মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফারিদা আখতার রবিবার সকালে ঢাকা সেনাপ্রাঙ্গনের বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির তৃতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তরুণদের শিক্ষার পরেও সমাজ পরিবর্তনের দায়িত্বের ওপর জোর দেন। তিনি সমাবর্তনের সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, যা রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর কর্তৃক নির্ধারিত।
সমাবর্তনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি উল্লেখ করেন, উচ্চশিক্ষা অর্জন তরুণদের শেষ লক্ষ্য নয়; দেশের বৃহৎ অংশ এখনও উচ্চশিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত, তাই শিক্ষিত তরুণদের ওপর সমাজের কাঠামো পরিবর্তনের দায়িত্ব বাড়ে।
২০২৪ সালে দেশের যুবপ্রজন্ম অবিচার ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের নতুন চিত্র উপস্থাপন করেছে, তিনি বলেন। তবে ব্যক্তিগত পরিবর্তন একা যথেষ্ট নয়; প্রকৃত পরিবর্তনের জন্য প্রতিষ্ঠানগত সংস্কার অপরিহার্য।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে পূর্বের নির্বাচনের তুলনায় ভিন্ন বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই নির্বাচনে তরুণদের ভূমিকা শুধুমাত্র সরকার গঠনেই সীমাবদ্ধ নয়, রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি ও কাঠামো নির্ধারণেও অংশ নিতে হবে।
সরকারের সংস্কার উদ্যোগের অংশ হিসেবে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের ব্যবস্থা চালু হয়েছে। সংস্কার না হলে পুরনো ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার ঝুঁকি থাকায় তিনি শান্তিপূর্ণভাবে সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের গুরুত্বের ওপরও তিনি আলোকপাত করেন। মাছ, ডিম, দুধ ও মাংস মানুষের মৌলিক পুষ্টির প্রধান উৎস হলেও এখনও সব মানুষই তা নিয়মিত পায় না।
মাংসের ঘাটতি পূরণের জন্য আমদানি করা মাংস দেশের প্রান্তিক খামারিদের ক্ষতি করে, তাই সরকার দেশীয় গবাদি পশু ও পোল্ট্রি উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা চালু করেছে।
পরিবেশগত অবক্ষয়ও মৎস্য সম্পদের ওপর বড় প্রভাব ফেলছে। নদী, খাল ও বিলের অবৈধ ভরাটের ফলে প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের প্রাপ্যতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
অবৈধ ও অতিরিক্ত আহরণ ইলিশসহ সামুদ্রিক মাছের সংখ্যা হ্রাসের প্রধান কারণ। সাম্প্রতিক জরিপে দেখা যায়, ২০১৮ সালের তুলনায় সমুদ্রে মাছের পরিমাণ প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কমে গেছে।
অক্সিজেন-নিম্ন অঞ্চল ও প্লাস্টিক দূষণ সামুদ্রিক জীবের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে পর্যটনের সময় সমুদ্রে প্লাস্টিক ও বর্জ্য ফেলা অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়।
যুবকদের স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিয়ে তিনি ধূমপান ও তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার ত্যাগের আহ্বান জানান। ধূমপান হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও স্ট্রোকের মতো অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
এইসব বিষয়ের আলোকে তিনি তরুণদেরকে নিজের শিক্ষাকে সমাজের মঙ্গলে রূপান্তরিত করার জন্য সক্রিয় ভূমিকা নিতে উৎসাহিত করেন।
প্রায়োগিক দৃষ্টিকোণ থেকে, যদি আপনি শিক্ষার পাশাপাশি সামাজিক প্রকল্পে অংশ নেন, স্থানীয় পরিবেশ পরিষ্কারে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেন, অথবা ভোটের সময় সংস্কারকে সমর্থন করেন, তবে আপনি দেশের ভবিষ্যতে সরাসরি অবদান রাখতে পারবেন।



