদ কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। আপনার মতামত কী, হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কীভাবে উন্নত করা যায়?

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
AI-powered স্বাস্থ্য content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments