গিনি দেশের রাজধানী কোনাক্রিতে গত শনিবার, সামরিক নেতা মামাদি ডুম্বুয়া দেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। শপথ অনুষ্ঠানে হাজার হাজার সমর্থক, পাশাপাশি রুয়ান্ডা, গাম্বিয়া, সেনেগালসহ আফ্রিকার বেশ কয়েকটি রাষ্ট্রের প্রধান ও চীন, নাইজেরিয়া, ঘানা, ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ডুম্বুয়া ২০২১ সালে গিনিতে সামরিক অভ্যুত্থান চালিয়ে ক্ষমতায় আসেন এবং চার বছর পর, ২০২৩ সালের নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হওয়ার পর, তিনি সরকারী দায়িত্ব গ্রহণের জন্য আনুষ্ঠানিক শপথ নেন। এই শপথ গিনির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সামরিক শাসনের পর নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের জন্য অনুষ্ঠিত হয়।
প্রথমে ডুম্বুয়া নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তবে শেষ পর্যন্ত আটজন প্রার্থীর মধ্যে নিজেকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নিবন্ধন করেন। প্রধান বিরোধীরা দেশ থেকে নির্বাসিত থাকায়, বিরোধী দলগুলো নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে থাকে এবং ব্যাপকভাবে বয়কটের আহ্বান জানায়। গিনির সুপ্রিম কোর্টের ঘোষণায় ডুম্বুয়া ৮৬.৭ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।
শপথ অনুষ্ঠানটি ল্যানসানা কন্টে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ডুম্বুয়া ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিধান করে সংবিধান রক্ষার শপথ নেন। শপথের সময় তিনি ঈশ্বর ও গিনির জনগণের সামনে প্রতিজ্ঞা করেন যে, সংবিধান, আইন, বিধিবিধান এবং বিচারিক সিদ্ধান্তগুলোকে সর্বোচ্চ নिष्ठা ও সততার সঙ্গে পালন করবেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত আন্তর্জাতিক নেতাদের মধ্যে রুয়ান্ডা, গাম্বিয়া ও সেনেগালের রাষ্ট্রপ্রধান, পাশাপাশি চীনের, নাইজেরিয়ার, ঘানার এবং ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও ছিলেন। মালি থেকে সামরিক অভ্যুত্থানকারী জেনারেল আসিনি গোইতাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন, যা গিনির সামরিক শাসনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিকে নির্দেশ করে।
সেপ্টেম্বর মাসে গিনির নাগরিকরা নতুন সংবিধান অনুমোদন করেন, যার মূল পরিবর্তনগুলো হল সামরিক কর্মীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমতি, প্রেসিডেন্টের মেয়াদ পাঁচ বছর থেকে সাত বছর বৃদ্ধি এবং দুই মেয়াদে সীমাবদ্ধতা বজায় রাখা। এই সংবিধানগত পরিবর্তন ডুম্বুয়ার শাসনকে দীর্ঘমেয়াদী ভিত্তি প্রদান করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
ডুম্বুয়া দাবি করেন যে, আলফা কন্ডের শাসনামলে ব্যাপক দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা গিনির জনগণের জন্য অগ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছিল, ফলে সামরিক অভ্যুত্থান অনিবার্য হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আলফা কন্ডে ২০১০ সালে গিনির প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হন এবং ২০১৫ ও ২০২০ সালে পুনরায় নির্বাচিত হন, তবে ২০২১ সালের অভ্যুত্থান তার শাসনকে শেষ করে দেয়।
বিরোধী দলগুলো নতুন সংবিধান ও শপথকে গিনির গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ক্ষতি হিসেবে দেখছে এবং ভবিষ্যতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গৃহস্থালির স্বচ্ছতা ও নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে। অন্যদিকে, সমর্থকরা ডুম্বুয়ার নেতৃত্বে দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেছে।
গিনির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন নতুন সংবিধানের কাঠামোর মধ্যে গঠিত হবে, যেখানে সামরিক ও নাগরিক শাসনের সমন্বয় কীভাবে কাজ করবে তা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে থাকবে। ডুম্বুয়ার শপথের পরবর্তী ধাপগুলোতে সরকারী নীতি বাস্তবায়ন, অর্থনৈতিক সংস্কার এবং মানবাধিকার সংরক্ষণে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা গিনির অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত সম্পর্কের উপর প্রভাব ফেলবে।
এই শপথ অনুষ্ঠান গিনির রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হবে, যেখানে সামরিক নেতৃত্বের অধীনে নির্বাচিত সরকার গঠন এবং নতুন সংবিধানিক কাঠামো গৃহীত হয়েছে। গিনির জনগণ ও আন্তর্জাতিক সমাজ উভয়ই এখন এই পরিবর্তনের ফলাফল ও দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবের দিকে নজর রাখবে।



