27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধআলীকদমে ম্রো বাগানে চুরি‑হামলা, দুই দফা আক্রমণে আটজন গুরুতর আহত

আলীকদমে ম্রো বাগানে চুরি‑হামলা, দুই দফা আক্রমণে আটজন গুরুতর আহত

বন্দরবানের আলীকদমে ম্রো সম্প্রদায়ের সৃজিত বাগানে চুরির পর দুই দফা হামলা ঘটেছে, যার ফলে আটজনের গুরুতর আঘাত এবং আরও দশজনের হালকা আঘাত হয়েছে। ঘটনাটি শনিবার সকাল ও রাত দু’বার, জানালী পাড়া ও নোয়াপাড়া কবরস্থান এলাকায় সংঘটিত হয়েছে।

আলীকদম থানার ওসি আলমগীর হোসেন শাহ জানিয়েছেন, প্রথম আক্রমণটি সকালবেলায় কলা বাগান থেকে ফসল চুরির সময় ঘটেছে। চুরির সময় ৪৫ বছর বয়সী জাফর আলমকে (যাকে স্থানীয়রা “বাইট্টা ডাকাত জাফর” বলে চেনে) গ্রামবাসীরা আটক করে, তবে তার সহচররা দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে গ্রামবাসীদের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে নেয়।

এই প্রথম হামলায় আটজন ম্রো বাসিন্দা আহত হয়, যার মধ্যে ডাংয়া ম্রো (৫২), অমর ত্রিপুরা (৫০), প্রেকিক্য ম্রো (২৭), অংসং ম্রো (৩০), কটঙং ম্রো (৫০), ঙানওয়াই ম্রো (২৭), লাংছিং ম্রো (৩০) ও মেনরু ম্রো (৪০) অন্তর্ভুক্ত। তিনজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানানো হয়েছে।

আহতদের মতে, জাফর আলমের বিরুদ্ধে ম্রোদের কলা, আনারস, হলুদসহ বিভিন্ন ফসল ও গৃহপালিত পশু চুরির দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। নোয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিনকে বহুবার জানানো সত্ত্বেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, এ কথা আহতরা উল্লেখ করেছেন।

চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিন জানান, আহতদের পক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নিতে থানার সহায়তা চাওয়া হয়েছে। তবে আহত প্রেকিক্য ম্রো ও ঙানওয়াই ম্রো উল্লেখ করেন, চুরির পর তারা লিখিত অভিযোগ দাখিল করেও কোনো ত্বরিত পদক্ষেপ পাননি; পুলিশ সন্ধ্যায় তাদের থানায় উপস্থিত হতে বলেছে।

সন্ধ্যায়, জাফর আলমের নেতৃত্বে প্রায় চল্লিশজনের একটি দল নোয়াপাড়া কবরস্থান এলাকায় ফিরে এসে গ্রামবাসীদের ওপর দ্বিতীয় আক্রমণ চালায়। এই আক্রমণে অতিরিক্ত অর্ধেকজন, অর্থাৎ ১৮ জন আহত হয়, যার মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর।

আহতদের মধ্যে টমটমে (বাঁধা) থাকা লোকজনও অন্তর্ভুক্ত, যারা আঘাতের পর দ্রুত চিকিৎসা সেবা পেতে পারছেন না বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা স্বতন্ত্র ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে, হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও আইনি ব্যবস্থা চেয়েছেন।

আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রেজিডেন্ট মেডিকেল অফিসার ডা. মো. হাসান জানান, রাতের ঘটনায় আটজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর অবস্থার তিনজনকে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে রেফার করা হয়েছে, বাকি দুইজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো কোনো গ্রেপ্তার বা তদন্তের আপডেট প্রকাশিত হয়নি। তবে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায়।

এই ঘটনার পর, স্থানীয় সমাজের মধ্যে নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ে এবং ভবিষ্যতে চুরি ও সহিংসতা প্রতিরোধে সম্প্রদায়ের সহযোগিতা ও আইনগত সহায়তার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।

বিবেচনা করা হচ্ছে যে, চুরি ও হামলার পেছনে গোষ্ঠীভিত্তিক সংগঠন বা ব্যক্তিগত স্বার্থের সম্ভাবনা রয়েছে, যা তদন্তে স্পষ্ট হবে। স্থানীয় নেতারা এবং গ্রামবাসীরা একত্রে নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের দাবি করছেন।

এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের কাছ থেকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে এমন অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায়।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments