ঢাকা, ১৮ জানুয়ারি – জামায়াতে ইসলামী দলের আমীর ড. শাফিকুর রহমানের নেতৃত্বে চারজনের একটি প্রতিনিধিদল আজ সন্ধ্যা ৬:৩০ টায় রাষ্ট্রিক গেস্ট হাউস জামুনায় চিফ অ্যাডভাইজার প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনুসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে। এই সাক্ষাৎকারের মূল উদ্দেশ্য উভয় পক্ষের রাজনৈতিক মতবিনিময় এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা।
প্রতিনিধিদলে অন্তর্ভুক্ত আছেন নায়েব-এ-আমীর এবং প্রাক্তন আইনসভা সদস্য ড. সৈয়দ Abdullah Md. তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল ও প্রাক্তন সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পারওয়ার, এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। প্রত্যেকের রাজনৈতিক পটভূমি এবং পূর্ববর্তী দায়িত্ব দলীয় নীতির গঠন ও বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
সাক্ষাৎটি জামুনা গেস্ট হাউসে অনুষ্ঠিত হবে, যা সরকারী অতিথি গ্রহণের জন্য নির্ধারিত একটি ঐতিহাসিক ভবন। সন্ধ্যা ৬:৩০ টায় নির্ধারিত সময়ে উভয় দলের প্রতিনিধিরা একে অপরকে স্বাগত জানিয়ে আলোচনার সূচনা করবে। এই সময়সূচি পূর্বে নির্ধারিত এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার অধীনে সম্পন্ন হবে।
প্রায় এক সপ্তাহ আগে, ১৫ জানুয়ারি, বিএনপি চেয়ারম্যান তারিক রহমান, তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান এবং কন্যা জাইমা রহমান জামুনা গেস্ট হাউসে ইউনুসের সঙ্গে সৌজন্যপূর্ণ সাক্ষাৎ করেন। সেই সাক্ষাতে উভয় পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সংলাপের ইচ্ছা প্রকাশ পায়। এই পূর্ববর্তী সাক্ষাৎকারের পরিপ্রেক্ষিতে আজকের জামায়াতে ইসলামী দলের প্রতিনিধিদলের সফরকে রাজনৈতিক সংলাপের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনুস, যিনি দেশের সর্বোচ্চ আর্থিক পুরস্কার নোবেল শান্তি পুরস্কারধারী এবং বর্তমান চিফ অ্যাডভাইজার, দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় সাধন করেন। তার সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপ দেশের নীতি নির্ধারণে বহুমুখী দৃষ্টিভঙ্গি আনতে সহায়ক হতে পারে।
জামায়াতে ইসলামী, যা দেশের অন্যতম প্রধান ধর্মীয়-রাজনৈতিক দল, তার নীতি ও কার্যক্রমে ধর্মীয় মূল্যবোধকে কেন্দ্রীয় স্থান দিয়েছে। দলের নেতৃত্বে ড. শাফিকুর রহমানের নেতৃত্বে এই সংলাপের মাধ্যমে দলটি দেশের সামগ্রিক নীতি গঠনে তার অবস্থান স্পষ্ট করতে চায়। একই সঙ্গে, ইউনুসের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সমন্বিত পদক্ষেপের সম্ভাবনা অনুসন্ধান করা হবে।
সাক্ষাৎকারে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়গুলো, যেমন দারিদ্র্য নির্মূল, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন, এবং দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করার প্রত্যাশা প্রকাশ করেছে। যদিও নির্দিষ্ট এজেন্ডা প্রকাশ করা হয়নি, তবে পূর্ববর্তী বৈঠকের ভিত্তিতে এই বিষয়গুলোই আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে।
এই সাক্ষাৎটি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ এটি বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে সরাসরি সংলাপের উদাহরণ দেয়। ভবিষ্যতে উভয় পক্ষের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সমন্বয় এবং নীতি সমন্বয়ের সম্ভাবনা উন্মুক্ত রয়েছে। সাক্ষাৎকারের পর ফলাফল ও পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে আরও তথ্য প্রকাশিত হলে তা দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



