গতকাল চট্টগ্রাম বিভাগের বান্দরবান জেলায় আলিকদাম আপসোলে ম্রো সম্প্রদায়ের অন্তত ১৮ জন সদস্য আহত হয়েছেন, যার মধ্যে আটজনের অবস্থা গুরুতর। ঘটনাটি আলিকদাম উপজেলার ইউনিয়ন নং ৩-এর জানালি পাড়া এলাকায় ঘটেছে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানিয়েছে, আঘাতের মূল কারণ ছিল সম্প্রদায়ের সদস্যদের মধ্যে ফসল চুরি নিয়ে বিবাদ। চাষের জমি থেকে ফসল নেওয়ার অভিযোগে দুই পক্ষের মধ্যে তর্কের পর হিংসা শুরু হয়।
অফিসার‑ইন‑চার্জ আলমগীর হোসেন শাহের মতে, মূল সন্দেহভাজন জাফর আলম, ৪৫ বছর বয়সী, পূর্বে চুরি মামলায় গ্রেফতার হন এবং আদালত থেকে জামিন পেয়ে মুক্তি পান। একই ব্যক্তি ফসল চুরি করার প্রচেষ্টা করার পর জানালি পাড়ায় আক্রমণ চালায় বলে অভিযোগ।
হিংসা চালানোর সময় রোহিঙ্গা ও অন্যান্য লোকজন স্থানীয় তৈরি অস্ত্র ব্যবহার করে ম্রো বাসিন্দাদের উপর গুলি ও ছুরি চালায়। এই আক্রমণে মোট ১৮ জন আহত হয়, যার মধ্যে আটজনকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আহতদের দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসা সংস্থাগুলি জানায়, গুরুতর অবস্থায় থাকা রোগীদের তীব্র পর্যবেক্ষণ ও সাপোর্ট দরকার।
সেই দিন সকালে প্রথম আক্রমণের পর, বিকেলে আবার নায়াপাড়া কবরস্থানের কাছাকাছি আরেকটি হিংসা ঘটেছে। কিছু গ্রামবাসী পুলিশে অভিযোগ জানিয়ে বাড়ি ফেরার পথে আক্রমণের শিকার হন। এই দ্বিতীয় ঘটনার ফলে অতিরিক্ত আহতের সংখ্যা বাড়ে।
পুলিশ বর্তমানে সংশ্লিষ্ট সকল অপরাধীর গ্রেফতার অভিযান চালাচ্ছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অফিসার‑ইন‑চার্জ উল্লেখ করেন, সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কাফিল উদ্দিন ঘটনাটি সম্পর্কে জানিয়ে, আহতদের আইনি সহায়তা নিতে উৎসাহিত করেছেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের হিংসা রোধে সমন্বিত পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।
জাফর আলমের মোবাইল ফোন বর্তমানে বন্ধ অবস্থায় রয়েছে, যা তার অবস্থান ও পরিকল্পনা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহে বাধা সৃষ্টি করছে। পুলিশ এই বিষয়টি তদন্তের অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ভবিষ্যতে ফসল চুরি ও সম্পদ সংক্রান্ত বিরোধের সমাধানকে কেন্দ্র করে শান্তিপূর্ণ আলোচনা ও আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।



