গত রাত্রি সিলেট নগরীর তালতলা এলাকায় একটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটায়, যার ফলে দুইজন কলেজ শিক্ষার্থী প্রাণ হারায়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তৎক্ষণাৎ উদ্ধার কাজ চালায় এবং আহতদের নিকটস্থ এম.এ.জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।
মৃতদেহের পরিচয় প্রকাশ পায় সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার রহমতপুর নোয়াগাঁও গ্রাম থেকে আসা ১৮ বছর বয়সী দীপ্ত দাস এবং চাঁদপুরের ছাতক মংলারগাঁও গ্রাম থেকে আসা ২০ বছর বয়সী ইমন দাস। ইমন দাসের মামাতো ভাইই দীপ্ত দাস, ফলে দুজনের মধ্যে পারিবারিক সম্পর্কও ছিল।
দুই তরুণই তালতলা এলাকার ভাড়া বাসায় তাদের পরিবারসহ থাকতেন। দুর্ঘটনার আগে তারা উভয়ই শিক্ষার পথে ছিলেন; দীপ্ত দাস সিলেটের ইউনিভার্সাল কলেজের একাদশ শ্রেণিতে এবং ইমন দাস সিলেটের মদনমোহন কলেজের দ্বাদশ শ্রেণিতে ভর্তি ছিলেন।
পুলিশ জানায়, গভীর রাতে দুইজন যুবক মোটরসাইকেল চালিয়ে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, উভয়ই ২২-২৩ বছর বয়সের দুই তরুণের সঙ্গে গাড়ি চালাচ্ছিল, তবে গতি ও রাস্তার অবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য এখনও সংগ্রহ করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনা ঘটার পর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে এম.এ.জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকগণ তৎক্ষণাৎ জরুরি সেবা প্রদান করেন, তবে শারীরিক ক্ষতির মাত্রা গুরুতর হওয়ায় উভয়কে মৃত ঘোষণা করা হয়।
হাসপাতালের মর্গে দুইটি মৃতদেহ রাখা হয়। কোতোয়ালী থানার ওয়ানডি মঈনুল জাকির জানান, মৃতদেহের পরিচয় নিশ্চিত করার পর পরিবারকে জানানো হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করা হবে।
ময়নাতদন্তের সিদ্ধান্তের জন্য পরিবার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় চলছে। পুলিশ তদন্তের অংশ হিসেবে দুর্ঘটনার কারণ, গতি, রোডের অবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতির টেকনিক্যাল পরীক্ষা চালাবে।
অধিকন্তু, কোতোয়ালী থানা ঘটনাস্থলে ফরেনসিক দল পাঠিয়ে প্রমাণ সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে। রাস্তায় গাড়ির চিহ্ন, ব্রেকের অবস্থা এবং সাইকেলের টায়ারের অবশিষ্টাংশ বিশ্লেষণ করে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ণয় করা হবে।
এই ঘটনার ফলে স্থানীয় শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার শোকাহত, এবং সিলেটের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও নিরাপত্তা সংক্রান্ত সচেতনতা বাড়ানোর জন্য পদক্ষেপ নিতে উদ্বুদ্ধ হয়েছে।
পুলিশের মতে, দুর্ঘটনার সম্পূর্ণ তদন্ত শেষ হয়ে ফলাফল জানানো পর্যন্ত কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। ভবিষ্যতে রাত্রিকালীন গতি সীমা ও রোড সেফটি নিয়মের কঠোর প্রয়োগের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো হবে।



