বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান গত সপ্তাহে ঢাকার কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত একটি মতবিনিময় সভায় উল্লেখ করেন, দেশের নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে “অত্যন্ত, অত্যন্ত এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ” হিসেবে বিবেচনা করা দরকার।
সভায় জুলাই ২০২৪-এ ঘটিত অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের পরিবারকে আমন্ত্রণ জানিয়ে আলোচনা করা হয়। তারেকের বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল ফ্যাসিবাদী রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে যারা গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও হতাহত হয়েছেন, তাদের লক্ষ্য ছিল স্বনির্ভর, নিরাপদ এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই লক্ষ্য অর্জনে আসন্ন নির্বাচনের ভূমিকা অপরিহার্য।
তারা উল্লেখ করেন, যদি এই নির্বাচন সফল না হয়, তবে ভবিষ্যতে দেশের মানুষকে শোক সমাবেশ ও শোক গাঁথা চালিয়ে যেতে হবে। তবে তিনি শোকের পরিবর্তে গণতন্ত্রের বিজয়ের গাঁথা রচনার আহ্বান জানান, “আসুন গণতন্ত্রকামী মানুষ আগামী বাংলাদেশে গণতন্ত্রের বিজয়ের গাঁথা রচনা করে”।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তারেকের সহধর্মিনী জুবাইদা রহমান, যিনি শহীদ পরিবারের সঙ্গে বসে তাদের কষ্ট ভাগ করে নেন। শহীদ পরিবারের সদস্যদের আবেগপ্রবণ মুহূর্তে পুরো হলের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে, যা উপস্থিত সকলকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।
তারেকের মতে, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদ বিরোধী ধারাবাহিক আন্দোলন চলেছে এবং ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনও এর ধারাবাহিকতা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাষ্ট্রের দায়িত্ব হল শহীদ ও আহতদের পরিবারকে যথাযথ সহায়তা প্রদান করা, এবং এই দায়িত্বে বিএনপি একটি দায়িত্বশীল দল হিসেবে নিজেকে অবস্থান করে।
“যদি বিএনপি সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পায়, তবে আমরা আমাদের অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি সময়মতো পূরণ করব,” তিনি উল্লেখ করেন, যা ভবিষ্যতে ভোটারদের কাছে দলের দায়িত্ববোধের বার্তা দেয়।
তারেক আরও স্পষ্ট করেন, ২৪ জুলাইয়ের আন্দোলন কোনো একক ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর নয়, বরং অধিকারহীন, গণতান্ত্রিক মানুষের সমষ্টিগত সংগ্রাম। তিনি ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামকে ২০২৪ সালের আন্দোলনের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, উভয়ই দেশের স্বাধীনতা ও জনগণের অধিকার রক্ষার লক্ষ্যে পরিচালিত হয়েছে।
বিএনপি চেয়ারম্যানের এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে, সরকারী পক্ষ থেকে কোনো সরাসরি মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অনুষ্ঠানটি শহীদ পরিবারের সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে তাদের কষ্ট শেয়ার করার এবং রাজনৈতিক দায়িত্বের পুনর্বিবেচনার একটি মঞ্চ হিসেবে কাজ করেছে।
তারেকের মন্তব্যের মূল সুর হল, দেশের নিরাপত্তা ও গণতন্ত্রের সুরক্ষায় আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে রাখা। তিনি আশাবাদী যে, সকল নারী-পুরুষ ও নাগরিকের সমন্বিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে ২০২৪ সালের আন্দোলনকে সুসংহত করা সম্ভব হবে এবং দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে স্থিতিশীল করা যাবে।
এই মতবিনিময় সভা, যা শহীদ ও আহতদের পরিবারকে কেন্দ্রীয় করে আয়োজিত, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এতে দেখা যায়, বিরোধী দলও দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে নির্বাচনের গুরুত্বকে স্বীকার করে এবং জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংলাপের মাধ্যমে তাদের উদ্বেগ ও প্রত্যাশা প্রকাশের চেষ্টা করছে।
সারসংক্ষেপে, তারেকের বক্তব্যে নির্বাচনের গুরুত্ব, শহীদ পরিবারের প্রতি দায়িত্ব, এবং গণতন্ত্রের সুরক্ষার জন্য সমন্বিত প্রচেষ্টার আহ্বান স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে, আসন্ন সংসদ নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পুনর্নির্মাণে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হতে পারে।



