বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু রবিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত “দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও” আন্দোলনের “জাতীয় নির্বাচন‑প্রবাসী ও ভাবনা” শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসকে বিকৃত করতে ভুয়া জরিপ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা প্রচারণা কোনো ভূমিকা রাখতে পারবে না।
দুদু বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে এক গুরুত্বপূর্ণ সংকটের মুহূর্ত পার করছে এবং আনুমানিক এক‑দুই দিনের মধ্যে নির্বাচনী প্রচারণা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। তিনি উল্লেখ করেন, গত দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে দেশের বিভিন্ন কোণে একটি পরিকল্পিত বর্ণনা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে যে, কোনো এক দল শীঘ্রই রাষ্ট্রক্ষমতায় আসবে, যদিও ঐ দল শতবর্ষেরও বেশি সময়ে তা অর্জন করতে পারেনি।
বৈঠকে চারটি স্বতন্ত্র গবেষণা প্রতিষ্ঠানের জরিপের ফলাফল তুলে ধরে দুদু ব্যাখ্যা করেন, এই জরিপগুলোতে বলা হয়েছে যে, বিএনপি ও অন্য একটি দলের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠবে, কারণ উভয় দলই আন্দোলন চালিয়ে আসছে এবং রাজপথে সক্রিয় রয়েছে। জরিপগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিএনপির ভোটশেয়ার তিন শতাংশ থেকে চুয়াল্লিশ শতাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে আসনের সংখ্যা তিনটি থেকে চল্লিশে বেড়েছে বলে অনুমান করা হয়েছে।
দুদু এই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, যদি সত্যিই বিএনপির ভোটশেয়ার চুয়াল্লিশ থেকে পঞ্চাশ শতাংশে পৌঁছায়, তবে আসনের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে চারশো ছাড়িয়ে যাবে, যা বাস্তবিকভাবে অসম্ভব। তিনি এই বিশ্লেষণকে জরিপের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রকৃতির প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করেন।
বিএনপি নেতা আরও জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের মানুষ কখনোই ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি বা সাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে জনগণ কখনো গ্রহণ করেনি এবং ভবিষ্যতেও তা গ্রহণ করবে না। এই বক্তব্যের সঙ্গে তিনি দেশের ঐতিহাসিক সংগ্রাম ও জাতীয় ঐক্যের প্রতি জনগণের দৃঢ়তা তুলে ধরেন।
গোলটেবিল বৈঠকে সংগঠনের সভাপতি কে.এম. রকিবুল ইসলাম রিপন সভার সভাপতিত্ব করেন। এছাড়া সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা আবুল কালাম, চালক দলের সভাপতি জসিম উদ্দিন কবির এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের আলোচনায় নির্বাচনের প্রস্তুতি, ভোটার সচেতনতা এবং রাজনৈতিক পরিবেশের স্বচ্ছতা নিয়ে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে মতবিনিময় হয়।
দুদু উল্লেখ করেন, আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালীন সময়ে ভুয়া তথ্য ও গুজবের বিস্তার রোধ করা জরুরি, যাতে ভোটাররা সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তিনি সকল রাজনৈতিক দলকে আহ্বান জানান, স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে সক্রিয় ভূমিকা নিতে।
বৈঠকের শেষে উপস্থিত সবাই একমত হন যে, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসকে বিকৃত করার কোনো প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হবে, কারণ জনগণের ঐতিহাসিক স্মৃতি ও জাতীয় গর্বকে অগ্রাহ্য করা সম্ভব নয়। ভবিষ্যতে নির্বাচনের ফলাফল কীভাবে গড়ে উঠবে, তা নির্ভর করবে ভোটারদের সচেতনতা, স্বচ্ছতা এবং ন্যায়বিচারের উপর।



