বিএনপি চেয়ারপার্সন তরিক রহমান ১৮ জানুয়ারি, ঢাকা খামারবাড়ির কেএআইবি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত একটি সভায় জানিয়েছেন যে, তৃতীয় ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের পর যদি দল সরকার গঠন করে, তবে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি বিশেষ বিভাগ গঠন করা হবে। এই বিভাগটি জুলাই ২০২৪-এ ঘটিত আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের পরিবারকে সমর্থন ও সেবা প্রদান করবে।
সভায় উপস্থিত পরিবারিক সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তরিক রহমান এই পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, পূর্বে বিএনপি সরকার যখন ক্ষমতায় ছিল, তখনই মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় গঠন করা হয়েছিল, যার কাজ ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের শহীদ ও শরণার্থীদের কল্যাণ নিশ্চিত করা।
তিনি বলেন, নতুন বিভাগটি ঐ মন্ত্রণালয়ের কাঠামোর মধ্যে থাকবে এবং এর প্রধান দায়িত্ব হবে জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা ও তাদের আত্মীয়স্বজনের জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধা ও সহায়তা নিশ্চিত করা। তরিক জোর দিয়ে বলেন, যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের ফিরে আনা সম্ভব নয়, তবে বেঁচে থাকা পরিবারগুলোর কষ্ট কমাতে সরকারী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
তরিকের মতে, জুলাই ২৪-এ যোদ্ধারা স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য লড়াই করেছেন, যা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। তাই, এই যোদ্ধাদেরকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তাদের কল্যাণে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। তিনি যোগ করেন, নতুন বিভাগটি আর্থিক সহায়তা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও পেনশনসহ বিভিন্ন সুবিধা প্রদান করবে, যাতে পরিবারগুলোকে আর্থিক ও সামাজিক দিক থেকে সমর্থন করা যায়।
সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভি এবং দলের অন্যান্য শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তারা তরিকের বক্তব্যের সঙ্গে একমত হয়ে পরিবারগুলোর সমস্যার সমাধানে সরকারের দায়িত্বকে জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন।
তরিকের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানও অনুষ্ঠানে অংশ নেন এবং উপস্থিতদের সঙ্গে সংলাপে যুক্ত হন। তিনি পরিবারগুলোর কষ্ট শোনার পর সরকারের দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান জানান।
এই ঘোষণার সময়, দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ তীব্র উত্তেজনায় রয়েছে, কারণ ২০২৪ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে। বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে, এই ধরনের সামাজিক কল্যাণমূলক পদক্ষেপ তার ভোটার ভিত্তি শক্তিশালী করতে পারে, বিশেষ করে যোদ্ধা পরিবার ও বয়স্ক মুক্তিযোদ্ধা গোষ্ঠীর মধ্যে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের অধীনে নতুন বিভাগ গঠন করা হলে, তা বিএনপির সামাজিক ন্যায়বিচার ও জাতীয় গর্বের প্রতিশ্রুতি হিসেবে দেখা হবে। একই সঙ্গে, এটি সরকারের আর্থিক বাজেটের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে, যা সংসদীয় অনুমোদন ও বাজেট বরাদ্দের প্রয়োজন হবে।
আওয়ামী লীগ সরকার এখনো তরিকের এই প্রস্তাবে কোনো সরকারি মন্তব্য করেনি, তবে পূর্বে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণের বিষয়টি সংবেদনশীল রাজনৈতিক বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। সরকারী দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হলে, নতুন বিভাগ গঠনের জন্য আইনসভার অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন প্রয়োজন হবে।
বিএনপি যদি নির্বাচনে জয়লাভ করে, তবে তরিকের ঘোষিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রথম পদক্ষেপ হবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে বিভাগটির কাঠামো নির্ধারণ করা। এরপর, সংসদে প্রয়োজনীয় বিল পাস করে বাজেট নিশ্চিত করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় বিরোধী দল ও সিভিল সোসাইটি গোষ্ঠীর নজর থাকবে।
অবশেষে, তরিকের এই প্রতিশ্রুতি রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার নতুন মাত্রা যোগ করেছে। জুলাই ২৪-এ শহীদ ও আহতদের পরিবারকে সরকারী সহায়তা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে গৃহীত এই পদক্ষেপটি, নির্বাচনের পরবর্তী পর্যায়ে বাস্তবায়নযোগ্যতা ও প্রভাবের দিক থেকে দেশের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে।



