মালদ্বীপের ইমিগ্রেশন বিভাগ শনিবার বাংলাদেশ হাই কমিশনার মো. নাজমুল ইসলামের সঙ্গে এক বৈঠক করে ই‑ভিসা ও নতুন মোবাইল অ্যাপের কার্যক্রমের বিবরণ শেয়ার করেছে, যা বাংলাদেশি migrant workers-কে দ্রুত ভিসা সেবা প্রদান করবে।
বৈঠকে মালদ্বীপের ইমিগ্রেশন কন্ট্রোলার জেনারেল আহমেদ ফাসীহ ই‑ভিসা সিস্টেমের বর্তমান অবস্থা ও পরিকল্পনা সম্পর্কে হাই কমিশনারকে জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, নতুন মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ভিসার অবস্থা রিয়েল‑টাইমে যাচাই করা সম্ভব হবে এবং শীঘ্রই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ই‑ভিসা ইস্যু করা হবে।
মালদ্বীপ সরকার ইতিমধ্যে ১০ নভেম্বর ই‑ভিসা সেবা চালু করেছে, তবে চূড়ান্ত চালু হওয়ার তথ্য ২৩ নভেম্বর এমএম টেলিভিশনে জানানো হয়। এই সেবা মূলত বিদেশি শ্রমিকদের জন্য, বিশেষ করে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক।
প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জের কথা স্বীকার করা হলেও, ফাসীহ জানান এই সমস্যাগুলি দ্রুত সমাধান করা হবে। ই‑ভিসা সিস্টেমের মাধ্যমে ভিসা আবেদন ও অনুমোদন প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয় হবে, ফলে কর্মীদের দীর্ঘ অপেক্ষার সময় কমে যাবে।
পূর্বে, মালদ্বীপে কাজের পারমিট পেয়ে অন‑আরাইভাল ভিসা নিয়ে প্রবেশের পর ১৫ দিনের মধ্যে কাজের ভিসা নিতে হতো। এখন বৈধ ভিসা ধারকদের নির্ধারিত ফি পরিশোধের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ই‑ভিসা রূপান্তর হবে, এবং নতুন আগত শ্রমিকদের জন্য এই ব্যবস্থা তৎক্ষণাৎ কার্যকর হবে।
মালদ্বীপের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ই‑ভিসা সিস্টেমের লক্ষ্য হল শ্রমিকদের কর্মসংস্থান প্রক্রিয়াকে সহজতর করা এবং অনধিকৃত সময়ে কাজের অনুমোদন পেতে সহায়তা করা। এই উদ্যোগকে আন্তর্জাতিক অভিবাসন নীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বৈঠকে উভয় পক্ষই বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিকদের অধিকার, মর্যাদা ও কল্যাণ রক্ষার জন্য দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন। হাই কমিশনার উল্লেখ করেন, অনেক শ্রমিক বৈধভাবে দেশে প্রবেশ করলেও প্রতিশ্রুত কাজ না পেয়ে সমস্যার সম্মুখীন হন, যা তাদের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ফেলে দেয়।
শ্রমিক শোষণ ও প্রতারণা রোধে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। হাই কমিশনারের মতে, ‘ফ্রি‑ভিসা’ নামে পরিচিত অনিয়ম বন্ধ করতে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।
একজন আন্তর্জাতিক অভিবাসন বিশ্লেষক মন্তব্য করেন, মালদ্বীপের ই‑ভিসা চালু করা দক্ষিণ এশিয়ার শ্রমিক বাজারে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন, যা অন্যান্য গন্তব্য দেশের নীতি পরিবর্তনের জন্য উদাহরণ হতে পারে।
এখন পর্যন্ত, মালদ্বীপে কাজের জন্য আসা বাংলাদেশি শ্রমিকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, এবং ই‑ভিসা সিস্টেমের মাধ্যমে তাদের ভিসা প্রক্রিয়া দ্রুততর হওয়া প্রত্যাশিত। এই পদক্ষেপটি শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে।
মালদ্বীপের ইমিগ্রেশন বিভাগ ভবিষ্যতে ই‑ভিসা সিস্টেমের পরিধি বাড়িয়ে অন্যান্য দেশের নাগরিকদের জন্যও একই সুবিধা প্রদান করার পরিকল্পনা করেছে। এতে করে গ্লোবাল মাইগ্রেশন প্রবাহে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা।
বৈঠকের পর, বাংলাদেশি হাই কমিশন এই বিষয়গুলোকে উচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং শ্রমিক কল্যাণ সংক্রান্ত নীতি প্রণয়নে সহযোগিতা বাড়াবে। উভয় দেশের সরকার একসাথে কাজ করে শ্রমিকদের নিরাপদ ও ন্যায়সঙ্গত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে চায়।



