20 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিইন্টারিম সরকার ও প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনুসের গণভোটে ‘হ্যাঁ’ সমর্থন

ইন্টারিম সরকার ও প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনুসের গণভোটে ‘হ্যাঁ’ সমর্থন

ইন্টারিম সরকার এবং প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনুস, রোববার প্রকাশিত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ১৩তম সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে সমন্বিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন। এই সমর্থনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক গোষ্ঠী ও নাগরিক সমাজের মধ্যে তীব্র বিতর্ক দেখা দিচ্ছে, তবে সরকারী দপ্তর দাবি করে যে সমালোচনা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ইন্টারিম সরকারের এই অবস্থান কোনোভাবে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতার বিরোধিতা করে না; বরং এটি সরকারের দায়িত্ব ও ম্যান্ডেটের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। সরকারী দপ্তর জোর দিয়ে বলেছে, দেশের বর্তমান সংকটের সময় নীরবতা স্বয়ং নিরপেক্ষতা নয়, বরং নেতৃত্বের অভাবের সূচক।

গণভোটের বিষয়টি জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন সংক্রান্ত, যা ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একসাথে অনুষ্ঠিত হবে। সরকারী সূত্র অনুযায়ী, এই গণভোটের ফলাফল দেশের সংবিধানিক কাঠামোতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনবে এবং তাই ইন্টারিম সরকারকে সক্রিয়ভাবে অবস্থান নিতে বলা হয়েছে।

বিরোধী গোষ্ঠী ও কিছু রাজনৈতিক দল সরকারকে সমালোচনা করে বলেছেন যে ইন্টারিম সরকারকে নিরপেক্ষ থাকা উচিত এবং কোনো পক্ষে সমর্থন করা উচিত নয়। তারা যুক্তি দেয় যে এই ধরনের সমর্থন ভোটের স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতাকে ক্ষুণ্ন করতে পারে। তবে সরকারী দপ্তর এই দাবিকে ভিত্তিহীন বলে খণ্ডন করে, উল্লেখ করে যে ইন্টারিম সরকার দীর্ঘদিনের অপশাসন, শাসনতান্ত্রিক সংকট এবং জনঅনাস্থার পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত, এবং তার মূল কাজ হল রাষ্ট্রকে স্থিতিশীল করা ও গণতান্ত্রিক বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধার করা।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ইন্টারিম সরকার শুধুমাত্র দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজ বা নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য নয়, বরং দেশের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা দূর করে একটি গ্রহণযোগ্য সংস্কার কাঠামো গড়ে তোলার দায়িত্বে রয়েছে। এই কাঠামোটি নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের আগে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর জানিয়েছে, গত আঠারো মাসে রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, পেশাজীবী এবং তরুণদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে বর্তমান সংস্কার প্যাকেজ তৈরি করা হয়েছে। তাই সরকারকে সংস্কার বিষয়ক প্রশ্নে ‘না’ বলা বাস্তবসম্মত নয়, কারণ সংস্কারই ইন্টারিম সরকারের মূল ম্যান্ডেট।

বিবৃতি অনুযায়ী, ইন্টারিম সরকার যদি গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তের মুহূর্তে নিজেকে সংস্কার থেকে দূরে রাখে, তবে তা বাস্তবিকভাবে সম্ভব নয়। আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক রীতিতে সরকারপ্রধানদের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক বা প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনের বিষয়ে নীরব থাকার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই; বরং জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজনীয় সংস্কারের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরা তাদের স্বাভাবিক দায়িত্ব।

গণতান্ত্রিক বৈধতার মূল প্রশ্নটি নেতারা অবস্থান নিলেন কি না নয়, বরং ভোটাররা সেই অবস্থান প্রত্যাখ্যান করতে স্বাধীন কি না, বিরোধী পক্ষ প্রকাশ্যে প্রচারণা চালাতে পারছে কি না, এবং পুরো প্রক্রিয়াটি কতটা স্বচ্ছ তা নিয়ে নির্ধারিত হয়। এ প্রসঙ্গে সরকারী দপ্তর জোর দিয়ে বলেছে, ভোটারদের স্বাধীনতা ও বিরোধী দলের প্রকাশ্য প্রচারণা নিশ্চিত করা গণতন্ত্রের মৌলিক শর্ত।

সারসংক্ষেপে, ইন্টারিম সরকার ও প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনুসের ‘হ্যাঁ’ সমর্থনকে সমালোচনা করা গোষ্ঠীগুলিকে সরকারী দপ্তর ভিত্তিহীন বলে খণ্ডন করেছে এবং গণভোটের সঙ্গে সংসদ নির্বাচনের সমন্বয়কে দেশের দীর্ঘমেয়াদী সংস্কার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে উপস্থাপন করেছে। ভবিষ্যতে এই গণভোটের ফলাফল ও নির্বাচনের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments