সায়েন্স ল্যাব মোড়ের ফুটপাতের কোণায় জিহাদ আরমান (২৪) ও তার সাথী রাতুল হাসান (২৩) স্কুটার চালিয়ে নিউমার্কেটের পথে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। জিহাদের মাথায় হেলমেট ছিল, কিন্তু রাতুলের মাথা খালি। দুজনই থেমে ফুটপাতের ছোট দোকান থেকে মাত্র একশ টাকায় কালো রঙের হেলমেট কিনে নিলেন।
মোহাম্মদ বাচ্চু মিয়া (৪২), যিনি এই বিক্রয়স্থল পরিচালনা করেন, জানান যে তিনি ঢাকার প্রথম রাস্তার হেলমেট বিক্রেতা এবং রঙিন হেলমেটগুলো ফুটপাতের গুঁড়িতে সাজিয়ে রাখেন। তার কাছে ১০০ টাকার সস্তা হেলমেট থেকে দুই হাজার টাকার মাঝারি মানের হেলমেট পর্যন্ত বিভিন্ন মডেল পাওয়া যায়। প্রতিদিন প্রায় চল্লিশ থেকে পঞ্চাশটি হেলমেট বিক্রি হয় এবং বিক্রয় সময় সকাল ১১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলে।
বাচ্চু মিয়া বলছেন, হেলমেটগুলো মূলত চীন ও ভারতের বিভিন্ন কারখানা থেকে সরবরাহ করা হয়। তিনি আগে কাপড়ের ব্যবসা করতেন, তবে কোভিড-১৯ মহামারির সময় বড় ক্ষতির মুখে পড়ে নতুন ব্যবসা শুরু করেন। “ব্যবসায় ক্ষতি ভোগের পর আমি এমন কিছু করতে চেয়েছি যা মানুষের উপকারে আসবে এবং আমার ক্ষতি না হয়,” তিনি বলেন।
ঢাকার সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮‑এর ধারা ৪৯‑এর উপধারা ১‑এর প্রথম অংশে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, মোটরসাইকেলে চালকের পাশাপাশি সর্বোচ্চ একজন সহযাত্রীই থাকতে পারে এবং চালক ও সহযাত্রীর দুজনেরই হেলমেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক। এই বিধি লঙ্ঘন করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় এবং ট্রাফিক পুলিশ মামলা দায়ের করতে পারে।
জিহাদ আরমানের দুটি হেলমেটের মধ্যে একটিতে সাম্প্রতিক সময়ে চুরি হয়েছে। তিনি জানান, “ভালো হেলমেট রাখা কখনো কখনো ঝামেলা হয়, দামি হেলমেট চুরি হয়। পাঁচ মিনিটের জন্য রেখে গিয়েছিলাম, ফিরে এসে দেখলাম না। সস্তা হেলমেটের ক্ষেত্রে এ ধরনের ভয় কম,” এভাবে তিনি সস্তা হেলমেটের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
হেলমেটের দাম সস্তা হলেও তার সুরক্ষা ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। কিছু রাইডার কেবল আইনি দায় থেকে বাঁচতে হেলমেট কিনে, আবার অন্যরা কম দামের কারণে কেনেন। তবে সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, সস্তা হেলমেটের গুণগত মান আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড পূরণ না করতে পারে, ফলে দুর্ঘটনায় মাথার আঘাতের ঝুঁকি বাড়ে।
ট্রাফিক পুলিশ হেলমেট না পরা বা অতিরিক্ত যাত্রী বহনের ক্ষেত্রে নিয়মিত চেক চালিয়ে থাকে। লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জরিমানা এবং মামলা দায়েরের পাশাপাশি, রাইডারদেরকে নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করার জন্য হেলমেটের মান নিশ্চিত করা জরুরি। বর্তমানে কোনো নির্দিষ্ট মামলা বা তদন্তের তথ্য প্রকাশিত হয়নি, তবে আইন অনুসারে ট্রাফিক পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারে।
ঢাকার সড়কে মোটরসাইকেল যাত্রীসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হেলমেটের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। সস্তা হেলমেটের বাজারে বিক্রয় বাড়লেও, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারী ও বেসরকারি সংস্থার সমন্বয়ে গুণগত মানের হেলমেটের সরবরাহ বাড়ানো প্রয়োজন।
সড়ক নিরাপত্তা আইন মেনে চলা, হেলমেটের সঠিক ব্যবহার এবং মানসম্পন্ন পণ্য নির্বাচন রাইডার ও পথচারীর সুরক্ষার মূল চাবিকাঠি। ভবিষ্যতে হেলমেটের গুণগত মান নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি এবং সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন চালিয়ে যাওয়া উচিত, যাতে সস্তা হেলমেটের ঝুঁকি কমে এবং সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস পায়।



