27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধগুয়াতেমালার তিনটি কারাগারে বন্দি দখল, ৪৬ জনকে জিম্মি

গুয়াতেমালার তিনটি কারাগারে বন্দি দখল, ৪৬ জনকে জিম্মি

গুয়াতেমালার দক্ষিণে অবস্থিত তিনটি কারাগারে শনিবার সন্ধ্যায় বন্দিরা আয়ত্ত করে দাঙ্গা শুরু করে, এবং অন্তত চুয়াল্লিশ জনকে জিম্মি করে। দখল করা কারাগুলোতে টাওয়ার ও উঁচু অংশগুলো বন্দিরা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, জিম্মিদের মধ্যে বেশিরভাগই কারারক্ষী, আর একজন মনোবিজ্ঞানীও অন্তর্ভুক্ত। জিম্মিদের কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি এবং শিকারদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে। জিম্মি করা বন্দিদের সংখ্যা এবং তাদের পরিচয় সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য এখনও সংগ্রহ করা হচ্ছে।

গুয়াতেমালার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মারকো অ্যান্টোনিও ভিলেদা শনিবারের ব্রিফিংয়ে উল্লেখ করেন, দাঙ্গার জন্য গ্যাং সদস্যদের দায়ী করা হয়েছে। তিনি জানান, দাঙ্গা পরিকল্পিতভাবে ‘ব্যারিও ১৮’ গ্যাংয়ের নেতৃত্বে ঘটেছে এবং গ্যাংটি উন্নত পরিবেশ ও বিশেষ সুবিধা পাওয়ার দাবি করে অন্য কারাগারে স্থানান্তরের চেষ্টা করছে।

ভিলেদা আরও জানান, নিরাপত্তা বাহিনী দাঙ্গা দমন ও জিম্মিদের মুক্তির জন্য বিশেষ অপারেশন চালু করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, কোনো হতাহতের খবর না থাকলেও, নিরাপত্তা কর্মীরা দ্রুত পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার জন্য কাজ করছে।

‘ব্যারিও ১৮’ গ্যাংটি দেশের সর্ববৃহৎ অপরাধী গোষ্ঠীর একটি এবং পূর্বে বহুবার কারাগারের ভিতরে অপরাধী নেটওয়ার্ক চালু করার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছে। গ্যাংটি বিশেষ সুবিধা ও পরিবেশের জন্য অন্য কারাগারে স্থানান্তরের দাবি করে, যা এই দাঙ্গার মূল কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

গত কয়েক মাসে সরকার কারাগারের ভিতরে গ্যাংগুলোর প্রভাব কমাতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ‘রেনোভাশন ১’ নামে উচ্চ-নিরাপত্তা সম্পন্ন কারাগারে ব্যারিও ১৮ ও মারা সালভাত্রুচা গ্যাংয়ের নেতাদের স্থানান্তর করা হয়েছে, যাতে তারা বাহ্যিক অপরাধ জগতের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ রোধ করা যায়।

অক্টোবর ২০২৫-এ ফ্রাইজানেস‑২ কারাগার থেকে ব্যারিও ১৮ গ্যাংয়ের বিশজন শীর্ষ নেতা পালিয়ে যাওয়ার পর, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদত্যাগ করেন। তার পরবর্তীতে মারকো অ্যান্টোনিও ভিলেদা দায়িত্ব গ্রহণ করে গ্যাং নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর নীতি প্রয়োগ করেন।

ভিলেদা উল্লেখ করেন, গ্যাং নেতাদের বিশেষ সুবিধা বাতিল করার জন্য মন্ত্রণালয় যে পদক্ষেপ নিয়েছে, সেটিই এই দাঙ্গার সরাসরি প্রতিক্রিয়া। তিনি জোর দিয়ে বলেন, গ্যাংগুলোর অবৈধ চাহিদা আর সহ্য করা হবে না এবং আইনগত ব্যবস্থা ত্বরান্বিত করা হবে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও গুয়াতেমালা উভয় দেশই ব্যারিও ১৮ গ্যাংকে ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। এই তালিকাভুক্তি গ্যাংয়ের আর্থিক ও লজিস্টিক সমর্থনকে কঠোরভাবে সীমাবদ্ধ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

দাঙ্গা ঘটার পর থেকে নিরাপত্তা বিভাগ দায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্ত দল গঠন করেছে, যা দখল, জিম্মি ও গ্যাংয়ের ভূমিকা সম্পর্কে বিশদ প্রতিবেদন প্রস্তুত করবে। সংশ্লিষ্ট গ্যাং সদস্যদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক মামলা দায়ের করা হবে এবং জিম্মিদের মুক্তির পর যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া চালু হবে।

অধিকন্তু, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের বিবৃতি অনুযায়ী, দাঙ্গা দমন ও জিম্মি মুক্তির পরপরই গ্যাং নেতাদের বিরুদ্ধে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরোপ করা হবে। ভবিষ্যতে গ্যাংগুলোর কারাগারের ভিতরে প্রভাব কমাতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বিধি ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments