বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান রবিবার ফার্মগেট‑খামারবাড়ি এলাকার কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় ২৪ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারকে রাষ্ট্রের দায়িত্বের কথা জানিয়ে দেন। তিনি উল্লেখ করেন, পূর্বে বিএনপি শাসনকালে গঠিত “মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়”ই ১৯৭১ সালের মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে সমর্থন করত, এবং এখন সরকার গঠনের সম্ভাবনা থাকলে একই মন্ত্রণালয়ের অধীনে নতুন একটি বিভাগ গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, অন্যান্য শীর্ষ নেতারা এবং তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান। সকল অংশগ্রহণকারী একত্রে শহীদ পরিবার ও আহতদের বর্তমান কষ্টের কথা শেয়ার করেন এবং সরকারী সহায়তার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
তারেক রহমান জোর দিয়ে বলেন, হারিয়ে যাওয়া মুক্তিযোদ্ধা ও ২৪ জুলাইয়ের যোদ্ধাদের স্মৃতি ফিরিয়ে আনা সম্ভব না, তবে তাদের বেঁচে থাকা পরিবারকে যথাযথ সুবিধা ও সমর্থন প্রদান করা উচিত। তিনি উল্লেখ করেন, মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এই পরিবারগুলোকে আর্থিক, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাগত সহায়তা প্রদান করা যাবে, কারণ তারা সকলেই দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় অবদান রেখেছেন।
স্বাধীনতা ১৯৭১ সালে অর্জিত হয়েছিল, আর ২০২৪ সালে ২৪ জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার নতুন লড়াই হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তাই মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের নতুন বিভাগটি এই দুই প্রজন্মের যোদ্ধা ও তাদের পরিবারকে একসাথে সমর্থন করার লক্ষ্য রাখবে।
তারেক রহমান আরও উল্লেখ করেন, গত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ, হত্যা বা অপহরণ হয়েছে। তিনি বহু পরিবারকে সরাসরি সাক্ষাৎ করে তাদের কষ্ট ও ক্ষতি সম্পর্কে জানেন। বিশেষ করে ২৪ জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে ১৪,০০০েরও বেশি মানুষ শহীদ হয়েছেন এবং প্রায় ৩০,০০০ জন আহত হয়েছেন, যা দেশের জন্য এক বিশাল মানবিক দুঃখের পরিমাণ।
বিএনপি নেতারা এই পরিস্থিতিতে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে শহীদ পরিবার ও আহতদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা যায়। তারা আশা প্রকাশ করেন, যদি আগামী দিনে বিএনপি সরকার গঠন করে, তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে এবং দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় ত্যাগ স্বীকার করা সকলের কষ্ট কমবে।
এই মতবিনিময় সভা রাজনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি সরকারের দায়িত্ব ও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি স্পষ্ট করে। ভবিষ্যতে যদি বিএনপি সরকার গঠন করে, তবে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের নতুন বিভাগ গঠন ও শহীদ পরিবারকে সমর্থন করার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হতে পারে, যা দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।



