ভিজয় সেঠুপতি ১৬ জানুয়ারি তার জন্মদিনে নতুন ছবির শিরোনাম প্রকাশ করেন। পুড়ি জগন্নাথের পরিচালনায় তৈরি হওয়া এই চলচ্চিত্রের নাম ‘স্লাম ডগ ৩৩ টেম্পল রোড’। ছবিতে ভিজয় অন্ধ চরিত্রে অভিনয় করবেন, যা তার ক্যারিয়ারের নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখযোগ্য।
শিরোনাম প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে ভিজয়ের ভক্তদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ছবির বিষয়বস্তু ও গল্পের বিশদ এখনো প্রকাশিত হয়নি, তবে অন্ধ চরিত্রের জন্য তার প্রস্তুতি ইতিমধ্যে আলোচনায় এসেছে।
অন্ধ চরিত্রে আত্মসাৎ করতে ভিজয় বহু পুরনো ও আধুনিক চলচ্চিত্রের উদাহরণ বিশ্লেষণ করেন। তিনি অড্রি হেপবার্নের ‘ওয়েট আনটিল ডার্ক’ এবং নাসিরুদ্দিন শাহের ‘স্পর্শ’ এর মতো ক্লাসিক পারফরম্যান্স দেখেছেন। এসব কাজের মাধ্যমে তিনি অন্ধ ব্যক্তির দৃষ্টিভঙ্গি ও অভিজ্ঞতা বুঝতে চেয়েছেন।
প্রস্তুতির সময় তিনি শুধুমাত্র সিনেমা দেখেই থেমে থাকেননি; অন্ধ মানুষদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে পরিচিত হতে বিভিন্ন কর্মশালায় অংশগ্রহণের কথাও জানা যায়। এই গবেষণার মাধ্যমে তিনি অন্ধত্বের অন্ধকার জগতে নিজেকে নিমজ্জিত করার চেষ্টা করেন।
চিত্রনাট্যকার পুড়ি জগন্নাথ ভিজয়কে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অভিনয় করার পরামর্শ দেন। তবে ভিজয় নিজের গবেষণা ও অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে চরিত্রে ঢোকার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে, চরিত্রের সত্যিকারের অনুভূতি প্রকাশের জন্য গভীর জ্ঞান অপরিহার্য।
ভিজয়ের মতে, ছবির মুড বা ধরণ তার জন্য কোনো বাধা নয়। তিনি উল্লেখ করেন যে, যদি ছবিটি বাণিজ্যিক দিক থেকে ‘পটবয়লার’ হিসেবে বিবেচিত হয় তবুও তিনি একই মাত্রার মনোযোগ ও পরিশ্রম দেন। তার কাজের গুণমানকে তিনি ছবির জেনার দ্বারা সীমাবদ্ধ করতে চান না।
অধিকন্তু, তিনি পরিচালককে অতীতের রেকর্ডের ভিত্তিতে বিচার না করার অনুরোধ করেন। ভিজয় জোর দিয়ে বলেন যে, প্রতিটি প্রকল্পের নিজস্ব চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা থাকে, তাই সৃষ্টিকর্তার নতুন দৃষ্টিভঙ্গি মূল্যায়ন করা উচিত।
বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রে এমন গভীর চরিত্র গবেষণা করা শিল্পীর জন্য বিরল নয়, তবে ভিজয়ের এই প্রচেষ্টা বিশেষভাবে নজরে এসেছে। তিনি পূর্বে কমেডি ও নাটকীয় ভূমিকায় সফলতা অর্জন করেছেন, আর এখন অন্ধ চরিত্রে নিজেকে প্রমাণ করতে চান।
প্রশংসক ও সমালোচক উভয়ই ভিজয়ের এই নতুন রূপের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি যে পরিমাণ সময় ও শ্রম ব্যয় করছেন তা ছবির গুণগত মানে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
‘স্লাম ডগ ৩৩ টেম্পল রোড’ এখনো পোস্ট-প্রোডাকশনে রয়েছে, তবে ভিজয়ের প্রস্তুতি ও তার দৃঢ়সংকল্প ইতিমধ্যে চলচ্চিত্রের প্রত্যাশা বাড়িয়ে দিয়েছে। দর্শকরা এই ছবিতে তার পারফরম্যান্সের মাধ্যমে অন্ধত্বের বাস্তবতা অনুভব করার আশায় রয়েছেন।
সামগ্রিকভাবে, ভিজয় সেঠুপতির অন্ধ চরিত্রে অভিনয়ের জন্য নেওয়া গবেষণা-ভিত্তিক পদ্ধতি শিল্পের নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। তার এই উদ্যোগ চলচ্চিত্রের বাণিজ্যিক দিকের পাশাপাশি শিল্পগত মানকে সমৃদ্ধ করবে বলে আশা করা যায়।



